প্রসেসর কি বাংলা বা প্রসেসর কাকে বলে? প্রসেসর এর কাজ কি?

প্রসেসর কি বাংলা বা প্রসেসর কাকে বলে? 

কম্পিউটারের অন্যতম প্রধান হার্ডওয়্যার হলো প্রসেসর। মূলত একে সিপিইউ (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) বলে। প্রসেসর কম্পিউটারের ইলেকট্রনিকস ডিভাইস গুলোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্ট।  মূলত প্রসেসর একটি সয়ংসম্পন্ন এবং প্রোগ্রামেবল গানিতিক ইঞ্জিন যা নির্দেশনা অনুযায়ী কম্পিউটারের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও সম্পাদন করে থাকে। অর্থাৎ আমরা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহারের সময় ইনপুট ডিভাইস এর মাধ্যমে যে নির্দেশনা প্রদান করি প্রসেসর সেগুলো সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এর মাধ্যমে ডাটা বা উপাত্ত প্রসেস করে ডিসপ্লেতে ফলাফল প্রদর্শন করে। প্রসেসর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রসেসর হলো Intel এবং AMD. তবে আমাদের দেশে ইন্টেল প্রসেসর এর জনপ্রিয়তা অন্য কোম্পানির প্রসেসর এর তুলনায় একটু বেশি।

প্রসেসর কি
প্রসেসর কি

প্রসেসর কি দিয়ে তৈরি?

আজকের দিনে সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তি হলো এই প্রসেসর। আবিষ্কারের পর থেকে এর উন্নয়ন হয়েছে অকল্পনীয় গতিতে। মজার বিষয় হলো প্রসেসরের উন্নয়নে প্রসেসরেরই সাহায্য নেওয়া হয়। তাই বলা যায় প্রতিনিয়ত প্রসেসর নিজেই নিজেকে উন্নত করে গড়ে তুলছে। প্রসেসর  তৈরি অসংখ্য ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) দিয়ে। আর আইসিগুলো তৈরি হয় ট্রানজিস্টার (Transistor) দিয়ে। এই সব বিদ্যমান থাকে একটি ক্ষুদ্র চিপ (Chip) এর মধ্যে। অর্থাৎ প্রসেসর তৈরির হয় অসংখ্য সিলিকন দিয়ে ছোট আকারের চিপ দিয়ে যা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তার কার্যকলাপ সম্পাদন করার জন্য ডিভাইসগুলির অভ্যন্তরে স্থাপন করা হয়। এর গতি পরিমাপ করা হয় মেগাহের্টজ এর শর্তাবলী এর মাধ্যমে। প্রসেসরে আইসির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বাড়লেও চিপ এর আকার ক্রমান্বয়ে ছোট হয়ে আসছে। তবে আকার ছোট হলেও এর কাজ করার ক্ষমতা বেড়েই চলেছে। ইন্টেল কোম্পানী সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালে মাইকো্রপ্রসেসর উদ্ভাবন করে। যার নাম দেওয়া হয়েছিল ইন্টেল ৪০০৪ প্রসেসর। এই প্রসেসরটির উদভাবক ছিলেন “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেড হফ, স্ট্যান মেজর, ফেডরিকো ফ্যাগিন এবং জাপানের মাসাতোশি শিমা”।

আমরা আগেই জেনেছি জন্মের পর থেকেই প্রসেসরের ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। একটা উদাহরণ দিলেই বিষয়টি আপনাদের কাছে স্পষ্ট হবে। ৪০০৪ মাইকোপ্রসেসরে ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ছিল ২৩০০ টি আর বর্তমানের কোর আই সেভেন প্রসেসরের ট্রানজিস্টরের সংখ্যা ২২৭,০০,০০,০০০ টি ! যা দ্বারা ভবিষ্যতের কথা কল্পনা করা যায়!  

প্রসেসর এর প্রকারভেদ বা প্রসেসর কত প্রকার ও কি কি?

  • Single Core Processor – সিঙ্গেল কোর প্রসেসর। 
  • Dual Core Processor – ডুয়েল কোর প্রসেসর। 
  • Quad Core Processor – কোয়ার্ড কোর প্রসেসর। 
  • Octa Core Processor – অক্টা কোর প্রসেসর

সিঙ্গেল কোর প্রসেসর কি

সিঙ্গেল কোর প্রসেসর সাধারণত ট্র্যাডিশনাল কম্পিউটারে ব্যাবহার করা হত। এই  প্রসেসরগুলো  একই সময়ে, শুধুমাত্র একটি কাজ করতে পারতো। একটির বেশি কাজ একসাথে করতে গেলে, কম্পিউটার হ্যাং হয়ে যেত। এই টাইপের প্রসেসর আজকের দিনে নেই বললেই চলে। 

ডুয়েল কোর প্রসেসর কি

এই প্রসেসর একই সময়ে, একই সাথে দুটি কাজ করতে পারে বলে একে ডুয়েল কোর প্রসেসর বলে।  এই টাইপের প্রসেসরকে আলাদা আলাদা দুটি core এ বিভক্ত করা হয় যাতে local cache এবং controller সিস্টেম আলাদা হয়। ফফলশ্রুতিতে Dual Core Processor, একসাথে দুটি কাজ খুবই অল্প সময়ে সম্পন্ন করে।

কোয়ার্ড কোর প্রসেসর কি

এই ধরনের প্রসেসর চারটি কোর এ বিভক্ত থাকায় একই সময়ে একই সাথে ৪টি কাজ করতে সক্ষম বিধায় একে কোয়ার্ড কোর প্রসেসর বলে। যদি পাচ নম্বর কাজের কোন তথ্য আসে তাহলে যে কোরটির কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে সেই কোরটি অটোমেটিক্যালি কাজটি করা করা শুরু করে। 

অক্টাকোর প্রসেসর কি

অক্টাকোর প্রসেসর হলো আটটি প্রসেসর বিশিষ্ট। আটটি প্রসেসর কে ২টি অংশে ভাগ করা হয়। একটি অংশ থাকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অন্যটি থাকে কম ক্ষমতা সম্পন্ন। এই প্রসেসরগুলো একই সাথে একই সময়ে আটটির বেশি কাজ করতে সক্ষম। এই প্রসেসরগুলি মাল্টি আর্কিটেকচার এর সাহায্যে ডিজাইন করা হয়েছে। এই প্রসেসর গুলো মূলত মোবাইলে ব্যবহার করা হয় কারণ মোবাইলে একসাথে অনেক কাজ করা হয়। 

প্রসেসরের কাজ কি

প্রসেসর এর মূল কাজ হলো ইউজার কর্তৃক ইনপুটকৃত কমান্ড প্রক্রিয়া করে আউটপুট প্রদান করা অর্থ্যাৎ কোনো ডিভাইস যখন নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে সেই কাজের ফলাফল কে  আউটপুট বলা হয়। আর যে কোনো ডিভাইস এর সঠিক আউটপুট প্রদান করাই হলো প্রসেসর এর কাজ। আউটপুট এর কারনেই মূলত আমরা আমাদের ডিভাইস কে নিজের মতো করে ব্যবহার করতে সক্ষম হই। 

প্রসেসর সাধারণত চারটি ভাগে বিভক্ত। এবং এগুলিকে আলাদা আলাদা প্রসেসিং Core হিসাবে ভাগ করা হয়।

উপসংহার:

বর্তমানে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল, ওয়াশিং মেশিন ইত্যাদি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসে প্রসেসর এর গুরুত্ব অপরিসীম। যে ডিভাইসের প্রসেসর যত উন্নত সেই ডিভাইস তত দ্রুত কাজ করতে পারে। আশা করি আজ আপনি প্রসেসর কি, প্রসেসর এর প্রকারভেদ,  প্রসেসর এর কাজ কি এই সকল বিষয় সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন। যদি এই পোষ্ট সম্পর্কে আরও কিছু জানার থাকে, তাহলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন:

Leave a Comment