সুবহানাল্লাহ অর্থ কি? সুবহানাল্লাহ কখন বলতে হয়

সুবহানাল্লাহ অর্থ কি এবং সুবহানাল্লাহ কখন বলতে হয় এ বিষয় নিয়ে আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ এবং সুবহানাল্লাহ বলার ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। একজন মুসলিম হয়ে থাকলে, আপনি নিশ্চয়ই জীবনে অনেকবার সুবহানাল্লাহ বলেছেন। কিন্তু, এমন অনেকেই আছেন, যারা সুবহানাল্লাহ শব্দের বাংলা অর্থ জানেন না।

মহান আল্লাহ্‌ তায়ালার উদ্দেশ্যে আমরা সুবহানাল্লাহ বলে থাকি। তো চলুন, কেন এবং সুবহানাল্লাহ কখন বলতে হয়, এই শব্দের ফজিলত কি এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

সুবহানাল্লাহ অর্থ কি
সুবহানাল্লাহ অর্থ কি

সুবহানাল্লাহ অর্থ কি

সুবহানাল্লাহ (Subhan Allah) একটি আরবি শব্দ। সুবহানাল্লাহ অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ মহিমান্বিত” । এটি একটি ইসলামিক শব্দ যা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এবং পবিত্রতার স্বীকৃতি হিসাবে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ্‌ তায়ালার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করার জন্য মুসলিমরা সুবহানাল্লাহ বলে থাকে। জিকির করার সময় সুবহানাল্লাহ বলা হয়। এতে করে, আল্লাহ্‌র প্রতি মনে ভীতি তৈরি হয় এবং আল্লাহ্‌র ইবাদত করতে মনের মাঝে ইচ্ছে জাগ্রত হয়।

উদাহরণস্বরূপ, কেউ যখন সুন্দর বা বিস্ময়কর কিছু দেখে, যখন সুবহানাল্লাহ বলে আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকে।

সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ কি

সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে “আল্লাহ্‌ মহিমান্বিত” । আল্লাহ্‌ মহান বা আল্লাহ্‌ সবার উর্ধে বোঝাতেও সুবহানাল্লাহ বলা হয়ে থাকে। সাবাহ ( سَبَحَ ) শব্দ থেকে সুবহান শব্দের উৎপত্তি। সাবাহ ( سَبَحَ ) শব্দের অর্থ হচ্ছে মহিমান্বিত করা বা মহিমান্বিত। সুবহান আল্লাহ্‌র শব্দের অর্থ দ্বারায় আল্লাহ্‌ মহিমান্বিত । আল্লাহ্‌ তায়ালার একাত্মতা বা আল্লাহ্‌ এক এবং অদ্বিতীয়, মহা ক্ষমাশীল, ইত্যাদি বোঝাতে সুবহানাল্লাহ বলা হয়ে থাকে।

সুবহানাল্লাহ বলে জিকির করা হয়ে থাকে। নামাজ পড়া শেষে ৩৩ বার কিংবা ১০০ বার সুবহানাল্লাহ পড়তে হয়। এতে করে, মনে প্রশান্তি আসে, আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। এছাড়াও, কোনো ভালো খবর শুনলে সুবহানাল্লাহ পড়া হয়ে থাকে।

সুবহানাল্লাহ এর ফজিলত

সুবহানাল্লাহ শব্দটি বলার অনেক ফজিলত রয়েছে। জিকির করার সময় সুবহানাল্লাহ বলুন, কিংবা এমনিতেই সুবহানাল্লাহ বলুন, আল্লাহ্‌র মাহাত্ম প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে যদি সুবহানাল্লাহ বলেন, তবে সাওয়াব আপনি পাবেনই। এছাড়াও, সুবহানাল্লাহ বলার কারণে আমাদের জান্নাত যাওয়ার পথ সুগম হবে। সুবহানাল্লাহ পড়ে জিকিরে মশগুল থাকা উচিত। নিচে সুবহানাল্লাহ বলার কিছু ফজিলত উল্লেখ করে দিলাম।

একবার সুবহানাল্লাহ বলার ফজিলত

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا حَبَّانُ بْنُ هِلاَلٍ، حَدَّثَنَا أَبَانٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، أَنَّ زَيْدًا، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَلاَّمٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي مَالِكٍ الأَشْعَرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ الطُّهُورُ شَطْرُ الإِيمَانِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلأُ الْمِيزَانَ ‏.‏ وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ تَمْلآنِ – أَوْ تَمْلأُ – مَا بَيْنَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ وَالصَّلاَةُ نُورٌ وَالصَّدَقَةُ بُرْهَانٌ وَالصَّبْرُ ضِيَاءٌ وَالْقُرْآنُ حُجَّةٌ لَكَ أَوْ عَلَيْكَ كُلُّ النَّاسِ يَغْدُو فَبَائِعٌ نَفْسَهُ فَمُعْتِقُهَا أَوْ مُوبِقُهَا ‏”‏ ‏.

আবূ মালিক আল আশ’আরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক অংশ। ‘আলহাম্‌দু লিল্লা-হ’ মিযানের পরিমাপকে পরিপূর্ণ করে দিবে এবং “সুবহানাল্লা-হ ওয়াল হাম্‌দুলিল্লা-হ” আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী স্থানকে পরিপূর্ণ করে দিবে। ‘সলাত’ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি। ‘সদাকাহ্’ হচ্ছে দলীল। ‘ধৈর্য’ হচ্ছে জ্যোতির্ময়। আর ‘আল কুরআন’ হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে প্রমাণ স্বরূপ। বস্তুতঃ সকল মানুষই প্রত্যেক ভোরে নিজেকে ‘আমালের বিনিময়ে বিক্রি করে। তার ‘আমাল দ্বারা সে নিজেকে (আল্লাহর ‘আযাব থেকে) মুক্ত করে অথবা সে তার নিজের ধ্বংস সাধন করে।

সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৪২২

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

৩৩ বার সুবহানাল্লাহ বলার ফজিলত

হাদিস নং ১

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ فَاطِمَةَ ـ عَلَيْهِمَا السَّلاَمُ ـ شَكَتْ مَا تَلْقَى فِي يَدِهَا مِنَ الرَّحَى، فَأَتَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم تَسْأَلُهُ خَادِمًا، فَلَمْ تَجِدْهُ، فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَلَمَّا جَاءَ أَخْبَرَتْهُ‏.‏ قَالَ فَجَاءَنَا وَقَدْ أَخَذْنَا مَضَاجِعَنَا، فَذَهَبْتُ أَقُومُ فَقَالَ ‏”‏ مَكَانَكِ ‏”‏‏.‏ فَجَلَسَ بَيْنَنَا حَتَّى وَجَدْتُ بَرْدَ قَدَمَيْهِ عَلَى صَدْرِي فَقَالَ ‏”‏ أَلاَ أَدُلُّكُمَا عَلَى مَا هُوَ خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ، إِذَا أَوَيْتُمَا إِلَى فِرَاشِكُمَا، أَوْ أَخَذْتُمَا مَضَاجِعَكُمَا، فَكَبِّرَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَسَبِّحَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، وَاحْمَدَا ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ، فَهَذَا خَيْرٌ لَكُمَا مِنْ خَادِمٍ ‏”‏‏.‏ وَعَنْ شُعْبَةَ عَنْ خَالِدٍ عَنِ ابْنِ سِيرِينَ قَالَ التَّسْبِيحُ أَرْبَعٌ وَثَلاَثُونَ‏.‏

আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত : একবার গম পেষার যাঁতা ঘুরানোর কারণে ফাতেমাহ (রাঃ) এর হাতে ফোস্কা পড়ে গেল। তখন তিনি একটি খাদিম চেয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) -এর কাছে এলেন। কিন্তু তিনি তাঁকে পেলেন না। তখন তিনি আসার উদ্দেশ্যটি ‘আয়িশাহ (রাঃ) -এর নিকট ব্যক্ত করে গেলেন। এরপর তিনি যখন গৃহে ফিরলেন তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) এ বিষয়টি তাঁকে জানালেন। তারপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের কাছে এমন সময় আগমন করলেন যখন আমরা বিশ্রাম গ্রহণ করেছি। তখন আমি উঠতে চাইলে তিনি বললেনঃ নিজ স্থানেই অবস্থান কর।

তারপর আমাদের মাঝখানেই তিনি এমনিভাবে বসে গেলেন যে, আমি তার দু’পায়ের শীতল স্পর্শ আমার বুকে অনুভব করলাম। তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাদের এমন একটি ‘আমাল বলে দেব না, যা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক উত্তম। যখন তোমরা শয্যা গ্রহণ করতে যাবে, তখন তোমারা আল্লাহু আকবর ৩৩ বার, সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আল্‌হামদু লিল্লাহ ৩৩ বার পড়বে। এটা তোমাদের জন্য একটি খাদিমের চেয়েও অনেক অধিক কল্যাণকর। ইবনু সীরীন (রহঃ) বলেনঃ তাসবীহ হলো ৩৪ বার।

সহীহ বুখারী হাদিস নং ৬৩১৮

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

হাদিস নং ২

وَعَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللّهِ ﷺ: مُعَقِّبَاتٌ لَا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ أَوْ فَاعِلُهُنَّ دُبُرَ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوْبَةٍ: ثَلَاثٌ وَثَلَاثُوْنَ تَسْبِيحَةً ثَلَاثٌ وَثَلَاثُونَ تَحْمِيدَةً وَأَرْبَعٌ وَثَلَاثُوْنَ تَكْبِيرَةً . رَوَاهُ مُسْلِمٌ

কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত : তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু, আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, প্রতি ফারয সলাতের পর পাঠ করার মতো কিছু কালিমাহ আছে যেগুলো পাঠকারী বা আমালকারী বঞ্চিত হয় না। সে কালিমাগুলো হলো: ‘সুবহা-নাল্লা-হ’ তেত্রিশবার, ‘আলহামদু লিল্লাহ’ তেত্রিশবার ও ‘আল্ল-হু আকবার’ চৌত্রিশবার করে পড়া।

মিশকাত হাদিস নং ৯৬৬

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

সুবহানাল্লাহ ১০০ বার পড়ার ফজিলত

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ، وَعَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، – وَاللَّفْظُ لَهُ – حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مُوسَى الْجُهَنِيُّ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ، كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ‏”‏ أَيَعْجِزُ أَحَدُكُمْ أَنْ يَكْسِبَ كُلَّ يَوْمٍ أَلْفَ حَسَنَةٍ ‏”‏ ‏.‏ فَسَأَلَهُ سَائِلٌ مِنْ جُلَسَائِهِ كَيْفَ يَكْسِبُ أَحَدُنَا أَلْفَ حَسَنَةٍ قَالَ ‏”‏ يُسَبِّحُ مِائَةَ تَسْبِيحَةٍ فَيُكْتَبُ لَهُ أَلْفُ حَسَنَةٍ أَوْ يُحَطُّ عَنْهُ أَلْفُ خَطِيئَةٍ ‏”‏ ‏.‏

মুসআব ইবনু সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃতিনি বলেন, আমার পিতা (সা‘দ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন যে, তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে (বসা) ছিলাম। তখন তিনি বললেন, তোমাদের মাঝে কেউ কি প্রতিদিন এক হাজার পুণ্য হাসিল করতে অপারগ হয়ে যাবে? তখন সেখানে বসে থাকদের মধ্য থেকে এক প্রশ্নকারী প্রশ্ন করল, আমাদের কেউ কিবাবে এক হাজার পুণ্য হাসিল করবে, তিনি বললেন, সে একশ তাসবীহ (সুবহানাল্ল-হ) পাঠ করলে তার জন্য এক হাজার পুণ্য লিখিত হবে এবং তার আমালনামা হতে এক হাজার পাপ মুছে দেয়া হবে।

সহীহ মুসলিম হাদিস নং ৬৭৪৫

হাদিসের মানঃ সহিহ হাদিস

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে সুবহানাল্লাহ অর্থ কি, সুবহানাল্লাহ কখন বলতে হয়, সুবহানাল্লাহ শব্দের অর্থ কি এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, পোস্টটি থেকে সুবহানাল্লাহ শব্দের ফজিলত এবং আমল করার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এমন আরও ইসলামিক পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

Leave a Comment