বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

ব্যবসা করতে গেলে লেনদেন বেশি করতে হবে।এটাই হচ্ছে চিরন্তন সত্য। কিন্তু, একজন নতুন উদ্যোক্তা কিংবা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট নেয়া সম্ভব হয় না। তাই, আপনি যদি আপনার বিকাশ পার্সোনাল একাউন্টে কাস্টমার এর কাছে থেকে পেমেন্ট নিতে যান, তবে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। যেমন : একজন কাস্টমার আপনাকে আপনার পার্সোনাল একাউন্টে টাকা পে করতে একটু ইতস্তত বোধ করবে। এছাড়াও, লেনদেন করার সময় বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট এ অনেক লিমিটেশন থাকে।

তাই, আপনি যদি আপনার পার্সোনাল একাউন্ট দিয়ে একটি ব্যবসার লেনদেন করতে যান, সেক্ষেত্রে আপনাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু, আপনার কাছে যদি একটি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট থাকে, তবে আপনি এই bkash personal retail account দিয়ে খুব সহজেই আপনার ব্যবসার সকল লেনদেন সমাপ্ত করতে পারবেন। বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট এ সাধারণ বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট এর থেকে লেনদেন এর লিমিট বেশি থাকে। আপনি সর্বনিম্ন ১ টাকা থেকে শুরু করে বিকাশ পার্সোনাল একাউন্ট এ যে পরিমাণ টাকা লেনদেন করা যায়, তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণে লেনদেন করতে পারবেন।

ব্যবসা করার জন্য সবথেকে পারফেক্ট বিকাশ এর সুবিধা হচ্ছে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট। কিন্তু, একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই মার্চেন্ট একাউন্ট নিতে পারবে না। তাই, আপনি চাইলে বিকাশ এর এই পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধা ভোগ করতে পারেন। এছাড়াও, বিকাশ যদি পরবর্তীতে কখনো রিটেইল একাউন্টে QR CODE স্ক্যান সিস্টেম নিয়ে আসে, তবে আপনার কাস্টমার আরও সহজে টাকা পাঠাতে পারবে।

পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে আপনি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন এবং রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা কি কি এসব বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারবেন। তো চলুন, শুরু করা যাক।

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধা

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট

বিকাশের অন্যান্য একাউন্টের মতো পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের আলাদা কিছু সুবিধা রয়েছে। আপনি একজন নতুন উদ্যোক্তা হলে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট আপনার অনেক কাজে আসবে। নিচে রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধাসমূহ দেখে নেয়া যাক।

নিজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন : আপনি যদি একজন নতুন উদ্যোক্তা হয়ে থাকেন , তবে নিজে থেকেই বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলতে পারবেন। এজন্য আপনাকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে বিকাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে। কোনো এজেন্ট এর কাছে কিংবা বিকাশ এর কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবে না।

ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ : একজন বড় ব্যবসায়ী হলে আপনি একটি মার্চেন্ট একাউন্ট নিতে পারেন। কিন্তু, মার্চেন্ট একাউন্ট নিতে হলে দরকার হয় একটি ট্রেড লাইসেন্স। তবে, আপনি যদি একটি পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নিতে চান, তবে কোনো প্রকার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই রিটেইল একাউন্ট নিতে পারবেন।

অনলাইন বা অফলাইনে পেমেন্ট সুবিধা : আপনি যদি একটি পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নেন, তবে আপনার ব্যবসার যে গ্রাহকরা আছেন, তারা চাইলে আপনার পেমেন্ট বিকাশ অ্যাপ কিংবা বিকাশের যেকোনো পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে দিতে পারবেন। এছাড়াও, বিকাশ অ্যাপ এবং পেমেন্ট গেটওয়ে ছাড়াও কাস্টমার *247# ডায়াল করেও পেমেন্ট করতে পারবেন। পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে অনেক সুবিধাও নিতে পারবেন বিকাশ থেকে।

বিকাশের অন্যান্য একাউন্ট গুলোতে টাকা ট্রান্সফার সুবিধা : বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট থেকে আরেকটি মার্চেন্ট একাউন্টে টাকা পাঠানো যায় না। এবং আপনি চাইলে একটি এজেন্ট একাউন্ট থেকে মারচেন্ট একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন না। কিন্তু, আপনি যদি একটি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নেন, তবে এই একাউন্ট থেকে বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট কিংবা অন্য কোনো পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টে টাকা পাঠাতে পারবেন।

একজন উদ্যোক্তা পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নিলে তিনি বিকাশের সকল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন : বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ কিংবা বিকাশের পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারবেন। এতে করে তার ব্যবসার পরিধি আরও বেড়ে যাবে।

এছাড়াও, আরও অনেক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বিকাশ রিটেইল একাউন্ট এ। এগুলো আপনি ব্যবহার করার সময় বুঝতে পারবেন।

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট করার শর্ত

আপনি যদি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট করতে চান, তবে বিকাশের দেয়া কিছু শর্ত আপনাকে মানতে হবে। এগুলো মেনে তবেই আপনি একটি বিকাশ রিটেইল একাউন্ট নিতে পারবেন। তো চলুন, দেখে নেয়া যাক কি এই শর্তগুলো।

১. আপনাকে বাংলাদেশের একজন বৈধ নাগরিক হতে হবে।
২. আপনার বয়স সর্বোনিন্ম ১৮ হতে হবে।
৩. আপনার বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে।
৪. আপনাকে ক্ষুদ্র অথবা প্রান্তিক ব্যবসায়ী হতে হবে।

উপরোক্ত শর্তগুলো যদি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তবেই আপনি বিকাশ রিটেইল পার্সোনাল একাউন্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট ব্যবহারের জন্য প্রযোজ্য চার্জ/ফি তালিকা

লেনদেনের ধরন পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট ফি
গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করলে ফ্রি
সকল এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করলে একাউন্ট খোলার প্রথম ৩ মাস ফ্রি (প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত)পরবর্তীতে ১৪.৯০ টাকা চার্জ প্রযোজ্য
মার্চেন্টের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করলেপার্সোনাল রিটেইল থেকে পার্সোনাল রিটেইলমার্চেন্ট থেকে পার্সোনাল রিটেইল ফ্রি
মার্চেন্টকে পেমেন্ট করলেপার্সোনাল রিটেইল থেকে পার্সোনাল রিটেইলপার্সোনাল রিটেইল থেকে মার্চেন্ট (মার্চেন্ট প্লাস, মার্চেন্ট প্লাস লাইট এ ও বি, ছোট এবং মাঝারি মার্চেন্ট) ০.২০%
সেন্ড মানিপার্সোনাল রিটেইল থেকে গ্রাহককে ৫ টাকা
পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট থেকে ব্যাংক একাউন্ট (পরবর্তী ধাপ) ১.৩%

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট বা PRA-এর লেনদেন লিমিট

এই তালিকা অনুযায়ী পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট বা PRA দিয়ে লেনদেন করা যাবে:

লেনদেনের ধরন লেনদেনের বিস্তারিত ন্যূনতম লেনদেনের পরিমাণ (টাকা) দৈনিক লেনদেনের সংখ্যা মাসিক লেনদেনের সংখ্যা প্রতি লেনদেনের লিমিট (টাকা) দৈনিক লেনদেনের লিমিট (টাকা) মাসিক লেনদেনের লিমিট (টাকা)
গ্রাহকের পেমেন্ট গ্রহন গ্রাহক থেকে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট যেকোনো অ্যামাউন্ট লিমিট নেই লিমিট নেই 10,000 30,000 3,00,000
পেমেন্ট পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট থেকে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট 1 10 100 5,000 25,000 1,00,000
মার্চেন্ট থেকে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট
মার্চেন্টের পেমেন্ট গ্রহন পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট থেকে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট যেকোনো অ্যামাউন্ট     25,000 25,000 1,00,000
মার্চেন্ট থেকে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট
সেন্ড মানি পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট থেকে গ্রাহক 1 5 30 10,000 10,000 1,00,000
ক্যাশ আউট এজেন্ট ক্যাশ আউট 1 5 30 20,000 20,000 3,00,000

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট করার নিয়ম

বিকাশ রিটেইল একাউন্ট করার জন্য আপনার যেমন কিছু শর্ত মানতে হবে, ঠিক তেমনি বিকাশ রিটেইল একাউন্ট এর জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কিছু নিয়ম মানতে হবে এবং কিছু তথ্য জমা দিতে হবে। তো চলুন নিচে দেখে নেয়া যাক কি কি তথ্য জমা দিতে হবে একটি পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট করতে গেলে।

আরো পড়ুনঃ 

bkash personal retail account করতে যা যা লাগব

  • একটি সিম লাগবে, যেটি আপনার নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্টার করেছেন। অন্য কারো এনআইডি দিয়ে কেনা সিম হলে হবে না।
  • উপরোক্ত শর্ত অনুযায়ী, যে সিমে আপনি রিটেইল একাউন্ট করবেন, সেটি যে আপনার সেটির প্রমাণ দিতে হবে। এজন্য প্রথমেই *16001# নাম্বার ডায়াল করবেন আপনার উক্ত সিম থেকে। তারপর নিজের জাতীয় পরিচয়পত্রের শেষ ৪ ডিজিট প্রবেশ করালে একটি ফিরতি এসএমএস পাবেন। সেটির স্ক্রিনশট নিয়ে রাখবেন। এটাই হচ্ছে আপনার সিমের মালিকানার প্রমাণ।
  • আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের উভয় পাশের ছবি তুলে রাখতে হবে। আবেদন করার সময় এগুলো জমা দিতে হবে।
  • আরও প্রয়োজন হবে একজন নমিনি। আপনার নমিনি যদি আপনার বাবা মা হন, তবে কোনো কাগজ লাগবে না। কিন্তু, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম নেই এমন কেউ যদি আপনার নমিনি হন, তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি লাগবে।
  • আপনার সদ্য তোলা এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি আপনার ফোনে কিংবা কম্পিউটারে রেখে দিবেন। আবেদন করার সময় এটি কাজে লাগবে।
  • একই জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে ইতোমধ্যে কোনো বিকাশ এজেন্ট/মার্চেন্ট/চ্যানেল একাউন্ট; মোট কথা কোনো ব্যবসায়িক একাউন্ট খোলা থাকলে তা দিয়ে পার্সোনাল রিটেইলার একাউন্ট খোলা যাবে না।
  • পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের PIN /পিন ভুলে গেলে একাউন্ট খুলতে ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি থেকে ১৬২৪৭ নাম্বারে কল করুন অথবা https://livechat.bkash.com/ অথবা “support @bKash.com” এ ইমেল করতে পারেন।
  • পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খোলার জন্য বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই
  • বিকাশ পার্সোনাল একাউন্টকে এখনও পর্যন্ত বিকাশ রিটেইল একাউন্টে ট্র্যান্সফার করা সম্ভব নয়
  • পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের জন্য ‘Proof of Profession’ পেতে নিকটস্থ মেয়র/ ওয়ার্ড কমিশনার/ ইউনিয়ন পরিষদের অফিসে যোগাযোগ করুন।

উপরোক্ত শর্তগুলো ছাড়াও আরও কিছু শর্ত আপনাকে মানতে হবে। এগুলো আপনি বিকাশের ওয়েবসাইট ভিজিট করলে দেখতে পারবেন।তো চলুন, এখন bkash personal retail account এর জন্য কিভাবে আবেদন করবেন সেটি ধাপে ধাপে দেখে নেয়া যাক।

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার প্রক্রিয়া

ধাপ ১ : প্রথমেই ভিজিট করুন bkash personal retail account ওয়েবসাইট। তারপর আপনি এখানে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট সম্পর্কিত সকল তথ্য দেখতে পারবেন। সকল শর্ত এবং লেনদেন এর লিমিট।

ধাপ ২ : ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পর আপনি সকল তথ্য এবং শর্ত দেখে নেয়ার পর পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খুলুনঃ ট্যাপ/ক্লিক অপশনে ক্লিক করবেন। এখান থেকেই আপনার বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া শুরু।

ধাপ ৩ : এখন একটি ওয়েবপেজ ওপেন হবে। এখানে আপনি আমাদের নিয়ম ও শর্তসমূহে সম্মত আছেন লেখার পাশে একটি বক্স দেখতে পাবেন। এটিতে টিক মার্ক দিবেন। তারপর, আবেদন করুন বাটনে ক্লিক করবেন।

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট
বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট (1)

ধাপ ৪ : এখন এখানে আপনি আপনার সচল একটি মোবাইল নাম্বার দিবেন যেটিতে কোনো বিকাশ একাউন্ট নেই। এবং নিচে আপনার সিমের অপারেটর সিলেক্ট করে দিবেন। তারপর নিশ্চিত করুন বাটনে ক্লিক করবেন।

বিকাশ রিটেইল একাউন্ট
বিকাশ রিটেইল একাউন্ট

ধাপ ৫ : মোবাইল নাম্বার দেয়ার পর নাম্বারে একটি ওটিপি আসবে, সেই ওটিপি টি দিন এবং নিচে থাকা ”নিশ্চিত করুন” এ ক্লিক করুন।

ধাপ ৬ : এই ধাপে আপনাকে আপনার নাম ইংরেজিতে লিখতে হবে। আপনার বাবা মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম, আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার, আপনার জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, পেশা, আয়ের উৎস, মাসিক আয়ের পরিমাণ, এই সব নির্বাচন করার পর “এগিয়ে যান” বাটনে ক্লিক করুন।

রিটেইল একাউন্ট
রিটেইল একাউন্ট

এখানে ”অন্যান্য” অপশন ছাড়া অন্য কোনো অপশন যদি সিলেক্ট করে দেন, তবে সেটির লিংক যুক্ত করে দিতে হবে।যেমন ওয়েবসাইট সিলেক্ট করে দিলে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিতে হবে। ফেসবুক সিলেক্ট করলে ফেকবুক পেজের লিংক দিতে হবে। তারপর একটি মেইল এবং একটি মোবাইল নাম্বার দিতে হবে যোগাযোগের জন্য এবং শেষে থাকা “এগিয়ে যান” এ ক্লিক করে পরের ধাপে চলে যেতে হবে।

ধাপ ৯ : এই ধাপে আপনাকে আপনার নমিনির তথ্য দিতে হবে। আপনার পিতা-মাতা যদি আপনার নমিনি হয়ে থাকেন, তবে এখানে কিছু দিতে হবে না।কিন্তু, আপনার পিতা-মাতা যদি আপনার নমিনি না হন, তবে আপনাকে এখানে আপনার নমিনির সঠিক তথ্য দিতে হবে। নয়তো, আপনার আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

ধাপ ১০ : এ ধাপে এসে আপনাকে আপনার ছবি,  জাতীয় পরিচয়পত্রের সামন দিকের এবং পিছন দিকে ছবি তুলে দিতে হবে। এরপর, আপনার সিমের মালিকানার প্রমান দিবেন, এবং আপনার ওয়েবসাইট কিংবা ফেসবুক পেজ থাকলে সেটির একটি স্ক্রিনশর্ট নিয়ে আপলোড  করে দিবেন। এছাড়া আপনার ইউটিলিটি বিলের একটি কপি দিতে পারেন, না দিলেও সমস্যা নাই।(এটি অপশনাল) এরপর এগুলো ”জমা ‍দিন”।

আপনার আবেদন সঠিকভাবে করা হয়ে থাকলে আপনাকে এখটি অভিনন্দন বার্তা দিবে এবং আপনার মোবাইল ফোনে একটি ম্যাসেজ আসবে। এই ম্যাসেজে আপনার আবেদন এর আইডি থাকবে। এরপর বিকাশ থেকে আপনার আবেদন যাচাই করতে কিছু সময় নিবে। অতঃপর, আপনার আবেদন বাতিল হয়েছে নাকি আপনার একাউন্ট একটিভ হয়েছে সেটি আপনাকে জানিয়ে দিবে বিকাশ থেকে।

আরো পড়ুনঃ বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট খোলার নিয়ম ও সুবিধাসমূহ [year]

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাটাস চেক করার পদ্ধতি

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট
পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট


আপনার বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর আবেদন এর স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন উক্ত পেজে স্ট্যাটাস অপশন থেকে। অর্থাৎ, আপনার আবেদন এপ্রুভ হয়েছে নাকি বাতিল হয়েছে সেটি চেক করতে এই অপশন ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য, আপনার মোবাইল নাম্বার এবং আপনি আবেদন সম্পন্ন করার পর মেসেজের মাধ্যমে যে আবেদন আইডি পেয়েছেন, সেটি দিয়ে “স্ট্যাটাস জানুন” এ ক্লিক করলে আপনার আবেদন এর স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন।

পিন সেটআপ সম্পন্ন করার নিয়ম

এরপর বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর জন্য আপনি পিন নাম্বার সেট করতে চাইলে আপনাকে আপনার মোবাইল থেকে ডায়াল করতে হবে *247# কোডটি। এরপর Activation mobile menu অপশন সিলেক্ট করবেন 1 দিয়ে Send দেয়ার মাধ্যমে। এরপর আপনাকে আপনার একাউন্টের জন্য ৫ ডিজিটের একটি পিন নাম্বার সেট করতে হবে। পিন নাম্বার সেট করা হয়ে গেলে আপনার বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এক্টিভ হয়ে যাবে। এটি আপনার ফোনে ম্যাসেজ আসার ২৪ ঘন্টার মধ্যে করতে হবে।

এড্রেস ভেরিফিকেশন করার নিয়ম

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নিতে গেলে আপনাকে আপনার এড্রেস ভেরিফাই করতে হবে। এড্রেস ভেরিফিকেশনের জন্য আপনার কাছে বিকাশ থেকে একটি চিঠি আসবে। সাধারণত ১-২ কার্যদিবষের মধ্যে আপনার দেয়া ঠিকানায় চিঠি চলে আসবে। চিঠি আপনার ঠিকানায় আসলে সেটি খুলবেন এবং সেখানে একটি কোড এবং একটি লিংক পাবেন।(চিঠি না আসলে আপনার ডাক ঘরে যোগাযোগ করবেন।) সেই লিংক অনুসরণ করে আপনি এড্রেস ভেরিফিকেশনের পেজে পৌছে যাবেন অথবা এই লিংকে ক্লিক করেও পৌছে যাবেন।

উক্ত পেজে আসার পর , আপনার মোবাইল নাম্বার ও বিকাশ থেকে পাঠানো কোডটি এবং আপনার জন্ম তারিখ লিখে দিয়ে ”জমা ‍দিন” বাটনে ক্লিক করবেন। এতে করে আপনার এড্রেস ভেরিফাই হয়ে যাবে।

এপ থেকে লগইন করার নিয়ম

বিকাশ মার্চেন্ট একাউন্ট পরিচালনা, লেনদেন, লেনদেন এর হিস্টোরি দেখার জন্য একটি অ্যাপ আছে। এই bkash merchant অ্যাপ ব্যবহার করে আমরা আমাদের বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এ লগিন করতে পারবো। অ্যাপ ইন্সটল করতে এখানে ক্লিক করুন। এরপর প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ইন্সটল করে নিন। অ্যাপ ওপেন করলে প্রথমে আপনার বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর রেজিস্ট্রেশন করা নাম্বারটি দিবেন। আপনার নাম্বার দেয়ার পর সেই নাম্বারে একটি ওটিপি আসবে। সেটি দিয়ে সাবমিট করবেন।

তারপর আপনার মার্চেন্ট নেম সেট করবেন। এখানে আপনার ব্যবসার নাম কিংবা আপনার ইচ্ছে মতো একটি নাম দিতে পারেন। তবে, ব্যবসার নাম দেয়া সবথেকে ভালো। এরপর আপনার একটি একটিভ ই-মেইল এড্রেস দিবেন। ই-মেইল এড্রেস দেয়ার পর Ok করবেন। এখন আপনার বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এই বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে কন্ট্রোল করতে পারবেন। এরপর অ্যাপ থেকে আপনাকে স্বাগতম জানাবে। নিচের দিকে একটি ”শুরু করুন” বাটন পাবেন, সেখানে ক্লিক করে বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট ব্যবহার করা শুরু করতে পারবেন।

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট সম্পর্কিত প্রশ্ন এবং উত্তর

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টে প্রতি লেনদেনের লিমিট কত?

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের প্রতিটি লেনদেনের লিমিট ৩০,০০০ টাকা।

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করার পর কখন লেনদেন করা যাবে?

একাউন্ট সফলভাবে খোলার সাথে সাথেই আপনি পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট করতে কি কাস্টমার কেয়ারে যাওয়া লাগে?

বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট খোলার জন্য বিকাশ কাস্টমার কেয়ারে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

একাউন্টের পিন ভুলে গেলে করণিয় কি?

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের পিন ভুলে গেলে একাউন্ট খুলতে ব্যবহৃত ফোন নাম্বারটি থেকে ১৬২৪৭ নাম্বারে কল করুন।

পার্সোনাল রিটেইল একাউন্টের সেলফ অনবোর্ডিং টুলে অ্যাক্সেস না পেলে করণিয় কি?

একাউন্ট নাম্বার থেকে ১৬২৪৭ নাম্বারে কল করুন।

শেষ কথা

আজকের এই পোস্টে আমি বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট নিয়ে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর সকল সুবিধা এবং কিভাবে পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর জন্য কিভাবে আবেদন করবেন সেটি বিস্তারিত বুঝতে পেরেছেন। এছাড়াও, বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট নিয়ে যদি আপনার মনে আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে অবশ্যই মন্তব্য করবেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ হাফেয।

1 thought on “বিকাশ পার্সোনাল রিটেইল একাউন্ট এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ”

Leave a Comment