তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় এবং কি দোয়া?

রমজান মাস রহমতের মাস, রমজান মাস মাগফিরাতের মাস, রমজান মাস নাজাতের মাস। এই মাসে আমরা আল্লাহর কাছে থেকে আমাদের জীবনের পূর্বের সকল গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারি। এজন্য অবশ্যই আমাদের ভালো করে ইবাদত করতে হবে। ইবাদত যেন সহিহ হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। রমজান মাসের একটি বিশেষ আমল হচ্ছে তারাবির নামাজ পড়া। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন, তার সাহাবীগণ তারাবির নামাজ আদায় করেছেন। তাই, আমাদের উচিত এই তারাবির নামাজ সহিহ ভাবে আদায় করা।

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয়?

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয়
তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয়

তারাবির নামাজ পড়ার সময় আমাদের একটি দোয়া পড়তে হয়। এই দোয়াটি আমাদের প্রতি ৪রাকাত নামাজ পড়ার পর একটু অপেক্ষা করে পড়তে হয়। আপনি তারাবির নামাজ পড়লে লক্ষ্য করবেন, প্রতি ৪রাকাত নামাজ পড়া শেষে ইমাম সাহেব কিছুক্ষন অপেক্ষা করেন। এ সময় অনেকেই একটি দোয়া পড়েন। কেউ কেউ আবার কিছু তসবি পড়েন। কেউ পড়েন ইস্তেগফার। আপনি চাইলে প্রতি ৪ রাকাত তারাবির নামাজ পড়ার পর দোয়াটি পড়তে পারেন। কিংবা যেকোনো তসবি অথবা ইস্তেগফার পড়তে পারেন।

তারাবির নামাজ এর ৪রাকাত পর যে দোয়া সকলেই পড়ে থাকে, এটি না পড়লে যে তারাবির নামাজ আদায় হবে না এ ধারণা ভুল। আপনি যদি এ দোয়া পড়েন তবু আপনার তারাবির নামাজ আদায় হবে। যদি এ দোয়া না পড়ে অন্য কোনো দোয়া বা তসবিহ পড়েন তবু আপনার নামাজ হবে। এ দোয়ার ক্ষেত্রে পড়তে হবে এমন কোনো বাধা-বাধ্যকতা নেই। তবে, আপনার যদি উক্ত তারাবির নামাজের দোয়া মুখস্ত থাকে, আপনি দোয়াটি পড়তে পারেন। এতে করে অতিরিক্ত একটু নেকি অর্জন করা হয়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃ ১২টি রোজার বিশেষ আমল করলে পাবেন অধিক সওয়াব

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় এ সমন্ধে তো জানলেন। এখন কথা হচ্ছে, তারাবির নামাজের দোয়া কি আপনার মুখস্ত আছে? যদি তারাবির নামাজের এই দোয়াটি আপনার জানা না থাকে, তবে নিচে থেকে দোয়াটি দেখে নিয়ে মুখস্ত করতে পারেন। এবং, পরবর্তীতে প্রতি ৪ রাকাত তারাবির নামাজের পর দোয়াটি পড়তে পারেন। তো চলুন, তারাবির দোয়াটি দেখে নেয়া যাক।

তারাবির নামাজের দোয়া

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় সেটি তো ইতোমধ্যে জেনে গেছেন। তারাবির নামাজ পড়ার সময় যে দোয়া পড়তে হয় সেটি হচ্ছে :–

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

উচ্চারণ : ‘সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আঝমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল ঝাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।’

প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে গেলে লক্ষ্য করবেন তারাবির নামাজ শেষে মানুষজন একটি দোয়া পড়ছে। আপনার মনে হয়তো প্রশ্ন জেগেছে,তারাবির নামাজ শেষে দোয়াটি কি। তারাবির নামাজের দোয়ার ফজিলত কি? আপনি এখন থেকে এই দোয়াটি মুখস্ত করে পড়তে পারেন। প্রতি ৪ রাকাত তারাবির নামাজ শেষে এই দোয়াটি পড়বেন।

তারাবি নামাজের মোনাজাত

অনেকেই তারাবির ৪রাকাত নামাজ পড়ার পর একটি মোনাজাত পড়ে থাকেন। আপনি চাইলে এই মোনাজাতটি কিংবা উপরে উল্লিখিত তারাবির নামাজের দোয়াটি পড়তে পারেন। প্রতি ৪ রাকাত তারাবির নামাজ পড়ার পর আপনি চাইলে এ মোনাজাতটি পড়তে পারেন, কিংবা তারাবির নামাজ এবং বিতরের নামাজ পড়া শেষে একবারেই মোনাজাতটি পড়তে পারেন। নিচে এই মোনাজাতটি দেখে নিন।

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার। বিরাহমাতিকা ইয়া আঝিঝু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া ঝাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আঝিরনা মিনান নার। ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝিরু, ইয়া মুঝির। বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।’

উক্ত তারাবির নামাজের মোনাজাতটি আপনি প্রতি ৪রাকাত তারাবির নামাজ শেষে কিংবা একবারেই নামাজ শেষে পড়তে পারেন। তারাবির নামাজের দোয়ার মতো এটি মোনাজাত না পড়লে যে তারাবির নামাজ আদায় হবে না, এটা ভাবা ভুল। এসব দোয়া না পড়লে কোনো ক্ষতি নেই। তবে পড়লে লাভ আছে। তাছাড়া, এই রমজান মাসে আমাদের উচিত বেশি বেশি নেক কাজ করা, বেশি বেশি দোয়া এবং ইস্তেগফার পড়া।

 

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় তা তো ইতোমধ্যে জেনে গেছেন। এখন প্রতি ৪ রাকাত নামাজ শেষে পুরো রমজান মাস এই দোয়া এবং মুনাজাত পড়তে পারেন। এছাড়াও, তারাবির নামাজ পড়া শুরু করার আগে আমাদের তারাবির নামাজ পড়ার নিয়ত করতে হয়। অনেকেই তারাবির নামাজের নিয়ত জানে না। তো চলুন, তারাবির নামাজের নিয়ত দেখে নেয়া যাক।

তারাবির নামাজের নিয়ত

আরবি: نويت ان اصلى لله تعالى ركعتى صلوة التراويح سنة رسول الله تعالى متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر.

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসালি­য়া ল্লিলাহি তাআ’লা, রাকাআ’তাই সালাতিত তারাবিহ সুন্নাতু রাসুল্লিলাহি তাআ’লা। মুতাওয়াযজ্জিহান ইলা যিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

একাকি তারাবির নামাজ আদায় করলে উক্ত নিয়ত করবেন। কিন্তু, যদি একাকি তারাবির নামাজ আদায় না করেন, জামাআ’তের সঙ্গে আদায় করেন, তবে বলতে হবে- ‘ইক্বতাদাইতু বি হাজাল ইমাম’।

এই পবিত্র রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ সকল মুসলমানরা বিভিন্ন ধরণের ইবাদত করে থাকেন। সংযমের এই মাসে অন্যান্য ইবাদত এর মতো তারাবির নামাজ অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তারাবির নামাজ আদায় করা হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে তারাবির নামাজ আদায় করেছেন এবং তার সাহাবীদেরকেও তারাবির নামাজ আদায়ের জন্য বলেছেন।

তারাবির নামাজ এর ফজিলত এবং মর্যাদা সম্পর্কে বিশ্বনবী (স.) বলেন, “যে ব্যক্তি মানের সঙ্গে পুণ্য লাভের আশায় রমজান মাসে তারাবির নামাজ শেষ করে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।” আলহামদুলিল্লাহ। কতো বড় একটি সুযোগ। আমাদের সবার উচিত তারাবির নামাজ আদায় করা এবং তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় জেনে তারাবির নামাজ শেষে তারাবির নামাজের দোয়া পড়া।

রমজান মাসে তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয়?

রমজান মাসে তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় অনেকেই জানে না। আমাদের সবার উচিত তারাবির নামাজের ৪ রাকাত পর একটি দোয়া পড়া। দোয়াটি উপরে পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় এ নিয়েই আজকের এই পোস্ট। আশা করছি তারাবির নামাজের দোয়া কখন পড়তে হয় সেটি বুঝেছেন। এছাড়াও, এই পোস্টে আমি তারাবির নামাজের দোয়া এবং নিয়ত এবং মুনাজাত উল্লেখ করে দিয়েছি। নামাজ শেষে এসব দোয়া পড়ার চেষ্টা করবেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেয।

Leave a Comment