মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা শিখে নিন

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা

এছাড়াও আমাদের এই পোস্টের মধ্যে আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পাবেন। যেমন- ভোটার আইডি কাড দেখার নিয়ম কি? ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় কি? নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে? জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয় কি?

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে? জাতীয় পরিচয় পত্র আবেদন করতে কি কি লাগে? আইডি কার্ড কোথায় থেকে সংগ্রহ করা যায়? মোবাইল নাম্বার দিয়ে কি কোন ব্যক্তির নাম ঠিকানা বের করা যায়? ইত্যাদি। সুতরাং, মনোযোগ না হারিয়ে বা অন্য কোথাও না গিয়ে আমাদের এই পোস্টটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে পড়ে নিন।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করাঃ ভূমিকা

বর্তমান ডিজিটালাইজড যুগে যেকোনো জায়গায় নাগরিকত্বের প্রমাণ স্বরূপ জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, যেকোন অফিসিয়াল কাজ করার পূর্বে প্রথমেই আপনার থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার চাওয়া হবে। যেমন ধরুন ব্যাংকে একাউন্ট খোলার সময়, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করার সময়, পাসপোর্ট তৈরি করার সময়, ট্রেনের টিকিট কাটার সময় ইত্যাদি। সুতরাং, বুঝতেই পারছেন জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার আপনার জন্য কতটা জরুরী। 

কিন্তু অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাসা থেকে বের হওয়ার পূর্বে আমরা আমাদের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে বের হতে ভুলে যায়। তখন আমাদেরকে নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়। অথবা দেখা গেল আপনি কোন এক জরুরী কাজের জন্য শহরের বাইরে গিয়েছেন যেখানে কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদনের জন্য আপনার এখন আর্জেন্টলি জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার প্রয়োজন। কিন্তু আপনি আপনার সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্র নিয়ে আসিনি কিংবা জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার আপনার মনে নেই তখন আপনাকে ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। 

আরো পড়ুনঃ কম্পিউটার ভাইরাস কি? কয়েকটি কম্পিউটার ভাইরাসের নাম জেনে নিন

কিন্তু যদি আপনি আপনার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা শিখে নেন তাহলে আপনাকে এই ধরনের কোনো ভোগান্তির শিকার হতে হবে না কিংবা ঝামেলায় পড়তে হবে না। তাই আমরা আজকে আমাদের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদেরকে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা শিখিয়ে দেবো। তাহলে চলুন আর কথা না বাড়িয়ে সরাসরি আমাদের মূল আলোচনা শুরু করা যাক। অর্থাৎ, মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা সম্পর্কিত আলোচনা শুরু করা যাক।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার পদ্ধতি

মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার ক্ষেত্রে মূলত দুইটি শর্তপূরণ সাপেক্ষে জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার বের করা সম্ভব। আর এই শর্তগুলো হলোঃ

  • আপনার অবশ্যই একটি বাংলালিংক সিম থাকতে হবে।
  • আর উক্ত বাংলালিংক সিম কার্ডটি অবশ্যই আপনার কাঙ্খিত জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা থাকতে হবে।

উপরিউক্ত দুইটি শর্ত পূরণ করা না হলে সেক্ষেত্রে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা সম্ভব নয়। কেন সম্ভব নয় এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে বলতে হয় যে, যেহেতু এখন পর্যন্ত বাংলালিংক সিম কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য সিম কোম্পানি গুলো তাদের সিমে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার সিস্টেম চালু করেনি তাই বাংলালিংক সিম ছাড়া অন্যান্য সিম কোম্পানির সিম দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর বের করা সম্ভব নয়। 

আবার আপনার বাংলালিংক সিম থাকলেই যে আপনি মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করতে পারবেন বিষয়টা মোটেও এমন নয়। কেননা আপনি কেবলমাত্র তখনই আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করতে পারবেন যখন আপনার উক্ত বাংলালিংক সিমটি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা থাকবে। আশা করছি বুঝতে পেরেছেন কোন কোন শর্তগুলো পূরণ সাপেক্ষে আপনি আপনার মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করতে সক্ষম হবেন। 

আরো পড়ুনঃ টাকা ইনকাম করার ওয়েবসাইট – [year] (১৫টি সেরা ওয়েবসাইট)

এবার যদি আপনি উক্ত দুটি শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হন তাহলে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার ক্ষেত্রে প্রথমেই আপনাকে আপনার মোবাইলে ডায়াল অপশনে গিয়ে *১৬০০# টাইপ করে ডায়াল অপশনের মধ্যে বাংলালিংক সিমটিকে সিলেক্ট করে নিয়ে ওকে বাটনে চাপ দিয়ে ওকে করে দিতে হবে। এরপর আপনার সামনে একটি নতুন ইন্টারফেস আসবে। সেখান থেকে ফাঁকা ঘরের মধ্যে আপনাকে ২ টাইপ করে নিয়ে সেন্ড অপশনে চাপ দেওয়ার মাধ্যমে রিকুয়েস্ট সেন্ড করতে হবে। এই কাজগুলো সম্পাদন হয়ে গেলেই কিছুক্ষণের মধ্যে আপনার বাংলালিংক সিমে একটি এসএমএস আসবে। 

যেখানে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বরটি দেওয়া থাকবে। এক্ষেত্রে আপনার বাংলালিংক সিমে এসএমএস এর মাধ্যমে যেই জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বরটি দেখানো হবে সেটা মূলত ওই জাতীয় পরিচয় পত্র নম্বর যেটা দিয়ে আপনি আপনার বাংলালিংক সিম রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন। আর এজন্যই আমরা শুরুতেই বলেছিলাম যে, মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে উক্ত জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার দিয়ে আপনার বাংলালিংক সিম রেজিস্ট্রেশন করা থাকতে হবে।

জাতীয় পরিচয় পত্র সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সমূহের উত্তর

যেহেতু জাতীয় পরিচয় পত্র প্রতিটি নাগরিকের জন্যই তার নাগরিকত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ্য দলিল। তাই জাতীয় পরিচয় পত্রকে ঘিরে সাধারণ জনগনের মধ্যে কিছু প্রশ্ন জাগ্রত হয়। যেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যাসহ উত্তর পাওয়ার জন্য মানুষ ইন্টারনেটের বিভিন্ন জায়গায় সার্চ করে থাকে। তাই আমরা ঠিক করেছি আমাদের এই পোস্টের মধ্যে মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করা সংক্রান্ত আলোচনা করার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয় পত্রকে ঘিরে সাধারণ জনগণের মধ্যে জাগ্রত হয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। 

আরো পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল – ডায়াবেটিস নরমাল কত পয়েন্ট

আর এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরগুলো নিম্নে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হয়েছে। তাই আপনি নিচের অংশটুকু খুব মনোযোগ সহকারে পড়ে নিন এবং এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর সঠিক ব্যাখ্যা সহ জেনে নিন।

ভোটার আইডি কাড দেখার নিয়ম কি?

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড দেখার জন্য প্রথমত নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর NID Wallet নামক মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফেস ভেরিফিকেশন কমপ্লিট করার পর রেজিস্ট্রেশনকৃত একাউন্টে প্রবেশ করতে হবে। আর এই ভাবে আপনার রেজিস্ট্রেশন কৃত একাউন্টে প্রবেশ করার পরেই আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পারবেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট এর লিঙ্ক হলো- নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট এবং NID Wallet অ্যাপ ডাউনলোড করার লিংক হলো- NID Wallet

ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় কি?

যদি আপনি এখন পর্যন্ত আপনার ভোটার আইডি কার্ডের কপি না তুলে থাকেন সেক্ষেত্রে ভোটার নিবন্ধন স্লিপ হারিয়ে যাওয়ার পরেও আপনি খুব সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড তুলতে পারবেন। এর জন্য প্রথমত আপনাকে আপনার এলাকার নির্বাচন কমিশনের অফিসের যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট জরিমানার বিপরীতে ভোটার আইডি কার্ড তুলতে হবে। কিন্তু যদি আপনি আপনার স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে ফেলেন এবং আপনার কাছে আপনার ভোটার স্লিপ নাম্বার টিও না থাকে সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে থানায় জিডি করে উক্ত জিডির কপি নিয়ে আপনার এলাকার নির্বাচন কমিশন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে?

গুগলে এই রকম সার্চ টাইটেল দিয়ে অনেকেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখতে চাই। তাই তাদের উদ্দেশ্যে আমরা বলবো আপনি যদি আপনার ভোটার আইডি কার্ড দেখতে চান সেক্ষেত্রে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার অথবা ভোটার স্লিপ এর নম্বর প্রয়োজন হবে। আর এই দুইটি জিনিসের মধ্যে যেকোনো একটি থাকলেও আপনি নির্বাচন কমিশনারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখতে পারবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয় কি?

আপনার ভোটার আইডি কার্ড যদি কোনভাবে হারিয়ে যায় তাহলে প্রথম অবস্থায় আপনাকে থানায় ভোটার আইডি কার্ড হারানো সংক্রান্ত বিষয়ে জিডি করতে হবে এবং উক্ত জিডির কপি নিয়ে আপনার এলাকার নির্বাচন কমিশনের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আর সেখানে যোগাযোগ করলে উনারা আপনাকে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কিত সঠিক নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে সহযোগিতা করবে।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে?

ভোটার আইডি কার্ডের মধ্যে আপনার কোন ধরনের তথ্যের ভুল রয়েছে সেই বিষয়ের উপর নির্ভর করে একেক ক্ষেত্রে একেক ধরনের প্রামাণ্য দলিল প্রয়োজন হয়। যেমনঃ এসএসসির সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন সনদ, পিতা মাতার ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট এর কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি।

মোবাইল নাম্বার দিয়ে কি কোন ব্যক্তির নাম ঠিকানা বের করা যায়?

মোবাইল নাম্বার দিয়ে সাধারণ জনগনের পক্ষে কোনো ব্যক্তির নাম অথবা ঠিকানা বের করার কোনো সুযোগ নেই। কেননা এই ধরনের কার্যকলাপ ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা্র পরিপন্থী। সেজন্য সাধারণ জনগণের জন্য এই ধরনের তথ্য জানার কোন অনুমতি নেই। এই ধরনের তথ্যগুলো কেবল জনসাধারনের কল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দেখার অনুমতি রাখে।

জাতীয় পরিচয় পত্র আবেদন করতে কি কি লাগে?

নতুন ভোটার রেজিস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে এসএসসি পরীক্ষার সনদ, জন্ম নিবন্ধনের কপি, বাবা-মায়ের ভোটার আইডি কার্ডের কপি, বাসার বিদ্যুৎ বিলের কপি, পাসপোর্ট এর কপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।

আইডি কার্ড কোথায় থেকে সংগ্রহ করা যায়?

আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য আপনার এলাকার নির্বাচন কমিশনারের অফিসে গিয়ে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক আমরা আমাদের আজকের আলোচনায় মোবাইল নাম্বার দিয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র বের করার পদ্ধতি, ভোটার আইডি কাড দেখার নিয়ম কি, ভোটার স্লিপ হারিয়ে গেলে করণীয় কি, নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে, জাতীয় পরিচয়পত্র হারিয়ে গেলে করণীয় কি, ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে, জাতীয় পরিচয় পত্র আবেদন করতে কি কি লাগে, আইডি কার্ড কোথায় থেকে সংগ্রহ করা যায়, মোবাইল নাম্বার দিয়ে কি কোন ব্যক্তির নাম ঠিকানা বের করা যায় ইত্যাদি বিষয় গুলোকে নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি। 

আশা করছি আমাদের এই পোস্টটি আপনার কাছে ভালো লেগেছে এবং এই পোস্টটি পড়ে আপনি উপকৃত হয়েছেন। আপনি যদি পরবর্তীতেও এই রকম নিত্য নতুন তথ্য সম্বলিত পোস্ট পড়তে চান তাহলে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Comment