ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ২০২৩

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা– বর্তমানে ডায়াবেটিস একটি অতি পরিচিত রোগ। এই রোগ সারা বিশ্বব্যাপি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে আমাদের দেশে এমন কোন পরিবার পাওয়া যাবে না যে সেখানে একজনও ডায়াবেটিস রোগী নাই। ডায়াবেটিস একটি অসংক্রামক রোগ হওয়া সত্ত্বেও সারা বিশ্বব্যাপি এই রোগ মহামারী রুপে ছড়িয়ে পড়ছে।

এই রোগ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও সিস্টেমকে আক্রান্ত করে তাই এই রোগের নিয়ন্ত্রণ, সঠিক সময়ে রোগ নির্নয় ও সঠিক চিকিৎসাগ্রহণ একান্ত অপরিহার্য। বলা বাহুল্য ডায়াবেটিস রোগীর  তিনটি “ডি” মেনে চলা জরুরি, প্রথমত ডায়েট বা পরিমিত খাবার, ড্রাগ বা ঔষধ এবং ডিসিপ্লিন বা নিয়মানুবর্তিতা। 

প্রিয় পাঠক আমাদের আজকের পোস্টের মাধ্যমে আমরা জানব ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিত সেই সম্পর্কে- 

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ২০২৩

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিস একটি সম্পূর্ণ অনিরাময়যোগ্য রোগ। এই রোগে একবার আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণরুপে সুস্থ হওয়া সম্ভব নয় তবে কিছু নিয়ম মেনে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে আপনি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অনেক উপায় রয়েছে, যেমন: নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং ব্যায়াম করলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে যদি আপনি আপনার খাদ্য নিয়ন্ত্রণ না করেন। তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন খাবার থাকা উচিত যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং তা হতে হবে পরিমান মতো। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এমন কিছু খাবার সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

খেজুর 

খেজুরের মিষ্টি স্বাদের কারণে অনেকেই মনে করেন ডায়াবেটিস রোগীদের এগুলো খাওয়া উচিত নয়। তবে এই ধারণা সঠিক নয়। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই সহায়ক। আঙ্গুর, কমলা এবং ফুলকপির চেয়ে খেজুর শরীরকে বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন ৫/৬টি খেজুর খাওয়া উচিত যা শরীরে শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ হিসেবেও কাজ করবে।

তিসি

তিসি একধরনের বীজ যার ইংলিশ নাম ফ্লেক্সসিড। আমরা এটাকে তিসি হিসেবেই চিনে থাকি। তিসিবীজ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অতি কল্যাণময় একটি খাবার। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য এই বীজ খুবই কার্যকর। তিসি বীজ ফাইবার, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডের দারুন উৎস। প্রতিদিনের খাবার তালিকায় তিসি রাখতে পারেন। এটা রক্তে চিনির মাত্রা কমায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য হেল্প করে। তিসিবীজ গুঁড়া করে প্রতিদিন দুই গ্লাস পানিতে তিন চা চামচ মিশিয়ে পান করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন – 300+ বন্ধুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা

দুধ

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি’-এর ভালো উৎস দুধ। আর সেজন্য দুধ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য অতিমাত্রায় কল্যাণময় খাবার। অনেকের দুধ খেলে পেটে গ্যাস হয়, এই কারণে আপনি চাইলে দুধের ফ্যাটি অংশটি ছাড়া টক দই ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবারও খেতে পারেন। সকালের নাস্তাও আপনি রাখতে পারেন দুধ অথবা দুগ্ধজাত কোনো খাবার।

তুলসী

ঔষধি গুন সমৃদ্ধ তুলসীকে বলা হয় ডায়াবেটিস রোগের ইনসুলিন । গবেষণায় জানা গেছে, তুলসীপাতা বিভিন্নভাবে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। খালি পেটে তুলসীপাতার রস পান করলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। চাইলে তুলসীর রস আপনি চায়ের সাথে মিশিয়েও খেতে পারেন।

মটরশুঁটি

হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে মটরশুঁটি। মটরশুঁটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। দৈনিক ২০০ গ্রামের মতো মটরশুঁটি খেলে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমে যায়। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় মটরশুঁটি। যদি না থাকে তবে যখন মটরশুঁটির মওসুম, তখন বেশি করে ক্রয় করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। তারপর সারা বছর খাদ্য তালিকায় রাখুন এই সবজি। তেলাকুচা পাতা এবং ফল সবজির মতো খান। মেথি চূর্ণ করেও খেতে পারেন।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা ফল

ফলের ভয় ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে কাজ করে। বেশির ভাগ ফলেই মিষ্টির পরিমাণ বেশি, তাই অনেক ডায়াবেটিস রোগী ফল খেতে ভয় পান। কিছু ফল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। কিছু মিষ্টি ফল ও ডায়াবেটিসে খাওয়া যেতে পারে। কিছু ফল আছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরের ক্ষতি করবে না বরং উপকার বয়ে আনবে।
এই ফলগুলি প্রদাহ কমানো থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধেও লড়াই করে। এর প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেলের উপস্থিতিও স্বাস্থ্যের সুবিধা দেবে। নিচে ৭টি ফল নিয়ে আলোচনা করা হলো যা ডায়াবেটিস রোগীরা খেতে পারবে অনায়াসে।

আপেল

আপেলের মিষ্টি স্বাদ আপনার ডায়াবেটিসে কোনো ক্ষতি না করে বরং এর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মঙ্গলময় হিসেবে কাজ করবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, আপেল পরিমিত মাত্রায় খেলে তা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাথে যুদ্ধ করে ডায়াবেটিসের মাত্রা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অ্যাভোকেডো

বাজারে আজকাল অনেক বৈদেশিক ফল দেখা যায় অ্যাভোকাডো তার মধ্যে অন্যতম। এটা স্বাস্থ্যকর চর্বি তার সাথে ২০টিরও অধিক ভিটামিন ও খনিজের ১টি অসাধারণ উৎস। এতে ফাইবারের পরিমাণও বহু থাকে এবং এটা ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমাতে সহযোগিতা করে।

পেঁপে

পেঁপে ডায়াবেটিস রোগীদের হিতকর করে থাকে। এটি প্রাকৃতিক কারণে পুষ্ট আর এটি কোষের ক্ষতির সম্ভাবনা কমায়। এতে ফ্লাভোনয়েডের মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বেরি জাতীয় ফল

বিভিন্ন বেরি জাতীয় ফল আপনার মিষ্ট খাদ্য খাওয়ার ইচ্ছে পূরনের পাশাপাশি ডায়াবেটিসেরও উপকার করে থাকে। এ জন্য আপনি ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরি বা স্ট্রবেরি বেছে নিতে পারেন। কারণ এ ফলগুলোর সবটাতেই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন তার সাথে ফাইবার উন্নত শক্তিতে ভরপুর।

কামরাঙা

এই ফলটি ফাইবার ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। আর এটি প্রদাহবিরোধী প্রক্রিয়াগুলোকেও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং কোষের ক্ষতি মেরামত করতে সাহায্য করে। একারণে এ ফলটি আপনি খেতে পারেন ডায়াবেটিসেও।

নাশপাতি

নাশপাতি পুষ্টি পুষ্ট এবং প্রদাহের বিপক্ষে লড়াই এবং হজমের উন্নতিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সাথে নাশপাতি টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সহযোগিতা করে।

কমলা

কমলা একটি ফাইবার সমৃদ্ধ ফল আর এটা রক্তে শর্করার শোষণকে ধীর করতেও সহযোগিতা করে। এতে থাকা ভিটামিন সি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া কমলায় ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফাইবারের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি পাওয়ার হাউস।

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয় বিস্তারিত জেনে নিন

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা pdf

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা pdf

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কি- কেন হয়- ডায়াবেটিস কত হলে মানুষ মারা যায়

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা বই

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা বই

ডায়াবেটিস রোগীর নিষিদ্ধ খাবার তালিকা

ডায়াবেটিস হলে যে খাবারগুলো খাওয়া যাবে না সেগুলো হলো চিনি, মিষ্টি, গুড়, জ্যাম, মধু, জেলি, মিষ্টি, পানীয়, মদ, দুধের সর, আইসক্রিম, কেক, মিষ্টি বিস্কুট, মিষ্টি দই, পেস্ট্রি,ডালডা  ইত্যাদি। এছাড়া ডায়াবেটিস হলে চর্বিযুক্ত খাবার গুলো ও খাওয়া যাবেনা, যেমনঃ গলদা চিংড়ি, মগজ, কলিজা, মাংস ভাজা, পাকা কলা, খেজুর, কিসমিস, আখের রস, আঙ্গুর ফল ইত্যাদি ডায়াবেটিস রোগীদের এই খাবার গুলো খেতে একদম নিষেধ করা হয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা নিয়ে শেষ কথা

বন্ধুরা আজকের পোষ্টে আমরা আলোচনা করেছি ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা নিয়ে। আশা করছি ডায়াবেটিস রোগীরা কোন কোন খাবার খেতে পারবেন আর কোন কোন খাবার গুলো খেতে পারবেন না সেই বিষয়ে বিস্তারিত ধারনা পেয়েছেন। ডায়াবেটিস একটি অনিরাময় যোগ্য রোগ। তাই নিয়মান্ত্রিক জীবন যাপনের পাশাপাশি সঠিক নিয়মে খাবার গ্রহনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সামর্থ হবেন।