থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না জেনে নিন সঠিক তথ্য

প্রিয় পাঠক আপনি কি থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না এই সম্পর্কে জানতে চান? তাহলে আপনি সঠিক জায়গায় এসেছেন। কেননা আজকের পোষ্টে আমরা বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করব থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না এই বিষয়ে। যদি আপনি এই বিষয়ে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন তাহলে আজকের পোষ্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালোভাবে পড়ুন। আশা করি বিষয়টি ভালোভাবে জানতে পারবেন।

থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না জেনে নিন সঠিক তথ্য
থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না জেনে নিন সঠিক তথ্য

থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না

আজকের পোষ্টটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণ অবিবাহিত, বিবাহিত কিংবা বাচ্চা নেওয়ার চেষ্টা করতেছেন এমন নারীরা অনেক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকেন কারণ তারা থাইরয়েড হরমোন জনিত রোগে আক্রান্ত। তাদের দুঃচিন্তার কোন শেষ নেই।  তাদের মনে বার বার একটা  প্রশ্নই জাগে থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না? এক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো ঘাবড়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া যে সমস্যাই হোক না কেন বর্তমান সময়ে এর চিকিৎসা খুব সহজেই করা যায়। থাইরয়েড হরমোন জনিত রোগের পরীক্ষা, ওষুধ, ডাক্তার এবং চিকিৎসা সবকিছুই আমাদের দেশে যথেষ্ট রয়েছে। 

থাইরয়েড হরমোনের প্রভাব রয়েছে নারীর জীবনে বিস্তর ও ব্যপক। বিশেষ করে সন্তান ধারণ ও প্রসবের সময় এর প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। অনেকে মনে করেন থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা থাকলে সন্তান হবেই না বা সন্তান নেয়া যাবে না কিন্তু এই ধারণা সঠিক নয়। তবে গর্ভধারণ বা সন্তান প্রেগন্যান্সির সময় বিশেষ সতর্কতা আবলম্বন করতে হবে। নয়তো গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, অকালে সন্তান প্রসব, বৃদ্ধি প্রতিবন্ধী সন্তান প্রসবের ঝুঁকি থেকে যায়। 

আমরা জানি থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা দুই ধরনের একটি হলো হাইপো থাইরয়েড এবং অন্যটি হাইপার থাইরয়েড। হাইপোথাইরয়েড হলো যাদের শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম।  এই ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে ডিম্বাণু গঠন ও পরিপক্কতার সমস্যার কারণে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।

তাই সঠিকভাবে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ না করে গর্ভধারণ করলে নানা ধরনের জটিলতা হতে পারে। তাই যাদের হাইপোথাইরয়েডিজম আছে তারা অবশ্যই টিএসএইচ এর মাত্রা স্বাভাবিক করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পিত সন্তান নিতে হবে। কেউ অজান্তে ও অপ্রস্তুত অবস্থায় গর্ভধারণ করে ফেললে যতদিন না টেস্ট করতে পারেন ততদিন সপ্তাহে দুদিন থাইরক্সিনের ডাবল ডোজ খেতে পারেন। তবে যত দ্রুত সম্ভব টেস্ট করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়। 

পুরা প্রেগনেন্সিতে দেড় থেকে দুই মাস অন্তর অন্তর টেস্ট করবেন এবং হরমোনের মাত্রা নিরাপদ রাখতে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরক্সিনের ডোজ সমন্বয় করবেন। সন্তান প্রসবের সময়  অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। সন্তান প্রসবের পর আবার থাইরয়েড টেস্ট করে থাইরক্সিন ডোজ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। ভূমিষ্ঠ শিশুরও থাইরয়েড হরমোন টেস্ট করাতে হবে। এই তো গেল হাইপো থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা জনিত নারীদের গর্ভধারণ কালীন সময়ে বিবেচ্য বিষয়। এখন জানব হাইপার থাইরয়েড হরমোনে আক্রান্ত নারীদের বিষয়ে।

যে সকল নারীর রক্তে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেশি অর্থাৎ যারা হাইপারথাইরয়েড তাদের ডিম্বাণু উৎপাদন ও মাসিক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে বলে সাধারণত গর্ভধারণ হয় না কিন্তু চিকিৎসা গ্রহণের পর ডিম্বাণু উৎপাদন শুরু হলে হঠাৎ করেই গর্ভধারণ হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় যারা হাইপারথাইরয়েডিজমের জন্য কার্বিমাজোল বা মেথিমাজোল জাতীয় ওষুধ সেবন করেন তাদের ওষুধ সেবনকালে সন্তান গ্রহন না করতে  পরামর্শ দেয়া হয়।  এই কোর্স চলাকালীন সময়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। তারপরও কেউ দুর্ঘটনাবশত গর্ভধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসককে অবহিত  করত পরীক্ষা করতে হবে। সেক্ষেত্রে পিটিইউ জাতীয় ওষুধে পরিবর্তন করতে হবে কিন্তু সেটার ও নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে বিশেষ করে মায়ের যকৃতে সমস্যা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। 

আরও পড়ুনঃ  থাইরয়েড টেস্ট কি? থাইরয়েড টেস্ট কিভাবে করে?  থাইরয়েড টেস্ট খরচ কত

হাইপারথাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রে গগর্ভকালীন সময়ে  রেডিও আয়োডিন থেরাপি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। পোস্ট পারটাম থাইরয়েডাইটিস ৫-১০ শতাংশ নারী সন্তান প্রসবের ৬-১২ মাসের ভিতর থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ রোগে ভুগতে পারেন। এই সমস্যা হলে গলার থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ব্যথা করা, জ্বর জ্বর ভাব ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। প্রথম দিকে হাইপারথাইরয়েডের মতো উপসর্গ (বুক ধড়ফড়, গরম লাগা, অস্থিরতা, ঘাম, ওজন হ্রাস) আর পরেরদিকে আবার হাইপোথাইরয়েডের মতো উপসর্গ ( শীত লাগা, শুষ্ক ত্বক, চুলপড়া, ওজন বৃদ্ধি, ধীর ও অবসন্নতা, ক্লান্তি) দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা করা হলেও হাইপোথাইরয়েডিজম চলমান থাকলে থাইরক্সিন লাগতে পারে। যাদের এই প্রদাহ আছে তারা পরে ভালো হয়ে গেলেও সন্তান নেয়ার আগে অবশ্যই টেস্ট করে নেবেন। 

থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না পোস্টের উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট সমূহ

> যাদের থাইরয়েডের কোন সমস্যা আছে কিনা জানা নেই তাদেরও সন্তান নেয়ার আগে একবার নিয়মিত টেস্ট হিসেবে থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করা উচিত। বর্তমানে প্রি-কনসেপশন প্রস্তুতি হিসেবে সকল নারীর থাইরয়েড ফাংশন টেস্ট করতে বলা হচ্ছে।

> যাদের থাইরয়েডের সমস্যা আছে বা ছিল তাদের অবশ্যই অপরিকল্পিত গর্ভধারণ যাতে না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।  সন্তান নেয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

> গর্ভকালীন সময়ে TSH এর মাত্রা বার বার টেস্ট করে ওষুধের ডোজ ঠিক করে নিতে হবে এবং টিএসএইচ নিরাপদ মাত্রায় (২.৫ মিলিইউনটি/লিটার) এর নিচে রাখতে হবে। 

> থাইরয়েডের রোগ থাকলে সন্তান প্রসব অবশ্যই বিশেষায়িত হাসপাতালে করাতে হবে এবং প্রসবের পর শিশুকে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করতে হবে। একটা কথা বলতে চাই যে কোন রোগেই শুরুতে সচেতন হলে ভাল থাকা যায় সবসময়।

শেষ কথা 

সন্মানিত পাঠকবর্গ আজকের পোস্টে আপনারা নিশ্চয় জানতে পেরেছেন যে থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না বিষয়টি নিয়ে। উপরের লেখনির মাধ্যমে চেষ্টা করেছি থাইরয়েড হলে কি বাচ্চা হয় না সম্পর্কে সবকিছু আপনাদের সামনে তুলে ধরার।  আশা করি বিষয় টি ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। সম্পুর্ণ পোস্ট পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ সেই সাথে পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। এছাড়া থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা নিয়ে অন্য কোন বিষয় জানতে চাইলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ধন্যবাদ।  ভালো থাকবেন। 

Leave a Comment