ফরজ গোসলের নিয়ম ও নিয়ত

ফরজ গোসলের নিয়ম এবং নিয়ত কীভাবে করতে হবে এ বিষয়গুলো নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্টে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবো। গোসল ফরজ হলে আমরা যদি গোসল না করি, তবে কোনো ইবাদত কবুল হবে না এবং পাশাপাশি আমাদের অনেক গুনাহ হবে। তাই, ফরজ গোসলের নিয়ম জেনে রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

একজন মুসলিমের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হলে অবশ্যই আমাদের পাক-পবিত্র থাকতে হবে। গোসল ফরজ হলে ফরজ গোসল করতে হয়। তবেই আমরা পবিত্রতা অর্জন করতে পারবো। তো চলুন, কীভাবে ফরজ গোসল করতে হবে এবং ফরজ গোসল করার নিয়ত সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক।

ফরজ গোসলের নিয়ম
ফরজ গোসলের নিয়ম

গোসল ফরজ হওয়ার কারণ

মূলত পাঁচটি কারণে গোসল ফরজ হয়। গোসল ফরজ হওয়ার পর গোসল না করলে গুনাহ হয়। এছাড়া, গোসল ফরজ হয়েছে কিন্তু গোসল করা হয়নি, এমতাবস্থায় কোনো ইবাদত করা হলে ইবাদত কবুল হবে না। গোসল ফরজ হওয়ার কারণগুলো হচ্ছে –

  • স্বামী-স্ত্রী সহবাস করলে কিংবা পুরুষের স্বপ্নদোষ হলে।
  • নারীদের ঋতুস্রাব অথবা পিরিয়ড হলে।
  • সন্তান প্রসবের পর রক্তপাত বন্ধ হলে।
  • মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের জন্য।
  • কোনো অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে।

উপরে উল্লিখিত কারণে যদি আপনার গোসল ফরজ হয়, তবে ফরজ গোসল করতে হবে। নয়তো আপনার করা কোনো ইবাদত কবুল হবে না এবং গুনাহ হতেই থাকবে। অনেকেই সারাজীবন ফরজ গোসল করার নিয়ম না জানার কারণে নাপাক অবস্থায় ছিলেন এমন নজির রয়েছে। তাই, অবশ্যই গোসল করতে হবে যদি গোসল ফরজ হওয়ার কোনো কারণ আপনার সঙ্গে মিলে যায়।

আরও পড়ুন – গোসলের ফরজ কয়টি ও কি কি

ফরজ গোসল নিয়ে সূরা আন-নিসা তে বর্ণিত হয়েছে –

হে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা নেশায় মত্ত অবস্থায় সালাতের কাছেও যেও না যতক্ষণ না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার; আর অপবিত্র অবস্থায় নয় যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর, তবে মুসাফির অবস্থার কথা স্বতন্ত্র। আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ প্রস্রাব-পায়খানা থেকে এসে থাকে অথবা তোমরা স্ত্রী সহবাস করে থাক এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নাও- মাসেহ করবে স্বীয় মুখমন্ডল ও হাত। নিশ্চয় আল্লাহ্ হলেন অতিশয় মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল। (সূরাহ্ আন-নিসা ৪/৪৩)

ফরজ গোসলের নিয়ত

গোসল যদি ফরজ হয়ে যায়, তবে ফরজ গোসল করা আবশ্যক। ফরজ গোসল করার পূর্বে আমাদের নিয়ত করতে হবে। ফরজ গোসল করার জন্য আমরা আরবি এবং বাংলা উভয় ভাষাতেই নিয়ত করতে পারি। নিচে ফরজ গোসলের নিয়ত উল্লেখ করে দিলাম।

বাংলা উচ্চারণঃ “নাওয়াইতুল গুছলা লিরাফইল জানাবাতি।”

অর্থঃ “আমি নাপাকি থেকে পাক হওয়ার জন্য গোসল করছি।”

পাক-পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করছি এই নিয়ত করলেই হবে। মনে মনে ইচ্ছে করা বা সংকল্প করাই হচ্ছে নিয়ত। গোসল করার পূর্বে শুধু এটুকু মনে মনে সংকল্প করতে হবে যে আমি পাক পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করছি। নিয়ত করার পর বিসমিল্লাহ্‌ বলে ফরজ গোসল শুরু করতে হবে। নিচে ফরজ গোসলের নিয়ম উল্লেখ করে দিলাম।

ফরজ গোসলের নিয়ম

ফরজ গোসল করার পূর্বে অবশ্যই আমাদের জানতে হবে গোসলের ফরজ কি কি। গোসলের ফরজ অনুসরণ করে ফরজ গোসল করতে হবে। গোসল করার সময় যদি কোনো একটি ফরজ মিস যায়, তবে গোসল হবে না। নিচে গোসলের ফরজ কয়টি ও কি কি তা উল্লেখ করে দিয়েছি।

গোসলের ফরজ তিনটি। এগুলো হচ্ছে –

  • কুলি করা
  • নাকের ভিতর পানি দেয়া
  • পুরো শরীর ধৌত করা

উপরোক্ত এই তিনটি ফরজ না মেনে গোসল করা হলে সেটি উত্তমরূপে গোসল করা হবে না এবং গোসল না হলে আমরা অপবিত্র রয়ে যাবো। পবিত্র হওয়ার লক্ষে গোসল করার পর যদি আমরা অপবিত্রই রয়ে যাই, তবে আমাদের ইবাদত কবুল হওয়ার পরিবর্তে গুনাহ হবে। তাই, গোসলের ফরজ মেনেই গোসল করতে হবে।

আরও পড়ুন – গোসল ফরজ হওয়ার কারণ

ফরজ গোসল করার বিস্তারিত নিয়ম

ফরজ গোসল করার জন্য প্রথমেই ফরজ গোসলের নিয়ত করতে হবে। মনে মনে পাক-পবিত্র হওয়ার জন্য নিয়ত করতে হবে। এরপর, বিসমিল্লাহ্‌ বলে গোসল শুরু করতে হবে। বিসমিল্লাহ্‌ বলে প্রথমেই দুই হাতের কব্জি অব্দি অব্দি ৩ বার করে ধৌত করতে হবে। এরপর, বাম হাত দিয়ে শরীরের কোনো স্থান যদি অপবিত্র থাকে, সেই স্থান পরিষ্কার করতে হবে।

শরীরের কোন জায়গায় বীর্য বা নাপাকি লেগে থাকলে সেটাও ধৌত করতে হবে এবং বাম হাত ধৌত করতে হবে। এরপর, বাম হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। অতঃপর, বিসমিল্লাহ্‌ বলে ওজু শুরু করতে হবে। ডান হাত এবং বাম হাতের কব্জি অব্দি ৩ বার করে ধুতে হবে। এরপর, মুখের ভিতর পানি নিয়ে গড়গড়া করে কুলি করতে হবে ৩ বার। অতঃপর, নাকের নরম অংশ অব্দি পানি দিয়ে ধৌত করতে হবে ৩ বার। পুরো মুখমন্ডল পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে ৩ বার।

এরপর, হাতের কনুই অব্দি ৩ বার করে পরিষ্কার করতে হবে ডান হাত এবং বাম হাত। অতঃপর, মাথার তিনভাগের এক ভাগ মাসাহ করতে হবে। এরপর, দুই পায়ের টাখনু অব্দি ৩ বার করে পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। তাহলে ওজু হয়ে যাবে। তবে, আপনি যদি এমন জায়গায় গোসল করেন যেখানে পানি জমে থাকবে, সেক্ষেত্রে দুই পা গোসল শেষে ধৌত করলেও হবে। অর্থাৎ, মাথা মাসাহ করার পর গোসল শুরু করতে হবে। গোসল শেষে দুই পা ৩ বার করে ধৌত করতে হবে।

আরও পড়ুন – ওযু কি? ওযুর ফরজ কয়টি ও কি কি

ওজু করা শেষে মাথায় তিন বার পানি ঢালতে হবে। মাথায় পানি ঢেলে খিলাল করে মাথা পরিষ্কার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, মাথার কোনো অংশ যেন শুকনো না থাকে। এরপর, ডান কাধে এবং বাম কাধে পানি ঢালতে হবে। যথাক্রমে পুরো শরীরে পানি ঢেলে উত্তমরূপে পরিষ্কার করতে হবে যেন শরীরের কোনো অংশ এমনকি কোনো লোম অব্দি যেন শুকনা না থাকে।

ফরজ গোসল করার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, পুরুষের দাড়ি ও মাথার চুল এবং মহিলাদের চুল ভালোভাবে ভিজাতে হবে।

এভাবে করে অনেক সহজ নিয়মে ফরজ গোসল করতে পারবেন।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ফরজ গোসলের নিয়ম এবং ফরজ গোসলের নিয়ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করছি, পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়েছেন। এতক্ষণে আপনার নিশ্চয়ই জানা হয়ে গেছে কীভাবে ফরজ গোসল করতে হয়। আরও এমন ইসলামিক তথ্য জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আল্লাহ্‌ হাফেয।