জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম- জেনে নিন

আলোচ্য সূচি:

জন্ম সনদ এমন একটি সনদ যা আমাদের  জন্ম থেকে মৃত্যু পযর্ন্ত জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপেই গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখে। যেখানেই আমরা যাই করি না কেন শুরুতেই আমাদের একেবারে প্রাথমিক ভাবে যে সনদ যাচাই করা হয় তা হল জন্ম সনদ। শুধু তাই নয় একজন মানুষ হিসেবে আমাদের যতগুলো অধিকার আছে তার মধ্যে জন্ম সনদ পাওয়ার অধিকার অন্যতম। এটি আমাদের জন্ম সহ সকল প্রকার তথ্য বহন করে বিধায় কে কোন দেশের নাগরিক তাও বুঝা যায় এই সনদের দ্বারা।

নিজ দেশের নাগরিকত্বের অধিকার ভোগ করতে হলেও এই জন্ম সনদ অত্যাবশ্যকীয়। শিশুর জন্মের পরপরই পিতামাতার দায়িত্ব সন্তানের জন্য জন্ম সনদ করে ফেলা। যেহেতু আমরা মানুষ, ভুল হওয়াটা একেবারেই স্বাভাবিক। তাই আর সকল প্রয়োজনীয় কাজের মতই জন্ম সনদ নিবন্ধনের বেলাতেও আমরা করে ফেলি গড়বড়। তবে তা সংশোধনেরও রয়েছে ব্যবস্থা। যদি নিজেদের জন্ম সনদের ভুল থেকে থাকে আমাদের উচিৎ তা তৎক্ষণাৎ সঠিক করে নেওয়া। 

জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম

তাই আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে ঘরে বসেই অনলাইনে আমরা জন্ম সনদের নানা প্রকার ভুল যেমন জন্ম তারিখ ভুল এগুলো সংশোধন করতে পারি এই বিষয়ে। তাহলে চলুন জেনে আসা যাক জন্ম তারিখ সংশোধন করার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে।

জন্ম সনদ সংশোধন যাচাই

জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম জানার আগে প্রথমে যা জানা প্রয়োজন তা হল জন্ম সনদ যাচাই করে নেয়া। এখানে যাচাই করা বলতে বুঝানো হয়েছে আপনার জন্ম সনদটি অনলাইন আছে কিনা একবার দেখে নেওয়া। 

যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে

আমাদের অনেকেরই জন্ম সনদে ভুলক্রমে আমাদের জন্ম তারিখ টাই ভুল হয়ে যায়। তবে এতে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না আপনাকে। কেননা তথ্য প্রযুক্তি এখন আমাদের হাতেই। তাই চাইলেই যেকোনো মুহুূর্তে আপনি জন্ম তারিখ অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে সংশোধন করিয়ে নিতে পারবেন। যে কাগজপত্র সঙ্গে থাকা চাই সেগুল হলোঃ 

> ই পি আই কার্ড অর্থাৎ শিশুর টিকা কার্ড
> নিবন্ধনকারী ব্যক্তির যেকোনো শিক্ষা সনদ
> নিবন্ধনকারী ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্র
> নিবন্ধনকারী ব্যক্তির পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয় পত্র
> ইস্যু সম্পর্কিত ফাইল ( যদি পুরাতন জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করে থাকেন)
> চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রদানকৃত জন্ম প্রশংসা পত্রের সত্যায়িত কপি বা পুরনকৃত আবেদনপত্রে জন্মের উপস্থিতির প্রমাণ কিংবা ইপিআই কার্ডের সত্যায়িত কপি।

এই তথ্যগুলো জমাদানের মাধ্যমে এগুলোর ভিত্তিতে আপনার জন্মের তারিখ সংশোধন করা হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি সঠিক তথ্য দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধন করছেন। 

আরও পড়ুনঃ  ভোটার আইডি কার্ড চেক [year]

যদি কোনো প্রমানক না থাকে

অনেক ক্ষেত্রে হয় যে কিছু কিছু মানুষের নিকট উপরে উল্লেখিত প্রমান পত্রের কোনোটিই নাই। তাহলে কি তিনি জন্মতারিখ পরিবর্তন কিংবা সংশোধন করতে পারবেন না? এক্ষেত্রে উপায় আছে। যেমন ধরুন আপনার জন্ম সনদ অনুযায়ী আপনার বয়স ৫০ বছর আসলে তা নয়, আপনি মাত্র ২৫ বছরের একজন যুবক। 

আবার এমনও হয়ে থাকে যে আপনারা ভাই বোন ৩/৪ জন। আপনি সিরিয়ালে একেবারে চতুর্থ কিন্তু ভুলবশত আপনার বয়স সকলের থেকে বেশী দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে আপনার পিতার এবং ভাই বোনদের জন্ম সনদ জমা দিয়ে নিজের জন্ম সনদের বয়স সংশোধন করিয়ে নিতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার পিতামাতার জন্ম নিবন্ধন জমা দিতে পারেন। তাহলেই এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনার জন্ম তারিখ সংশোধন করিয়ে নিতে পারবেন। যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে জন্ম তারিখ কমানোর চেষ্টা কেউ করেন তাহলে এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গন্য করা হবে। কেননা এতে একাধিক জন্ম নিবন্ধন করা হয়ে থাকে যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম

জন্ম তারিখ যদি সংশোধন করতে চান তাহলে আপনাকে একটি আবেদন করতে হবে। তবে এই আবেদনের সময় আপনি যে ডকুমেন্ট ব্যবহার করবেন তা যেন ১০০ ভাগ সঠিক এবং সত্য থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রথমেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন করুন। যার দুই কপি প্রিন্ট করে নিতে হবে। উপযুক্ত প্রমাণ সহ এই আবেদনটির এক কপি ইউনিয়ন পরিষদ/ পৌরসভা কিংবা কাউন্সিলরের অফিসে জমা দিবেন। আর অন্য আরেকটি কপি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অফিসে জমা দিতে হবে। যাচাই বাছাই করেই তবে আপনার বয়স সংশোধন করা হবে। 

যদি আরও ভালো ভাবে জানতে চান জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম তাহলে নিচের প্রত্যেকটি ধাপ মনোযোগ সহকারে পরুন এবং একইভাবে কাজ সম্পন্ন করুন। 

আরও পড়ুনঃ ভিসা কিভাবে করতে হয়- ভিসা করতে কি কি লাগে ভিসা করতে কত টাকা লাগে 

ধাপঃ১ জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার ফরম পুরন করা 

শুরুতেই আপনি চলে যাবেন বয়স সংশোধন করার জন্য  https://bdris.gov.bd/br/correction এই পেইজে। এখানে গিয়ে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন” এই মেন্যুতে ক্লিক করবেন। ক্লিক করে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিবন্ধন এন্ট্রি বের করুন। তারপর “নির্বাচন করুন” বাটনে ক্লিক করুন। তারপর আরও একটি পেইজ আপনার সামনে হাজির হবে। উক্ত পেইজে সকল তথ্য সঠিক ভাবে পুরন করুন এবং প্রমাণ পত্র আপলোড দিয়ে আপনার আবেদনটি জমা করুন। এক্ষেত্রে আপনাকে আপনার আবেদন আইডি মনে রাখতে হবে কেননা এটি পরবর্তী সময়ে কাজে আসবে।। তাই খেয়াল করে কোথাও আবেদন আইডি লিখে ফেলুন। তারপর আবেদনটি প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করে এর ২ কপি জন্ম নিবন্ধন আবেদন পত্র প্রিন্ট করে নিন।

আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল – ডায়াবেটিস নরমাল কত পয়েন্ট

ধাপঃ২ আবেদনটি ইউনিয়ন/পৌরসভা/ কাউন্সিলরের অফিসে জমা দিন

আপনার বয়স সংশোধনের আবেদনটি এবং সঠিক বয়সের প্রমাণ পত্র হিসেবে যে ডকুমেন্ট আপলোড করেছেন এর একটি ফটোকপি ইউনিয়ন/পৌরসভা/ কাউন্সিলরের অফিসে জমা দিন। যা পরবর্তিতে উচ্চতর  কর্তৃপক্ষের বিবেচনার জন্য পাঠানো হবে।

ধাপঃ৩ উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন ও প্রমাণ পত্র জমা দিন

এই পযার্য়ে এসে উপরের ধাপে উল্লেখিত ডকুমেন্ট দুটো উচ্চতর কর্তৃপক্ষের নিকট দিন। যদি আপনি না জেনে থাকেন যে আপনার এলাকার উচ্চতর কর্তৃপক্ষের অফিস কোনটি তাহলে ইউনিয়নের অফিস/ পৌরসভা কিংবা কাউন্সিলরের অফিস থেকে জেনে নিয়ে আবেদনটি জমা দিবেন।

ধাপঃ৪ জন্ম নিবন্ধন সংশোধন তথ্য  করে সনদ সংগ্রহ করুন

আপনাকে উপরিউক্ত কাযার্লয় থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় বলে দিবে। এর পর আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনের অবস্থা যাচাই করে দেখতে পারবেন যে আপনি যে আবেদন করেছেন তা উচ্চতর কাযার্লয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে কিনা। অনুমোদিত হলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গিয়ে আপনার সংশোধিত জন্ম সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। 
এইতো এভাবে খুব সহজে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই জন্ম সনদের তারিখ সংশোধন করে নিতে পারবেন। 

আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন চেক করার নিয়ম 

জন্ম সনদ সংশোধনের খরচ

জন্ম সনদে  সংশোধন আনতে চাইলে কিছু নির্ধারিত ফি দিতে হয় যেমনঃ

> তথ্য সংশোধনের জন্য ১০০ টাকা ফি।
> জন্ম সনদে নাম, পিতা/মাতার নাম, ঠিকানা ইত্যাদি তথ্য ও অন্যান্য তথ্য সংশোধনের জন্য ৫০ টাকা ফি।
> বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় মূল সনদ বা তথ্য সংশোধনের পর সনদের কপি সরবরাহের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না।
> বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদের নকল সরবরাহের জন্য ৫০ টাকা ফি দিতে হয়।

আরও পড়ুনঃ নামজারি খতিয়ান অনুসন্ধান

জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম- শেষ কথা

প্রিয় পাঠকগণ, আপনাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম এবং এর প্রতিটা ধাপ। আশা করি আপনারা উপরের লিখার মাধ্যমে জানতে এবং বুঝতে পেরেছেন যে জন্ম তারিখ সংশোধন করার সঠিক নিয়ম। আমাদের অনেকেরই জন্ম সনদে নানা প্রকার ভুল ত্রুটি থেকে থাকে। কেননা আগে এই কাজ গুলো করা হতো হাতে কলমে। তখন হাতে লিখার কারনে নানান ধরনের ভুল লেগেই থাকত। আর এখনও যেহেতু সবকিছুই কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয় তবুও দেখা যায় ভুল হয়েই যায় কোনো না কোনো ভাবে। কম্পিউটারের কীবোর্ডের সামান্য হেরফের হলেই কিন্তু ভুল হয়ে যায়। আর ভুল আমরা তখন দেখি যখন জন্ম সনদটি আমরা হাতে পাই।

তাই ঘাবড়ে না গিয়ে সঠিক তথ্য জেনে খুব সহজেই জন্ম তারিখ সংশোধন করা যায় উচিৎ। আশা করি আপনারা জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম সম্পর্কে একটি পরিপুর্ণ ধারনা পেয়েছেন। জন্ম তারিখ একটি গুরুত্বপুর্ন  বিষয় তাই নিজে জানুন জন্ম তারিখ সংশোধন করার নিয়ম এবং অন্যকেও জানতে সাহায্য করুন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Leave a Comment