হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণসমূহ জেনে সতর্ক হয়ে যান আজ থেকে

হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পূর্বে হার্ট ব্লক হয়ে যায়। হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণসমূহ দেখে সহজেই হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব। কীভাবে হার্ট ব্লকের লক্ষণ দেখেই হার্ট অ্যাটাক থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব তা নিয়েই আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এছাড়াও, হার্ট ব্লক মানে কী, হার্ট ব্লক কেন হয় এবং এ সম্পর্কিত আরও কিছু বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক।

চর্বিজাতীয় পদার্থ জমা হতে হতে তা আমাদের রক্তনালীর পথ বন্ধ করে দেয়। অর্থাৎ, যে পথ দিয়ে রক্ত আমাদের পুরো শরীরে প্রবাহিত হয়, সেই পথ বন্ধ করে দেয়। এতে করে হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। হার্ট অ্যাটাক হলে বেঁচে যাওয়ার আশংকা অনেক কম হয়ে যায়। কিন্তু, হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পূর্বেই হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। কীভাবে লক্ষণগুলো চিহ্নিত করবেন সেটি নিয়েই আলোচনা করবো এখন।

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

হার্ট ব্লক মানে কী

শরীরের প্রত্যেকটি কোষে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়ার জন্য অসংখ্য রক্তনালি রয়েছে। রক্ত সঞ্চালিত প্রক্রিয়ার কেন্দবিন্দুতে রয়েছে হৃৎপিণ্ড, যা ক্রমাগত সংকোচনের মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ করে থাকে। হৃৎপিণ্ডের কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহের জন্য রক্তনালি রয়েছে, যাদের করোনারি আর্টারি বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের রক্তনালি সংকুচিত হয়ে গেলে অথবা রক্তনালিতে কোলস্টেরল জমে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হলে তাকে হার্ট ব্লক বলা হয়। করোনারি আর্টারিতে সংকোচন বা কোলস্টেরল জমে এ সমস্যার সৃষ্টি বলে মেডিকেলের ভাষায় এটি করোনারি আর্টারি ডিজিস বলা হয়।

হার্ট ব্লক নিয়ে একটি কেস স্টাডি প্রকাশ করে যুগান্তর। যা আমি নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি। হার্ট ব্লক কী কারণে হয় তা এখানে থেকেই জানতে এবং বুঝতে পারবেন।

৪০ বছর বয়স্ক আহসান ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্তে উচ্চমাত্রায় কলস্টেরল রোগে ভুগছেন। তিনি ১০ বছর ধরে ধূমপান করেন। একদিন সকালে পার্কে হাঁটার সময় কিছুক্ষণ পর বুকে চাপ অনুভব করেন। এর পর তিনি ডাক্তারের কাছে যান। ডাক্তার তাকে পরীক্ষা করে ইসিজি ও ইকো রিপোর্ট স্বাভাবিক পান, কিন্তু ইটিটি পজিটিভ হলে এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। এনজিওগ্রামে তার LyCX রক্তনালিতে একটি (৮৫ শতাংশ) ব্লক ধরা পড়ে। – যুগান্তর

হার্ট ব্লক কেন হয়

বিভিন্ন কারণেই হার্ট ব্লক হতে পারে। হার্ট ব্লক হয়ে থাকে এমন কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি। এগুলো থেকে জানতে পারবেন হার্ট ব্লকেজ হওয়ার আসল কারণসমূহ।

  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থাকলে। ডায়াবেটিস রয়েছে কিন্তু তা কন্ট্রোল করে রাখছেন না, এতে করে কিন্তু শুধু ডায়াবেটিস বাড়ছে না, সঙ্গে বাড়ছে হার্ট ব্লকেজ হওয়ার সম্ভাবনা। আর একবার যদি হার্ট ব্লকেজ হয়, তবে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। হার্ট ব্লক হওয়ার পরেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে এবং অধিকাংশ মানুষ এভাবে করে মৃত্যুবরণ করেছেন। ডায়াবেটিস থাকলে তা কন্ট্রোল করে রাখার চেষ্টা করুন।
  • অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ থাকলে। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্ত চাপ হতে পারে হার্ট ব্লক হওয়া এবং হার্ট অ্যাটাক হওয়ার অন্যতম কারণ। রক্ত চলাচলের পথ ব্লক হয়ে গেলেই হার্ট অ্যাটাক হয়। যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্ট ব্লক হয়ে যায়।
  • পর্যাপ্ত মাত্রায় ঘুম না হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। শরীর যদি সঠিক পরিমাণে বিশ্রাম না পায়, তা হলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ভালো মতো হয় না। ফলে স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ বেশি মাত্রায় হয়। হৃদরোগের সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। 
  • ধূমপান করলে। ধুমপায়ী ব্যক্তিদের অধিকাংশই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। ধুম্পানের অভ্যাস অনেকদিন যাবত থাকলে হার্ট ব্লক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকেই অধিক পরিমাণে ধূমপান করার কারণে এবং অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ও অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণে হার্ট ব্লকেজ এ ভুগছেন।
  • রক্তে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকলে। চর্বি বেশি হয়ে তা রক্ত চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে করে হার্ট ব্লক হয়ে থাকে।
  • যেসব খাবারে বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা জমাট বাঁধা চর্বি থাকে, সেসব খাবার খেলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এর ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকিও। চিজ, দই, লাল মাংস, মাখন, কেক, বিস্কুট ও নারিকেল তেলে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে।
  • জেনেটিক (বংশগত) ও পারিবারিক কারণে হার্টের রক্তনালিতে চর্বির আস্তর জমে রক্তনালি ব্লকেজ হতে পারে।

উপরোক্ত কারণেই মূলত হার্ট ব্লক হয়ে থাকে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, রক্ত চাপ বেশি থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করা এবং ধুমপান ছেড়ে দেয়া, এসব কাজ করে হার্ট ব্লক এবং পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়া সম্ভব। তো চলুন, হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণসমূহ জেনে নেয়া যাক।

আরও পড়ুন – মিনি স্ট্রোক এর লক্ষণসমূহ কী কী জেনে নিন

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ দেখেই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়। হার্ট ব্লক থেকেই হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। তাই, যদি কারও হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়, তবে তার হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তা সম্পর্কে প্রায় নিশ্চিত হওয়া যায়। কী কী লক্ষণ দেখে বুঝতে হবে যে হার্ট ব্লক হয়েছে তা নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি।

হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণসমূহ হচ্ছে –

  1. হৃদপিণ্ডে বেশি পরিমাণে ব্লক থাকলে বুকে ব্যথা হয়। আস্তে আস্তে ব্যথা বাম হাতে ছড়িয়ে পড়ে। হাঁটার সময়, সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় বুকে ব্যথা হয়, থামলে ব্যথা কমে যায়।
  2. দম নিতে ও ছাড়তে কষ্ট হয়। অর্থাৎ, নিঃশ্বাস নিতে এবং নিঃশ্বাস ছাড়তে কষ্ট হয় যেন শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। এটিও হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ।
  3. বুকে জ্বালাপোড়া ও ধড়ফড় করে। সবসময় বুক জ্বালাপোড়া করা হার্ট ব্লকেজ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। এমন লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে হবে হার্ট ব্লক হয়েছে বা ধীরে ধীরে সেই পথেই যাচ্ছে।
  4. গলা, কপাল ও মাথা ঘাম হওয়া। গরমে ঘাম বা কাজ করার সময় ঘাম না। সর্বদা ঘাম ছুটে থাকে হার্ট ব্লক হলে। এটি দেখেও হার্ট ব্লকেজ হয়েছে কী না জানা যায়।
  5. নিচের দিকে হেলে কিছু করার ও একটু ভারী কিছু বহনের সময় কষ্ট হয়। যেকোনো ভারী কাজ করতেও কষ্ট হয়।
  6. খাবার হজম না হওয়ার মতো অস্বস্তি লাগে।

উপরোক্ত সব লক্ষণ দেখা যায় হার্ট ব্লকেজ হওয়ার পর। হার্ট ব্লকেজ হয়েছে কী না জানার জন্য এসব উপসর্গ চিহ্নিত করতে হবে।

আরও পড়ুন – ব্রেন স্ট্রোক এর লক্ষণসমূহ কী কী জেনে রাখা জরুরী

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস অ্যাকাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ সমূহ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আশা করছি পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়েছেন। হার্ট ব্লকেজ হওয়ার পর হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাক থেকে বাঁচতে হার্ট ব্লকেজ হওয়ার লক্ষণগুলো জেনে রাখা জরুরী। আরও এমন বিভিন্ন স্বাস্থ্য বিষয়ক পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন। আল্লাহ্‌ হাফেয।

Leave a Comment