যাকাত কাকে বলে? যাকাত কত প্রকার ও কি কি?

যাকাত কাকে বলে – যাকাত আরবি শব্দ যার অর্থ হলো পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া,  পরিপূর্ণ হওয়া ইত্যাদি। ইসলামের ৫টি মূল স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। ইসলামে যাকাতের গুরুত্ব অধিক হওয়ায় পবিত্র কোরআন শরিফে নামাজের পর অধিক সংখ্যক বার যাকাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন মজিদে ৩২ বার যাকাত শব্দটি উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যাকাত কে প্রত্যেক সামর্থবান মুসলিম নর- নারীর উপর ফরজ করা হয়েছে এবং যে ব্যক্তি যাকাত প্রদানে অসীকার করবে তাকে কাফের বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইওহা থেকে আমরা খুব সহজেই যাকাতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি। 

যাকাত কি?

ইসলামের ৫টি মূল স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি। হিজরি ২য় সনে যাকাতের প্রবর্তন করা হয়। কোন মুসলিম নর-নারী যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে উক্ত ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ। কিন্তু যাকাত সকলের উপর ফরজ নয়। কিছু শর্ত সাপেক্ষে যাকাত ফরজ হয়। 

যাকাত-কাকে-বলে
যাকাত কাকে বলে

যাকাত কাকে বলে? 

যাকাত কাকে বলে – যাকার আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, বিশুদ্ধতা, বৃদ্ধি পাওয়া ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী যে সকল মুসলিম ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক সেই সকল ব্যক্তির সম্পদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থাৎ শতকরা ২.৫ শতাংশ হারে গরীব দু:খীদের মাঝে দান করাকে যাকাত বলে। 

আবার কোন কোন ইমামগনের মতে, যেমন ইমাম ইবনু তাইমিয়ার এর মতে ” যা প্রদান করার মাধ্যমে মন ও আত্মার পবিত্রতা লাভ হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং সম্পদ পরিচ্ছন্ন হয় তাকে যাকাত বলে। 

ইমাম নববী (রা:) এর মতে ধন সম্পদ হতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বের করাকে যাকাত বলে। 

সুতরাং যাকাত হলো ব্যক্তি ও মালামাল পবিত্র করার একটি মাধ্যম। যা প্রদান করলে মাল কমে না বরং বাড়ে। তাই আমাদের সকলের উচিত ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যথাযথ ভাবে যাকাত প্রদান করা। এছাড়া কোরআন মজিদে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে কোন মুসলমান যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও যাকাত প্রদান না করে তাকে মুশরিক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 

আমরা মুশরিক না হয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে আল্লাহর দেয়া বিধান অনুযায়ী যাকাত প্রদান করব।

আরো পড়ুন- যাকাত দেওয়ার নিয়ম

যাকাত কত প্রকার ও কি কি

যাকাত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধতা, বৃদ্ধির পাওয়া। 

আল্লাহ তায়ালা যাকাতের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরান মজিদে অসংখ্য জায়গায় প্রায় ৩২ জায়গায় যাকাতের কথা উল্লেখ করেছেন। আমরা এখন জানব যাকাত কত ধরনের বা কত প্রকার ও কি কি?  

যাকাত চার ধরনের বা প্রকারের হয়ে থাকে।

১। ফসলের যাকাত- ফসলের যাকাত প্রদানের জন্য শরিয়তের নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ ফসল হলে যাকাত প্রদান করতে হবে। 

২। গবাদি পশুর যাকাত- গবাদি পশুর যাকাত প্রদানের জন্য শরিয়তের নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ গবাদি পশু থাকলে যাকাত দিতে হবে।

৩। সোনা বা রুপার যাকাত- অর্থাৎ শরিয়তে নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ সোনা রুপা থাকলে যাকাত প্রদান করতে হবে। 

৪। রোজার যাকাত- মূলত এই যাকাতকে সদকাতুল ফিতর বা যাকাতুল ফিতর বলা হয়। এই চার প্রকার যাকাতকে মূলত যাকাতের ধরণ বা প্রকার হিসেবে গন্য করা হয়। 

যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত কয়টি

ইসলামের মুল ৫টি স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি। ইসলামে নামাজ, রোজা, হজ্জ পালনের জন্য কতগুলো শর্ত মেনে চলতে হয়। যাকাত ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম নয়। যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য কতগুলো শর্ত প্রযোজ্য রয়েছে। নামাজ আদায়ের সাথে বান্দার মনস্তাত্ত্বিক বিষয় জড়িত আর যাকাত এর ক্ষেত্রে বান্দার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা জড়িত। গরীব মানুষের জন্য যাকাত ফরজ নয়। যাকাত ফরজ ধনবান বিত্তশালী মুসলমানদের জন্য।  নিচে যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য ১০টি শর্ত বর্ণিত হলো-

১। মুসলিম হওয়া– যাকাত ফরজ হওয়ার ১ম শর্ত হলো মুসলমান হওয়া। ধনবান বিত্তশালী মুসলমানদের উপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে। যাকাত ফরজ হওয়ার প্রধান শর্তই হলো মুসলমান হওয়া। কোন অমুসলিম ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ নয়।

২। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া-যাকাত ফরজ হওয়ার ২য় শর্ত হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া। অর্থাৎ সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা এর সমপরিমাণ টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হলে তাকে ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাকাত প্রদান করতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হলে তার উপর যাকাত ফরজ নয়। 

৩। বালেগ হওয়া অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া– যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য আরেকটি শর্ত হলো পূর্ণবয়স্ক হওয়া। যাকাত প্রদান করতে হলে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক ও জ্ঞান থাকতে হবে। নাবালক এর জন্য যাকাত ফরজ নয়। 

৪। বিবেক ও বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়া– যাকাত প্রদান করতে হলে তাকে বিবেক ও বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ হতে হবে। পাগলের উপর যাকাত ফরজ নয়। পাগল যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক ও হয় তবুও তার উপর যাকাত ফরজ নয়।  তবে কিছু কিছু মাযহাব মতে পাগল যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর যাকাত ফরজ হবে। সেই ক্ষেত্রে তার অভিভাবকগণ তা আদায় করবে। 

৫। স্বাধীন হওয়া– যাকাত ফরজ হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো স্বাধীন হওয়া। কোন দাস-দাসীর উপর যাকাত ফরজ নয়।

৬। সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকা– যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত হলো যে সম্পদের উপর যাকাত ফরজ হবে ওই সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকতে হবে অর্থাৎ ভোগ দখলের পূর্ণ অধিকার থাকতে হবে। অন্যথায় যাকাত ফরজ হবে না।

৭। সম্পদ বর্ধনযোগ্য হওয়া– যাকাত দেওয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো দরিদ্রকে সহযোগিতা করা এবং তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা। কিন্তু আল্লাহ চান না যে কোন ব্যক্তি যাকাত দিতে গিয়ে দারিদ্র হয়ে যাক। কোন ব্যক্তির সম্পদ যদি বর্ধনশীল না হয় তাহলে বছরের পর বছর যাকাত প্রদানের ফলে সেই ব্যক্তির সম্পদ নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই কোন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে তার সম্পদ বর্ধনশীল হওয়া অপরিহার্য।

৮। সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত হওয়া– যাকাতের অন্যতম শর্ত হলো যাকাতের সম্পদ মৌলিক প্রয়োজনের থেকে অতিরিক্ত হওয়া। নিত্য প্রয়োজনীয় সম্পদের উপর যাকাত ফরজ নয়। তাই যে ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ রয়েছে সেই ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ।

৯। সম্পদ ঋণ মুক্ত হওয়া– যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে সম্পদ ঋণ মুক্ত হতে হবে। ঋণ পরিশোধ করার পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ মজুদ থাকে তবে সেই সম্পদের যাকাত প্রদান করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণের প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন যদি কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্থ থাকে তাহলে সে প্রথমে ঋণ পরিশোধ করবে তারপর যাকাত প্রদান করবে।

১০। সম্পদ পূর্ণ এক বছর মালিকানায় থাকা। কোন ব্যক্তির সম্পদ যদি হিজরি ১ বছরের কম সময় তার মালিকানায় থাকে তবে সেই ব্যক্তির ওপর যাকাত ফরজ নয়। এ শর্তটি ব্যক্তির নগদ অর্থ, সোনা-রুপা, ব্যবসায়িক মালামালসহ যাবতীয় সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

আরো পড়ুন- বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়

যাকাত কাকে দেওয়া যাবে বা যাকাত প্রদানের খাত কয়টিঃ 

যাকাত কাকে দেওয়া যাবে বা যাকাত প্রদানের খাত কয়টি প্রশ্ন দুটি দুরকম হলেও ভাবার্থ মূলত একই। যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু খাত রয়েছে সাধারণত সেই খাত গুলোতে যাকাত প্রদান করা হয়। চাইলেই যে কেউ যাকাত গ্রহণ করতে পারে না বা সকলকে যাকাত প্রদান করাও যাবেনা। যাকাত কাদেরকে দেওয়া যাবে অর্থাৎ যাকাত প্রদানের খাত সংখ্যা মূলত আটটি। মূলত আটটি খাতের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিগণকে যাকাত প্রদান করা হয়। নিম্নে যাকাত প্রদানের খাত গুলো উল্লেখ করা হলোঃ-

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মাজীদে যাকাত প্রদানের ৮টি খাতের কথা উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِيْنِ وَالْعَامِلِيْنَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوْبُهُمْ وَفِيْ الرِّقَابِ وَالْغَارِمِيْنَ وَفِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَابْنِ السَّبِيْلِ فَرِيْضَةً مِّنَ اللهِ وَاللهُ -عَلِيْمٌ حَكِيْمٌ

নিশ্চয়ই সাদকাহ (যাকাত) হচ্ছে ফকীর ও মিসকীনদের জন্য এবং এতে নিয়োজিত কর্মচারীদের জন্য, আর যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য; (তা বণ্টন করা যায়) দাস আযাদ করার ক্ষেত্রে, ঋণগ্রস্তদের মধ্যে, আল্লাহর রাস্তায় এবং মুসাফিরদের মধ্যে। এটি আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত, আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়’ ( সূরা তওবা, আয়াত ৬০ )। যাকাত প্রদানের আটটি খাত নিম্নরূপঃ-

১। ফকির- যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম ফকির অর্থাৎ যিনি একবারে নিঃস্ব যার কোন সামর্থ্য নেই তার কথা উল্লেখ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময়ই দারিদ্র থেকে আশ্রয় পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন। আল্লাহ তাআলা সদকার ব্যাপারে কোরআন মাজিদে বলেন,

– إِنْ تُبْدُوْا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ وَإِنْ تُخْفُوْهَا وَتُؤْتُوْهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَكُمْ

অর্থঃ তোমরা যদি প্রকাশ্যে সাদকাহ প্রদান কর তবে উহা ভাল, আর যদি তা গোপনে কর এবং দরিদ্রদের কে দাও তা তোমাদের জন্য আরো ভাল (সূরা বাকারা, আয়াত ২৭১)।

২। মিসকিন- যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে ৮টি খাতের মধ্যে দ্বিতীয় খাতে আল্লাহ তায়ালা মিসকিনের কথা উল্লেখ করেছেন। এখন কথা হলো মিসকিন কারা ? মিসকিন হল সেই সকল ব্যক্তি যারা নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে না আবার অন্যের কাছে নিজের দারিদ্র্যের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না। যাদেরকে দেখলে মনে হয় তারা সচল এমন ব্যক্তিই হল মিসকিন। সুতরাং যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে যাকাতের দ্বিতীয় খাটটিতে যাকাত প্রদান করতে হলে খুব ভালোভাবে খুঁজে খুঁজে এমন মিসকিনকে বের করে যাকাত প্রদান করতে হবে। মিসকিন সম্পর্কে হাদিসে বর্ণিত আছে, 

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সেই ব্যক্তি মিসকিন নয় যে একটু খাবারের জন্য, কয়েকটি খেজুরের জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায় যা তাকে দেয়া হলে সে ফিরে আসে। বরং মিসকিন হল সেই ব্যক্তি যার প্রয়োজন মেটানোর মত সামর্থ্য নেই অথচ তাকে চেনাও যায় না যাতে লোকে তাকে সদকা করতে পারে এবং সে নিজেও মানুষের নিকট কিছু চাইতে পারে না।

৩। যাকাত আদায়কারী বা প্রতিষ্ঠান- আল্লাহ তায়ালা যাকাত প্রদানের তৃতীয় খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন সেই ব্যক্তির কথা যে ব্যক্তি যাকাত আদায় করে। অর্থাৎ যাকাত আদায় করার কাজে কোন ব্যক্তি যদি নিয়োজিত থাকে তাহলে ওই ব্যক্তিকে যাকাতের অংশ প্রদান করা যাবে। হাদিসে বর্ণিত আছেঃ-

ইবনু সায়েদী আল-মালেকী (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) আমাকে যাকাত আদায়কারী হিসাবে নিযুক্ত করেছিলেন। যখন আমি আমার কাজ শেষ করলাম এবং তাঁর নিকট পৌঁছে দিলাম তখন তিনি নির্দেশ দিলেন আমাকে পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য। তখন আমি বললাম, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এই কাজ করেছি। সুতরাং আমি আল্লাহর নিকট থেকেই এর প্রতিদান নিব। তখন তিনি বললেন, আমি যা দিচ্ছি তা নিয়ে নাও। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সময় যাকাত আদায়কারীর কাজ করেছি। তখন তিনিও আমাকে পারিশ্রমিক প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন আমিও তোমার মত এরূপ কথা বলেছিলাম। রাসূল (সাঃ)আমাকে বলেছিলেন, যখন তুমি না চাওয়া সত্ত্বেও তোমাকে কিছু দেওয়া হয়, তখন তুমি তা গ্রহণ কর। তুমি তা নিজে খাও অথবা সাদকাহ্ কর।

৪। ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য কোন অমুসলিমকে যাকাত প্রদান- অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা যাকাতের ৪ নাম্বার খাতে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অমুসলিমকে যাকাত প্রদান করার কথা বলেছেন। যাতে করে একজন অমুসলিম ব্যক্তি ইসলামের পথে আকৃষ্ট হয়।

৫। দাস মুক্তির জন্য যাকাত প্রদান- যারা কোন চুক্তির মাধ্যমে দাসে পরিণত আছে তাদেরকে তার মালিকের নিকট থেকে ক্রয় করে মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ প্রদান করা যায়। 

৬। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান- কোন ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হয়ে থাকে এবং সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো যদি তার সামর্থ্য না থাকে তবে তাকে সেই ঋণ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে যাকাত প্রদান করা যাবে।

৭। আল্লাহর রাস্তায় জেহাদকারী ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান- অর্থাৎ যাকাত প্রদানের ৭ নম্বর হল আল্লাহর রাস্তায় যারা আছে, আল্লাহর দ্বীন প্রচারের কাজে যারা নিয়োজিত ব্যক্তি তাদেরকে যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে। হাদিসে বর্ণিত আছে,

আতা ইবনু ইয়াসার (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, সম্পদশালী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ হালাল নয়। তবে পাঁচ শ্রেণীর ব্যক্তির জন্য তা জায়েয। (১) আল্লাহর পথে জিহাদরত ব্যক্তি। (২) যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী। (৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। (৪) যে ব্যক্তি যাকাতের মাল নিজ মাল দ্বারা ক্রয় করেছে এবং (৫) মিসকীন প্রতিবেশী তার প্রাপ্ত যাকাত থেকে ধনী ব্যক্তিকে উপঢৌকন দিয়েছে।

৮। মুসাফির ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান- যাকাত প্রদানের সর্বশেষ অর্থাৎ ৮ নাম্বার খাতটি হলো মুসাফির ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান। যদি কোন মুসাফির ব্যক্তির টাকা ফুরিয়ে যায় তাহলে তাকে যাকাত প্রদান করার মাধ্যমে তাকে  তার খরচ প্রদানের মাধ্যমে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে যাকাত প্রদান করতে হবে। যদিও সেই মুসাফির ব্যক্তি ধনী হয় অর্থাৎ তার বাসায় অনেক টাকা থাকে এমনও হয়।

যাকাত আদায় করা কি?

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে প্রতি বছরে তার সম্পত্তির শতকরা ২.৫০% হারে নির্দিষ্ট খাতে অর্থাৎ গরিব দুখির মাঝে দান করাকে যাকাত বলে। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি শরীয়তে নির্দিষ্ট নিসাব পরিমান অর্থাৎ ৭.৫তোলা স্বর্ণ বা ৫২.৫০ তোলা রুপা কিংবা সমপরিমাণ মূল্যের টাকা বা ব্যবসার মালের মালিক হয় তাহলে তার সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরজ। আবার কোন ব্যক্তি যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া স্বত্বেও যাকাত প্রদান না করে থাকেন তাহলে তাদেরকে কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মুশরিক বলে আখ্যায়িত করেছেন। সুতরাং সমাজে যারা ধনী মানুষ তাদের প্রত্যেকের উচিত যাকাত প্রদান করা।

যাকাত কাকে বলে  FAQ

যাকাত কি?

যাকাত আরবী শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি। যদি কোন মুসলিম নর-নারীর কাছে ১ বছর সময় ধরে নিসাব পরিমাণ সম্পদ জমা থাকে তাহলে শরিয়াতের নিয়মানুযায়ী শতকরা ২.৫% হারে গরীব মিসকিনদের মাঝে বিতরণ করাই হলো যাকাত।

যাকাত শব্দের অর্থ কি?

যাকাত আরবী শব্দ। যার অর্থ হলো পরিপূর্ণতা, পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি।

বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়?

যদি কোন ব্যক্তি বর্তমান সোনার দাম অনুসারে যাকাত দিতে চাই তাহলে তাকে ছয় লক্ষ টাকার মালিক হতে হবে। আর যদি রুপার দাম অনু্যায়ী যাকাত দিতে চাই তাহলে তাকে ৬০ হাজার টাকার মালিক হতে হবে।

যাকাত কাকে বলে সম্পর্কে শেষ কথা

পরিশেষে বলবো আপনারা যারা সমাজে ধনী বা বৃত্তশালী ব্যাক্তি আছেন তারা সবাই ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী যাকাত প্রদান করবেন। যাকাত প্রদানের মাধ্যমে গরিব মানুষকে সহায়তা করার মাধ্যমে সমাজ থেকে গরিব দুঃখী দূর হয়। যাকাত প্রদান করলে সম্পদ কমে না বরং সম্পদ বৃদ্ধি পায়। যাকাত দিলে আত্মার পবিত্রতা লাভ হয়, সম্পদ পরিচ্ছন্ন হয়। কিছু শর্তসাপেক্ষে আল্লাহ তায়ালা ধনী ব্যক্তিদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন। সুতরাং আমাদের সকলের উচিত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে যাকাত প্রদান করা এবং যাকাতের মাধ্যমে গরীব দুঃখীদের দুঃখ বিমোচন করা। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে যাকাতের গুরুত্ব অনুধাবন করতঃ যাকাত আদায়ের তৌফিক দান করুক আমিন।

Leave a Comment