মাশাআল্লাহ অর্থ কি? মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয়?

মাশাআল্লাহ অর্থ কি এবং মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয় এ বিষয় নিয়ে আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। মাশাআল্লাহ শব্দের অর্থ অনেকেই জানেন না। আবার, অনেকেই জানেন না যে, মাশাআল্লাহ কখন বলা উচিত। এই ব্লগ পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে মাশাআল্লাহ মানে কী এবং কখন বলতে হবে এ বিষয়ে জানতে পারবেন।

আমরা অনেক সময় মাশাআল্লাহ, সুবহানআল্লাহ্‌, আলহামদুলিল্লাহ ইত্যাদি শব্দ বলি। কিন্তু, অনেকেই জানি না যে, এই শব্দগুলোর আসল অর্থ কি। কেন এই শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি উদ্দেশ্য আমাদের সকলেরই জানা আছে, তা হচ্ছে আল্লাহ্‌কে রাজি-খুশি করার জন্য এবং সাওয়াব অর্জন করার জন্য।

কিন্তু, এই শব্দগুলোর অর্থ অনেকেই জানি না। তো চলুন, এই পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। মাশাআল্লাহ অর্থ কি এবং মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয়।

মাশাআল্লাহ অর্থ কি

মাশাআল্লাহ (مَا شَاءَ ٱللّٰهْ) একটি আরবি শব্দ। অনেকেই বাংলায় এটি মাশা’আল্লাহও লিখে থাকেন। মাশাআল্লাহ অর্থ হচ্ছে আল্লাহ্ যা ইচ্ছে করেছেন বা আল্লাহ্‌র যা ইচ্ছে হয়েছে করেছেন। অর্থাৎ, অতীতকালে কোনো কিছু ঘটে থাকলে, সেটি ভালো হোক কিংবা খারাপ, আল্লাহ্‌ তায়ালা তা আমাদের কল্যাণের জন্যই করেছেন এটা ভেবে মাশাআলাহ বলা হয়।

মাশাআল্লাহ অর্থ কি
মাশাআল্লাহ অর্থ কি

আল্লাহ্‌ যা করেন তার বান্দার ভালোর জন্যই করেন। মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা সর্বোত্তম জ্ঞানী। তাই, তিনি আমাদের জন্য যা ভালো মনে করেন, তাই করেন। এটা ভেবেই মাশাআল্লাহ বলা হয়। যেমন – কেউ যদি পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে কিংবা কোনো ভালো চাকুরি পায়, তবে মাশাআল্লাহ বলা হয়। কারণ, আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের জন্য সবথেকে সেরা জিনিস বেঁছে রেখেছেন।

প্রশংসা, তৃপ্তি, আনন্দ ইত্যাদি বোঝাতে মাশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যেমন – তরকারি যদি সুন্দর হয়, তবে মাশাআল্লাহ বলা হয়, দেখতে সুন্দর হলে মাশাআল্লাহ বলা হয়, আহার করার পর তৃপ্তি পেলে মাশাআল্লাহ বলা হয়। আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের জন্য সেরা জিনিস বেঁছে রেখেছেন, এটি বোঝাতে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য মাশাআল্লাহ শব্দ ব্যবহৃত হয়।

মাশাআল্লাহ শব্দের অর্থ কি?

মাশাআল্লাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ্‌ যা করেন ভালোর জন্য করেন বা আল্লাহ্‌ যা করেছেন আমাদের ভালোর জন্য করেছেন। যখন কোনো ঘটনা ঘটে তখন আল্লাহ্‌র প্রতি ভরসা রাখার জন্য এবং আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য মাশাআল্লাহ বলা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন – ছাগল দিয়ে আকিকার নিয়ম

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ছেলে যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে, রোজা রাখে, তবে তার আমল করা দেখে মাশাআল্লাহ বলা যেতে পারে। কেউ যদি কোনো বিপদের হাত থেকে বেঁচে যায়, তবে মাশাআল্লাহ্‌ বলা হয়। কেউ যদি চাকরি পায়/পরিক্ষায় ভালো রেজাল্ট করে, কোনো খুশির খবর, ইত্যাদির ক্ষেত্রে মাশাআল্লাহ বলতে হয়।

মাশাআল্লাহ্‌ শব্দের বাংলা অর্থ কি?

মাশাআল্লাহ্‌ শব্দটি আরবি। এর বাংলা অর্থ হল “আল্লাহ যা চেয়েছেন” বা “আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তাই হয়েছে”। এটি সাধারণত কোনও ভাল জিনিস দেখলে বা শুনলে বলা হয়। এটি একটি প্রশংসামূলক বাক্য যা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলা হয়ে থাকে। এটি কোনও ব্যক্তি বা জিনিসকে খারাপ নজর থেকে রক্ষা করার জন্যও বলা হয়।

মাশাআল্লাহ্‌ শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন:

  • তুমি খুব সুন্দর দেখাচ্ছ! মাশাআল্লাহ্‌!
  • তোমার নতুন গাড়িটা খুব সুন্দর! মাশাআল্লাহ্‌!
  • তোমার পরীক্ষার ফল খুব ভালো হয়েছে! মাশাআল্লাহ্‌!
  • তুমি খুব সফল হয়েছে! মাশাআল্লাহ্‌!
  • আমি তোমার জন্য খুব খুশি! মাশাআল্লাহ্‌!

মাশাআল্লাহ্‌ শব্দটি একটি সুন্দর এবং মধুর শব্দ। এটি আমাদেরকে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে সাহায্য করে।

মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয়

“মাশাআল্লাহ” শব্দটি কখন বলা উচিত, সে সম্পর্কে ইসলামী স্কলারদের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু স্কলার বলেছেন যে “মাশাআল্লাহ” শব্দটি শুধুমাত্র আল্লাহর সৃষ্টিকে দেখেই বলা উচিত, যেমন মানুষের চেহারা, প্রাণী, গাছপালা, ইত্যাদি। অন্যরা বলেছেন যে “মাশাআল্লাহ” শব্দটি মানুষের কর্ম, যেমন সাফল্য, সুখ, ইত্যাদি দেখেও বলা যেতে পারে।

আরও পড়ুন – রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ এবং ৭টি মূল কারণ

আমি মনে করি যে “মাশাআল্লাহ” শব্দটি সবসময়ই বলা উচিত, যখনই আমরা কোনও ভাল জিনিস দেখি বা শুনি। এটি আমাদেরকে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে এবং আমাদের জীবনের ভাল জিনিসগুলি উপভোগ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদেরকে খারাপ নজর থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে।

মাশাআল্লাহ বলতে পারেন এমন কিছু বিষয় নিচে তালিকা আকারে উল্লেখ করে দিলাম।

  • অন্যের নতুন বাড়ি, গাড়ি, বা অন্যান্য সম্পদ দেখে।
  • অন্যের সন্তানের জন্ম দেখে।
  • অন্যের বিয়ে দেখে।
  • অন্যের চাকরি বা ব্যবসায় সাফল্য দেখে।
  • অন্যের সুন্দর চেহারা বা ব্যক্তিত্ব দেখে।
  • অন্যের কোনও ভাল কাজ দেখে।
  • কাউকে আল্লাহ্‌র ইবাদতে মশগুল থাকতে দেখে।
  • আল্লাহ্‌র তৈরি সুন্দর সৃষ্টি দেখে।
  • কারও সফলতা দেখে মাশাআল্লাহ বলা যায়।

মাশাআল্লাহ এর জবাবে কি বলতে হয়

আমরা সকলেই মাশাআল্লাহ বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি। এটি আমাদেরকে আরও বেশি কৃতজ্ঞ মানুষ হতে এবং আমাদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে।

কেউ যদি আপনার সফলতা, কাজ দেখে মাশাআল্লাহ বলে, তখন আপনিও তার উত্তরে কিছু আরবি শব্দ বলতে পারেন। যেমন:

  • ওয়ামা শাআল্লাহ (আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন)
  • বারাকাল্লাহ ফিক (আল্লাহ তোমার মধ্যে বরকত দান করুন)
  • লাইক (আপনিও)
  • ঝুকরিয়াহ (আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ)
  • ঝুকরিয়াহ লাক (আমি তোমার জন্য কৃতজ্ঞ)

মাশাল্লাহ শব্দ নিয়ে কিছু কথা

মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয় এ বিষয় নিয়ে অনেকের মাঝেই মতবাদ রয়েছে। তবে, মাশাআল্লাহ বলার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। এতে করে, আমরা যেমন সাওয়াব অর্জন করতে পারি, তেমনি আল্লাহ্‌কে খুশি করতে পারি। আল্লাহ্‌ তায়ালা খুশি হলে জান্নাত যাওয়ার পথে আর কোনো বাধা থাকবে না।

প্রতিটি মুসলিম জান্নাত যেতে চায়। তাই, আমাদের সকলের উচিত বেশি বেশি ইবাদতে মশগুল থাকা। আল্লাহ্‌র নামে জিকির করা, নামাজ আদায় করা, রোজা রাখা, যাকাত দেয়া এবং কুরবানি করা। এছাড়াও, অন্যের ভালো কাজ দেখে প্রশংসা করা বা মাশাআল্লাহ বলা। এছাড়াও, গরিব-দুঃখীদের সাধ্যমতো সাহায্য করা।

ইহকালে ভালো কর্ম করে যেতে পারলে পরকালে রয়েছে আমাদের জন্য অনন্তকালের জান্নাত। যেখানে আমরা আজীবন থাকবো। এছাড়াও, যা ইচ্ছে খেতে চাইবো আল্লাহ্‌ আমাদের জন্য তাই তৈরি করে রেখেছেন। জান্নাত পেতে হলে আল্লাহ্‌কে পেতে হবে। জান্নাতের মালিক মহান আল্লাহ্‌কে পেয়ে গেলে জান্নাত এমনিতেই পেয়ে যাবো। তাই, বেশি বেশি ইস্তেগফার পড়া উচিত এবং আল্লাহ্‌র কাছে তার দেয়া নিয়ামত এর জন্য শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে মাশাআল্লাহ অর্থ কি এবং মাশাআল্লাহ কখন বলতে হয় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে থাকলে মাশাআল্লাহ শব্দ কখন বলতে হবে এবং মাশাআল্লাহ শব্দের উত্তরে কী বলতে হবে জানতে পেরেছেন। এমন আরও ইসলামিক পোস্ট পড়তে ইসলাম ও জীবন ক্যাটাগরি ভিজিট করতে পারেন।

Leave a Comment