কম্পিউটারের আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে বাংলায়।। আউটপুট ডিভাইস এর মূল কাজ কি?

আসসালামু আলাইকুম।  Ferdous Academy এর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে  স্বাগত জানাচ্ছি কম্পিউটারের আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে বাংলায় এবং আউটপুট ডিভাইস এর মূল কাজ কি এই সম্পর্কিত পোস্টে।

বর্তমানে জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর মধ্যে কম্পিউটার অন্যতম। কম্পিউটারে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস বিদ্যমান। তেমনি আউটপুট ডিভাইস হচ্ছে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত একটি ডিভাইস। কিন্তু অনেকেই আউটপুট ডিভাইস কি সেই সম্পর্কে জানি না। তাই যারা জানে না তাদের জন্য আজকের পোস্টে জানব আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে এবং এর মূল কাজ সম্পর্কে। তো চলুন শুরু করা যাক। 

আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে
আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে

আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে বাংলায়ঃ

কম্পিউটার এর আআউটপুট ডিভাইস বলতে আমরা বুঝি কম্পিউটার ব্যবহারকারী ইনপুট ডিভাইস এর মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত প্রদান করে নির্দেশনা প্রদান করে। কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নির্দেশনা অনুযায়ী যে ডিভাইসের মাধ্যমে ফলাফল প্রদান করে তাকে আউটপুট ডিভাইস বলে। 

এক কথায় বলা যায় কম্পিউটার এর আউটপুট ডিভাইস হলো যে ডিভাইসের মাধ্যমে কম্পিউটারের ইনপুটকৃত ডাটা বিশ্লেষণ করে আউটপুট হিসাবে ফলাফল প্রদর্শন করে। 

আউটপুট ডিভাইস এর মূল কাজ কি?

আউটপুট ডিভাইস এর মূল কাজ হলো সিপিইউ (CPU) থেকে আসা সবগুলো বাইনারি সংকেতকে এমনভাবে টান্সফার করা  যাতে কম্পিউটার ইউজারকারীর কাছে তা সহজে বোধগম্য হয়।  ইউজারকারীদের সাথে কম্পিউটার এবং অন্যান্য বিভিন্ন ডিভাইসের যোগাযোগ স্থাপন করতে  আউটপুট ডিভাইস গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। 

১০টি আউটপুট ডিভাইস এর নামঃ

১০টি আউটপুট ডিভাইসের নাম নিম্নে দেওয়া হলোঃ

১। মনিটর (Monitor)

২। প্রিন্টার (Printer)

৩। অডিও স্পিকার (Audio Speakers)

৪। হেডফোন (Headphones)

৫। প্রজেক্টর (Projector)

৬। জিপিএস (GPS)

৭। সাউন্ড কার্ড (Sound Card)

৮। ভিডিও কার্ড (Video Card)

৯। ব্রেইল রিডার (Braille Reader)

১০। প্লটার (Plotter)

১। মনিটর (Monitor): মনিটর হলো কম্পিউটারের ডিসপ্লে বা স্ক্রীন ফাংশন। কম্পিউটার এর মূল ডিসপ্লে হিসাবে মনিটরকেই গন্য করা হয়। মূলত মনিটর কম্পিউটার থেকে আসা ইনফরমেশনগুলো টেক্স, ইমেজ, অডিও, ভিডিও রুপে প্রদর্শন করে। 

২। প্রিন্টার (Printer) – আউটপুট ডিভাইস হিসাবে প্রিন্টার অন্যতম। কম্পিউটারে ইনপুট হিসেবে প্রদানকৃত তথ্য প্রিন্টার আউটপুট হিসাবে ফলাফল প্রদর্শন করে।  

৩। অডিও স্পিকার (Audio Speakers): কম্পিউটারে শব্দ শােনার জন্য সাধারণত অডিও স্পিকার ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে মাল্টিমিডিয়া পিসির অন্যতম পার্ট হলাে স্পিকার। বর্তমানে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী অডিও শোনার জন্য এক্সটারনাল স্পিকার ব্যবহার করে থাকেন। কারণ এক্সটার্নাল স্পিকারের অডিও মান অত্যন্ত ভালাে হয় এবং এমপ্লিফায়ার যুক্ত থাকে ফলে ম্যানুয়ালি ভলিউম নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪। হেডফোন (Headphones)- হেডফোন হলো কানের কাছে রাখা একজোড়া ট্রান্সডুসার যা মিডিয়া প্লেয়ার বা রিসিভার থেকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ধরে এবং শ্রবণযোগ্য শব্দ তরঙ্গে রূপান্তর করে।  এটি ইয়ারফোন, স্টেরিওফোন এবং হেডসেট হিসাবেও উল্লেখ করা হয়। হেডফোনগুলি সাধারণত ওয়াকম্যান, সেলুলার টেলিফোন, সিডি গেমার, ভার্চুয়াল অডিও প্লেয়ার (এমপি 3 প্লেয়ার) এবং ব্যক্তিগত কম্পিউটার সিস্টেমের সাথে ব্যবহার করা হয়।  কয়েকটি হেডফোন ইউনিট স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং একটি রেডিও রিসিভার বৈশিষ্ট্যযুক্ত।  অনেক ধরণের, অনেক ব্রান্ডের হেডফোন বাজারে পাওয়া যায়। অনেক ওয়েবসাইটও আছে যারা আপনাকে ভালো হেডফোন সাজেশন করে। এদের মধ্যে Headphonicity, rings, TechRadar অন্যতম।

৫। প্রজেক্টর (Projector)- প্রজেক্টর বা ইমেজ প্রজেক্টর হল একটি অপটিক্যাল ডিভাইস যা একটি স্ক্রিনের উপর একটি ছবি প্রজেক্ট করে। বেশিরভাগ প্রজেক্টর একটি ছোট স্বচ্ছ লেন্সের মাধ্যমে আলো জ্বালিয়ে একটি ছবি তৈরি করে, কিন্তু কিছু নতুন ধরনের প্রজেক্টর লেজার ব্যবহার করে সরাসরি ছবিটি প্রজেক্ট করতে পারে।

৬। জিপিএস (GPS): জিপিএস হলো কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। যার প্রধান কাজ হলো যে কোন আবহাওয়াতে পৃথিবীর যে কোন স্থির বা চলমান বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা। জিপিএস হলো একমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা। জিপিএস ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র উপগ্রহ থেকে পাঠানো সংকেত গ্রহণ করতে পারে কিন্তু নিজেরা কোন সংকেত উপগ্রহে প্রেরণ করতে পারে না।

৭। সাউন্ড কার্ড (Sound Card): সাউন্ড কার্ড হল একটি অভ্যন্তরীণ সম্প্রসারণ কার্ড যা কম্পিউটার প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রণে থাকা কম্পিউটার থেকে এবং তার থেকে অডিও সিগন্যালের ইনপুট এবং আউটপুট প্রদান করে।  সাউন্ড কার্ড শব্দটি পেশাদার অডিও অ্যাপ্লিকেশনের জন্য ব্যবহৃত বাহ্যিক অডিও ইন্টারফেসগুলিতেও প্রয়োগ করা হয়।

৮। ভিডিও কার্ড (Video Card): গ্রাফিক্স কার্ড একটি এক্সপেনশন কার্ড যা একটি ডিসপ্লে ডিভাইসে আউটপুট ইমেজের ফিড তৈরি করে।  প্রায়শই, এগুলিকে আলাদা বা ডেডিকেটেড গ্রাফিক্স কার্ড হিসাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, যা এই এবং সমন্বিত গ্রাফিক্সের মধ্যে পার্থক্যকে জোর দেয়।

৯। ব্রেইল রিডার (Braille Reader): একটি রিফ্রেশেবল ব্রেইল ডিসপ্লে বা ব্রেইল টার্মিনাল হল একটি ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল ডিভাইস যা অক্ষর প্রদর্শনের জন্য, সাধারণত একটি সমতল পৃষ্ঠের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে উত্থিত গোলাকার টিপ পিনের মাধ্যমে।  দৃষ্টি প্রতিবন্ধী কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা যারা একটি স্ট্যান্ডার্ড কম্পিউটার মনিটর ব্যবহার করতে পারে না তারা এটি পাঠ্য আউটপুট পড়তে ব্যবহার করতে পারে।  

১০। প্লটার (Plotter): প্লটার প্রিন্টারের ন্যায় এক ধরনের আউটপুট ডিভাইস।  এটি সাধারণত বড় ধরনের ছবি বা গ্রাফ প্রিন্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। যেমন আর্কিটেকচারাল প্রিন্ট, ম্যাপ ইত্যাদি। 

পরিশেষে

আজকের পোস্টে কম্পিউটার এর আউটপুট ডিভাইস কাকে বলে এবং আউটপুট ডিভাইস এর মূল কাজ কি এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়েছে।  এর পরও আউটপুট ডিভাইস নিয়ে কারো কোন জানার আগ্রহ থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।  আমরা সেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। 

আরো নতুন কিছু শিখুন:

 ১।   ইনপুট ডিভাইস বলতে কি বুঝ

 ২।  কম্পিউটার কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি

৩।  সফটওয়্যার কি, সফটওয়্যার এর কাজ কি

৪।  কম্পিউটারের জনক কে কেন তাকে জনক বলা হয়  

৫।  কম্পিউটার দিয়ে কি কি কাজ করা যায়

Leave a Comment