মহিলাদের নামাজের নিয়ম এবং নামাজ আদায়ের সহিহ পদ্ধতি

প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য নামাজ পড়া ফরজ। এই পোস্টে আপনাদের সাথে মহিলাদের নামাজের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করবো। পুরুষের নামাজ আদায় করার নিয়ম এবং মহিলাদের নামাজ আদায় করার নিয়মের মাঝে কিছু তফাৎ রয়েছে। কী কী তফাৎ রয়েছে এসব বিষয় নিয়েই আজ আলোচনা করবো।

একজন মেয়ের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি জানা না থাকলে পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ুন। এতে করে, নামাজ আদায় করার পদ্ধতি এবং নামাজের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তো চলুন, পোস্টের মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক।

নামাজ কী?

নামাজ হচ্ছে ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি। এটি মুসলমানদের জন্য প্রতিদিন পাঁচবার অবশ্য পালনীয় একটি ফরজ ইবাদত। নামাজ হলো আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার একটি উপায়। নামাজ মুসলমানদেরকে তাদের আত্মাকে শুদ্ধ করতে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য পেতে সাহায্য করে। নামাজ মুসলমানদেরকে একটি সঠিক জীবনযাপন করতে এবং তাদের ঈমানকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

নামাজ বা সালাত একই শব্দ। একটি আরেকটির পারিভাষিক শব্দ। নামাজ শব্দের অর্থ দোয়া, ক্ষমা প্রার্থনা, রহমত ইত্যাদি। নামাজের আরবি হলো সালাত। পারিভাষিক ভাবে ইসলামী শরীয়ত নির্দেশিত নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহ্‌র প্রতি একান্ত বিশ্বাসের সহিত বিশেষ প্রার্থনা বা ইবাদত করাই হচ্ছে সালাত আদায় করা বা নামাজ পড়া।

মহিলাদের নামাজের নিয়ম

মহিলাদের নামাজের নিয়ম
মহিলাদের নামাজের নিয়ম

পুরুষ এবং নারীর মাঝে শারীরিক পার্থক্য থাকার কারণে নামাজ আদায়ের মাঝেও কিছু পার্থক্য বিদ্যমান। নামাজ আদায় করার সময় পুরো শরীর নড়াচড়া করতে হয়। একারনে, নামাজ আদায় করতে মেয়েদের জন্য কিছু আলাদা নিয়ম রয়েছে।

নামাজ আদায় করার সময় মেয়েদের অবশ্যই সতর ঢাকতে হবে পূর্ণাঙ্গ ভাবে। পাক-পবিত্র হতে হবে। এছাড়া, পুরুষরা নামাজ আদায় করবে মসজিদে উপস্থিত হয়ে জামায়াতের সাথে। কিন্তু, মহিলাদের নামাজের নিয়ম অনুযায়ী তাদের নিজ কক্ষে সালাত আদায় করা উত্তম।

মেয়েদের নামাজ আদায় করার সময় অবশ্যই বড় ওড়না বা হিজাব নিতে হবে। তাকবিরে তাহরিমা বলার সময় হাত ওড়নার বাইরে নেয়া যাবে না। এছাড়াও আরও কিছু নিয়ম রয়েছে। চলুন, মহিলাদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি জেনে নেয়া যাক।

মহিলাদের নামাজ আদায়ের পদ্ধতি

মহিলাদের নামাজ আদায়ের নিয়ম মেনেই নামাজ আদায় করতে হয়। নামাজ আদায় করতে, প্রথমেই পাক পবিত্র হতে হবে। সতর ঢাকতে হবে পূর্ণাঙ্গভাবে। এরপর, নামাজের জায়গা যেন পাক-পবিত্র হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। অপবিত্র কাপড় পরিধান করে নামাজ আদায় হবে না। তাই, পবিত্র কাপড় পরিধান করতে হবে।

এরপর, কিবলামুখি হয়ে নামাজের জন্য নিয়ত করতে হবে। মহিলারা নামাজের ওয়াক্ত হলেই আজান বা ইকামত ছাড়া নামাজ আদ্যা করতে পারে। তবে পুরুষের ক্ষেত্রে নামাজের জন্য আজান শুনে এবং জামাতের সহিত নামাজ আদায় করতে হবে।

তাকবিরে তাহরিমা – আল্লাহু আকবার বলে নামাজ শুরু করবে। পুরুষদের মতো করে নাভির উপরে হাত না বেধে বুকের উপরে হাত বাধতে হবে। এরপর, সানা পড়তে হবে এবং সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। সূরা ফাতিহা পড়ার পর যেকোনো সূরা মিলাতে হবে। এরপর, সূরা ফাতিহার সঙ্গে যেকোনো সূরা মেলাতে হবে। সূরা-তসবিহ পড়ার সময় উচ্চ শব্দ করা যাবে না। নিঃশব্দে সূরা-কেরাত পড়তে হবে। সূরা পাঠ সম্পন্ন হলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে যাওয়ার আগে আল্লাহু আকবার বলতে হবে।

রুকুতে যাওয়ার সময় সম্পূর্ণ হেলবে না। রুকুতে গিয়ে হাত হাঁটুতে রাখার সময় হাতের আঙ্গুল ছড়িয়ে না রেখে একসাথে রাখতে হবে। রুকুতে থাকা অবস্থায়, সুবাহানা রাব্বিয়াল আজিম পড়বে। এরপর, সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ পড়ে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পর, রাব্বানা লাকাল হামদ পড়বে। অতঃপর, সিজদায় চলে যাবে।

সিজদায় গিয়ে জড়সড় হয়ে সিজদা করতে হবে। পুরুষদের মতো করে কোমড় উঁচু করে সিজদা করা যাবে না। সিজদাতে পেট উরুর সঙ্গে লাগিয়ে রাখবে। কনুই মাটিতে বিছিয়ে রাখবে। বাহু শরীরের সঙ্গে লেগে থাকবে। হাঁটুর কাছাকাছি সিজদা করবে। দু’পা ডান দিকে বের করা থাকবে। বসার সময়ও দুই পা ডান দিকে বের করে দিবে।

এভাবে করে দুই রাকাত করে যত রাকাত ইচ্ছে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মহিলা এবং পুরুষদের নামাজ আদায় করার মাঝে পার্থক্য এতটুকুই। মহিলাদের নামাজের নিয়মগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করে আপনিও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে পারেন, যদি আপনি একজন মেয়ে হন।

পুরুষ এবং মহিলার নামাজের পার্থক্য

পুরুষ এবং মহিলাদের নামাজের নিয়ম এর মাঝে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এমন কিছু পার্থক্য নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি।

  • তাকবির দেয়ার সময় পুরুষ তার কানের লতি অব্দি দুই হাত উঠাবে। কিন্তু, মেয়েদের ক্ষেত্রে তারা তাদের দুই হাত তাকবির দেয়ার সময় কাধ অব্দি উথাবে।
  • পুরুষেরা তাকবির দেয়ার পর দুই হাত নাভির উপরে বাধে। মেয়েরা তাকবিরে তাহরিমা বলার পর দুই হাত বুকের উপর বাধবে।
  • মহিলারা রুকুতে গিয়ে হাত হাঁটুতে রাখার সময় হাতের আঙ্গুল ছড়িয়ে না রেখে একসাথে রাখবে। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে আঙ্গুল ফাঁকা রাখলে সমস্যা নেই।
  • সিজদাহ করার সময় পুরুষের হাটু থেকে পেট আলাদা থাকবে এবং হাতের কনুই থেকে কব্জি অব্দি মাটি স্পর্শ করবে না। মহিলাদের ক্ষেত্রে জড়সড় হয়ে পেট হাটুর সাথে মিলিয়ে থাকবে এবং উভয় হাতের কনুই মাটির উপর সমানভাবে রেখে শরীরের সাথে মিশিয়ে সিজদাহ দিতে হবে।
  • প্রতি দুই রাকাত নামাজ আদায় করার পর বৈঠকে বসার সময় পুরুষ তার বাম পায়ের উপর বসবে এবং ডান পা দাঁড় করিয়ে রেখে ডান পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী করে রাখবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে, তারা দুই পা একত্রে করে ডান পার্শে রাখবে।

পুরুষ এবং মহিলাদের নামাজের নিয়ম এর মাঝে এগুলোই আসল পার্থক্য। এছাড়া, নামাজ আদায় মহিলা এবং পুরুষের মাঝে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। এসব পার্থক্য মেনে পুরুষের মতো পুরো নামাজ আদায় করতে পারবেন একজন নারী। নামাজ আদায় করার জন্য নিজের কামড়া বেছে নেয়া উত্তম হবে।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে মহিলাদের নামাজের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, এই পোস্ট থেকে আপনারা মেয়েদের নামাজ আদায়ের সহিহ নিয়ম সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। আমরা এই ওয়েবসাইটে এমন ইসলামিক পোস্ট প্রতিনিয়ত পাবলিশ করে থাকি। আপনি চাইলে আমাদের ওয়েবসাইট ঘুরে দেখতে পারেন। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আল্লাহ্‌ হাফেয।

Leave a Comment