আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত, নিয়ম এবং নিয়ত

আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত অনেকেই জানেন না। আবার, অনেকেই আছেন, যারা আওয়াবিন নামাজের নিয়ত কীভাবে করতে হয় সেটিও জানেন না। আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আওয়াবিন নামাজের নিয়ম এবং আওয়াবিন নামাজের নিয়ত কীভাবে করতে হবে এসব বিষয়ে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

শুধু ফরজ ইবাদত করলে হবে না, সঙ্গে সুন্নত ইবাদত এবং নফল ইবাদত করতে হবে। শুধু ফরজ ইবাদত দিয়ে আমরা জান্নাতে যেতে পারবো না যদি মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা রহমত না করেন। পাশাপাশি সুন্নত ইবাদত প্রয়োজন হবে। এতে করে আমরা জান্নাতে যাওয়ার জন্য মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুপারিশ পাবো। ফরজ এবং সুন্নত ইবাদতের ঘাটতি মেটাতে নফল ইবাদত অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তাই, কোনো ইবাদতকে ছোট করে দেখা যাবে না। ফরজ নামাজ, সুন্নত নামাজ এবং নফল নামাজ আদায় করতে হবে। আজকে আলোচনা করবো আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত এবং এই নামাজের ফজিলত নিয়ে। তো চলুন, শুরু করা যাক।

আওয়াবিন নামাজ কী

আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত
আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত

মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর যে নফল নামাজ আদায় করা হয় সেটি হচ্ছে আওয়াবিন এর নামাজ। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মাগরিবের ফরজ এবং সুন্নত নামাজ আদায় করার পর আওয়াবিন এর নামাজ আদায় করতেন। আওয়াবিন এর নামাজ সম্পর্কে অনেক হাদিস বর্নিত হয়েছে। নিম্নে আওয়াবিন এর নামাজের ফজিলত এবং কিছু হাদিস উল্লেখ করে দিলাম।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নামাজি ব্যক্তি যে নামাজ আদায় করে তাই হচ্ছে সালাতুল আওয়াবিন (অর্থাৎ আল্লাহমুখি বান্দাদের নামাজ)।’ (জামেউস সাগির : ২/৪২৭)।

হজরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘মাগরিবের নামাজের পর যে ব্যক্তি ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়বে তার গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।’ (মাজমাউজজাওয়াইদ : ৩৩৮০)।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাজের পর এ নামাজ পড়বে তার মর্যাদা জান্নাতের উঁচু স্থানে হবে।’ (ইতহাফুস সাদাহ : ৩/৩৭১)।

আওয়াবিন নামাজের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আরও বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পরে ছয় রাকাত নফল আদায় করে, মাঝখানে কোনো দুনিয়াবি কথা না বলে, তার জন্য সেটা ১২ বছরের ইবাদতের সমান গণ্য হবে।’ (তিরমিজি : ১/৫৫৯)।

আম্মাজান হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মাগরিবের পর বিশ রাকাত নফল নামাজ পড়বে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করবেন।’
(তিরমিজি : ১/৯৮)

আওয়াবিন নামাজ কত রাকাত

আওয়াবিন এর নামাজ ২ রাকাত করে ২০ রাকাত অব্দি আদায় করা যায়। তবে, ২ রাকাত করে মোট ৬ রাকাত নামাজ আদায় করা উত্তম। মাগরিবের ফরজ এবং সুন্নত নামাজ আদায় করার পর ২ রাকাত করে মোট ২০ রাকাত অব্দি নফল নামাজ আদায় করা যায়। আপনি যদি মাগরিবের নামাজের পর আওয়াবিন এর নামাজ আদায় করতে চান, তবে ২ রাকাতের নিয়ত করে ২ রাকাত করে ২০ রাকাত অব্দি আদায় করতে পারবেন।

তবে, ২ রাকাত করে মোট ৬ রাকাত আওয়াবিন এর নামাজ আদায় করা উত্তম।

আওয়াবিন নামাজের নিয়ত

আওয়াবিন নামাজ হচ্ছে নফল নামাজ। এই নামাজ আদায় করতেই হবে এমন কোনো সহিহ হাদিস নেই। অনেকের মাঝেই এই নামাজ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। অনেক মাওলানা এই নামাজ আদায় করাকে বিদ’আত বলেছেন। তবে, আমরা যদি নফল নামাজ হিসেবে মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর এই নামাজ আদায় করি, তবে তা সহিহ হিসেবে গন্য হবে।

আওয়াবিন এর নামাজ যেহেতু নফল নামাজ। তাই, আমরা নফল নামাজের নিয়ত করে নামাজ আদায় করতে পারি। প্রতিবার ২ রাকাত করে নামাজ আদায় করার নিয়ত করে নামাজ আদায় করতে হবে। নিচে এই নামাজ আদায় করার নিয়ত উল্লেখ করে দিলাম।

  • আমি কিবলামুখি হয়ে আল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম। আল্লাহু আকবার।

উপরোক্ত নিয়ত অনুসরণ করে আওয়াবিন এর নামাজ আদায় করতে পারেন। এখন চলুন, আওয়াবিন এর নামাজ আদায় আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আওয়াবিন নামাজের নিয়ম

আওয়াবিন এর ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করার জন্য জায়নামাজে দাঁড়িয়ে নিয়ত করতে হবে। এরপর, সানা, সূরা ফাতিহা এবং অন্য সূরা পড়ে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে গিয়ে সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম পড়তে হবে বিজোড় বার। এরপর, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা পড়ে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং রাব্বানা লাকাল হামদ পড়তে হবে।

অতঃপর, আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতে হবে। সিজদায় গিয়ে সুবহানা রাব্বিয়াল আলা পড়তে হবে বিজোড় বার। উঠে বসে আবারও সিজদা করতে হবে একই ভাবে। এরপর উঠে দাঁড়াতে হবে এবং প্রথম রাকাতের মতো করে সূরা ফাতিহা, অন্য সূরা পরে আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে গিয়ে সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম পড়তে হবে বিজোড় বার। এরপর, সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা পড়ে উঠে দাঁড়াতে হবে এবং রাব্বানা লাকাল হামদ পড়তে হবে।

অতঃপর, আল্লাহু আকবার বলে সিজদায় যেতে হবে। সিজদায় গিয়ে সুবহানা রাব্বিয়াল আলা পড়তে হবে বিজোড় বার। উঠে বসে আবারও সিজদা করতে হবে একই ভাবে। দুইবার সিজদা করার পর শেষ বৈঠকে বসে তাশাহুদ, দরুদ শরিফ এবং দোয়া মাছুরা পড়তে হবে। অতঃপর, সালাম ফিরিয়ে নামাজ আদায় সম্পন্ন করতে হবে।

অন্যান্য নামাজের মতো করেই আওয়াবিন এর নফল নামাজ আদায় করতে হবে। প্রতি রাকাত নামাজে সূরা ফাতিহা পড়তে হবে এবং সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য সূরা মিলাতে হবে। এছাড়া, নামাজ আদায় করার আগে অবশ্যই নফল নামাজের নিয়ত করে নিতে হবে। এভাবে করে, ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হবে। ২ রাকাত করে মোট ২০ রাকাত অব্দি নামাজ আদায় করা যাবে। তবে, ২ রাকাত করে নামাজ আদায় করে মোট ৬ রাকাত অব্দি নামাজ আদায় করা উত্তম।

আমাদের শেষ কথা

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আওয়াবিন এর নামাজ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। অনেকের মতে আওয়াবিন এর নামাজ আদায় করা বিদ’আত। বিদ’আত সাপেক্ষে কিছু প্রমাণ স্বরূপ এনটিভি একটি পোস্ট করেছে। সেটি পড়তে পারেন। তবে, আপনি চাইলে মাগরিবের নামাজ আদায় করার পর এশার নামাজ শুরুর আগে ২ রাকাত করে যত রাকাত ইচ্ছে নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। যেহেতু আওয়াবিন এর নামাজের পক্ষে শক্ত কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি। তাই, এই নামাজ আদায় করতেই হবে এমন কোনো প্রমাণ নেই।