আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সমূহ কী কী জেনে নিন

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি আজওয়া খুরমা খাবে ওই দিন রাত পর্যন্ত কোনো বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করবে না।’ মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে খেজুর পছন্দ করতেন। তিনি ৭টি খেজুর দিয়ে সকালের নাস্তা করতেন। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সবাকেই খেজুর এবং পানি দিয়ে ইফতার করতে বলেছেন।

মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিজোড় সংখ্যক খেজুর খেয়ে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতেন। খেজুরে রয়েছে অনেক ভিটামিন, ক্যালসিয়াম এবং আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় শর্করা। খেজুর প্রতিনিয়ত খেলে আমাদের দেহের অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান এতে পাওয়া যায় এবং শরীর থাকে সর্বদা কর্মঠ এবং সবল। যেকোনো ধরণের রোগ থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য খেজুর অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আজওয়া খেজুরের উপকারিতা কী কী সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক।

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা
আজওয়া খেজুরের উপকারিতা

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সমন্ধে হাদিসে অনেক তথ্য আছে। এছাড়াও, পবিত্র কুরআন শরিফে ২৬ বার খেজুরের কথা এসেছে। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা বৃক্ষ-তরুলতার বিবরণ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘আমি জমিনে উৎপন্ন করেছি শস্য-আঙুর, শাক-সবজি, জয়তুন ও খেজুর বৃক্ষ।’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ২৭)

আবারও বলা হয়েছে, ‘খেজুর ও আঙুর থেকে তোমরা সাকার ও উত্তম খাদ্য তৈরি করো। নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য এতে নিদর্শন আছে।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ৬৭)

আজওয়া খেজুর সমন্ধে মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,  ‘খোদ জান্নাত থেকে আজওয়া খেজুর এসেছে।’ (তিরমিজি)

আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে আরও অনেক হাদিস রয়েছে। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা খেজুর সম্পর্কে পবিত্র কুরআন এ বলেছেন। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পছন্দের খাবার ছিলো খেজুর। খেজুর সম্পর্কিত কিছু হাদিস নিম্নে উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে।

আজওয়া খেজুরের হাদিস

হজরত সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি তাঁর হাত আমার বুকের ওপর রাখেন। আমি তাঁর শীতলতা আমার হৃদয়ে অনুভব করি। এরপর তিনি বলেন, ‘তুমি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত। কাজেই তুমি সাকিফ গোত্রের অধিবাসী হারিসা ইবনে কালদার কাছে যাও। কেননা, সে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। আর সে যেন মদিনার আজওয়া খেজুরের সাতটা খেজুর নিয়ে বিচিসহ চূর্ণ করে তা দিয়ে তোমার জন্য সাতটি বড়ি তৈরি করে দেয়।’ (আবু দাউদ: ৩৮৩৫) 

এই হাদিস পড়লে আপনি উপলদ্ধি করতে পারবেন যে, আজওয়া খেজুরের মাঝে রোগ প্রতিরোধ করা এবং প্রতিকার করার ক্ষমতা রয়েছে। স্বয়ং নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে রোগ প্রতিরোধ করার জন্য আজওয়া খেজুর দিয়ে ঔষধ বানিয়ে দেয়ার কথা বলেছেন।

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেন, ‘সকালে সবার আগে (খালি পেটে) (মদিনার) উঁচু ভূমির আজওয়া খেজুর খেলে তা (সর্বপ্রকার) জাদু অথবা বিষক্রিয়ার আরোগ্য হিসেবে কাজ করে।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৫৯২) এখানে উঁচু ভূমি বলতে বোঝানো হয়েছে মদিনার পূর্ব দিকের কয়েক মাইল দূরের কয়েকটি গ্রাম।

যেকোনো ধরণের জাদু-টোনা, বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আজওয়া খেজুর অনেক উপকারী। আজওয়া খেজুরের মাঝে যেসব উপাদান রয়েছে, তা আমাদের দেহের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আলি (রা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর প্রতিদিন আহার করে, তার পাকস্থলীর প্রতিটি রোগ নির্মূল হয়ে যায়।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৮৪৭২; অনেকে বর্ণনাটি দুর্বল বলেছেন।)

আজওয়া খেজুর সম্পর্কে চিকিৎসকদের মতামত

চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত খেজুর খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। খেজুর বিষক্রিয়া প্রতিরোধ করতে সক্ষম। ভেজানো খেজুর খেলে বিষক্রিয়ায় অনেক দ্রুত কাজ করে। খাবার হজম করতে এবং যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খেজুর অনেক উপকারী। সব ধরণের রোগ থেকে বেঁচে থাকার জন্য এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে প্রতিদিন ৩টি থেকে ৭টি খেজুর খাওয়া উত্তম। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিদিন ৭টি করে খেজুর খেতেন।

আমাদের বয়স ৩০ পেড়িয়ে গেলে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যায় এবং হাড় ক্ষয় হওয়া শুরু করে। এখন থেকে নিয়মিত খেজুর খেলে দৃষ্টিশক্তি বয়স ৩০ পেড়িয়ে গেলেও আগের মতোই থাকবে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করবে। কারণ, খেজুরে রয়েছে বি১, বি২, বি৩ এবং বি৫, ভিটামিন এ১ ও সিসহ সব ধরণের ভিটামিন। যা আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন – খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

এছাড়াও, খেজুরে রয়েছে ক্যালসিয়াম। আমাদের শরীরের হাড় গঠন করতে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে ক্যালসিয়াম এর ভুমিকা অনেক। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা আমাদের দেহের সব হাড়কে মজবুত রাখতে এবং হাড়ের ক্ষয় রোধ করতে ভুমিকা রাখে। প্রতিনিয়ত খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করলে আমাদের দেহের হাড়ের ক্ষয় হবে না এবং প্রবীণ বয়সেও আমরা সবল থাকতে পারবো।

আজওয়া খেজুর হচ্ছে জান্নাতি ফল। যা আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে বলেছেন। আজওয়া খেজুরের উপকারিতা রয়েছে অনেক। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে মানুষ সহজেই যেকোনো রোগে আক্রান্ত হবে না এবং সর্বদা সুঠাম ও সবল থাকতে পারবে। এজন্য, আজওয়া খেজুর অনেক উপকারী ভুমিকা পালন করে থাকে।

আমাদের দেশে আজওয়া খেজুরের চাষ হয় না। কিন্তু, আপনি যদি খেজুরের দোকানে খোঁজ করেন, তবে আজওয়া খেজুর পেয়ে যাবেন। আজওয়া খেজুর মূলত সৌদি আরব তথা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বেশি হতে দেখা যায়। জান্নাতি ফল খেতে পারলে তা আমাদের দেহের জন্য কত উপকারী হবে তা বলে বুঝানো সম্ভব না। খেজুরের উপকারিতা সমন্ধে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক উপকারিতা বর্ণনা করা আছে এবং আজওয়া খেজুর ও সাধারণ খেজুর সম্পর্কেও পবিত্র কুরআন ও হাদিসে বলা আছে।

মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা খেজুরের উপকারিতার কথা বলেছেনে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন। অনেক সাহাবীগণ আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সম্পর্কে বলেছেন যে, এই খেজুর খেলে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিপাকে অনেক সাহায্য করবে।

আজওয়া খেজুরের অপকারিতা

আজওয়া খেজুর একটি জান্নাতি ফল। তাই, এই ফলের তেমন কোনো অপকারিতা নেই বলাই চলে। তবে, আজওয়া খেজুর কিংবা সাধারণ কোনো খেজুর খেতে হবে পরিমাণমতো এবং নিয়মিত। একদিনে প্রচুর পরিমাণে খেজুর খেলে তা আমাদের দেহের জন্য কোনো ভুমিকা রাখবে না এবং এতে করে বিভিন্ন রোগ ও পেটের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

উপরে উল্লিখিত আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সবগুলোই আপনি পাবেন যদি নিয়মিত খেজুর খাওয়ার অভ্যাস করেন।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আজওয়া খেজুরের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। অনেকেই খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান। এই ব্লগটি আপনাদের কাছে অনেক সহায়ক হবে বলে ধারণা করছি। এমন হেলথ টিপস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

Leave a Comment