বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয় ২০২৩

বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়যাকাত আরবী শব্দ যার অর্থ হলো “পরিশুদ্ধকরণ, পবিত্র করা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত হওয়া ইত্যাদি ”। বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয় সেই বিষয়টি জানা জরুরী কারণ যাকাত সবার উপর ফরজ নয়। যদি কোন মুসলিম নর-নারীর হিজরী বছর শেষান্তে সকল প্রয়োজনীয় খরচ করার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হয়।

এখন আমরা জানব নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত? নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো সাড়ে বায়ান্ন তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ। বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী সাড়ে সাত তোলা সোনার দাম প্রায় ছয় লক্ষ টাকা এবং সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দাম ৬০ হাজার যদি কারোর কাছে এই পরিমাণ অর্থ জমা থাকে তাহলে তাকে যাকাত দিতে হবে।

যাকাত কি?

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম। পবিত্র কোরআন শরীফে যাকাত এর কথা ৩২ বার উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাকাতকে সম্পদশালী মুসলিমদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। যদি কোন মুসলিম এর নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর সময় পর্যন্ত জমা থাকে তবে তাকে শতকরা ২.৫ শতাংশ হারে যাকাত দিতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ।

বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়
বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়

যাকাতের গুরুত্ব

যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা কিন্তু যাকাত প্রদান ব্যতীত এই পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। ইসলাম এমন কোন সমাজ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে যে একজন অঢেল সম্পত্তির মালিক হবে আর তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকবে। এই জন্য ইসলামে যাকাত প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে। ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোন্ ব্যক্তি সম্পদশালী হলে তাকে যাকাত প্রদান করতে হবে এবং হজ্জ পালন করতে হবে এবং এটা ফরজ। এটা অস্বীকার করলে সে মুসলিম থাকবে না কাফের হয়ে যাবে।

সূরা বাকারার ৪৩ আয়াতে উল্লেখ রয়েছে, “তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় করো এবং রুকু কর রুকুকারীদের সঙ্গে”। বখারী শরীফ ১৪০১ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে, মহানবী (সা.) বলেন, তাদের মধ্যে যারা ধনী তাদের থেকে সম্পদ গ্রহণ করা হবে। আর তাদের মধ্যে যারা দরিদ্র তাদের মধ্যে সম্পদ বন্টন করতে হবে।

ইসলাম চাই ধনী-গরীব সবাই সুখে স্বাচ্ছন্দে এবং সুন্দরভাবে জীবন যাপন করুক। এই বিত্তশালীদের নিয়মিত এবং সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করতে হবে। এই সকল কারণে ইসলামে যাকাত প্রদানের গুরুত্ব অপরিসীম।

আরো পড়ুন- যাকাত দেওয়ার নিয়ম

নিসাব পরিমাণ কি?

যে পরিমাণ সম্পদ থাকলে যাকাত প্রদান করতে হয় সেই পরিমাণই হচ্ছে নিসাব পরিমান। ইসলামের দৃষ্টিতে একজন ব্যক্তির নিকট যদি সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বাহান্ন তোলা রুপা থাকে অথবা সেই পরিমাণ অর্থ মজুএ থাকে তাহলে সেটা হলো নিসাব পরিমাণ সম্পদ। হিসাব পরিমান সম্পদ যদি কোন ব্যক্তির কাছে এক বছর থাকে তাহলেই তাকে যাকাত দিতে হবে।

যাকাত ফরজের শর্ত কয়টি?

ইসলামে যাকাত একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত। এই জন্য যাকাতকে ফরজ করা হয়েছে কিন্তু যাকাত সকলের উপর ফরজ নয়। যাকাত ফরজ হওয়ার কতগুলো শর্ত রয়েছে। চলুন সেই শর্তগুলো জেনে নেই-

  1. নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে।
  2. নিসাব পরিমান সম্পদ ১ বছর নিজের কাছে থাকা। সেটা চন্দ্র বছর হতে হবে।
  3. সম্পদের মালিক নিজে হওয়া।
  4. সেই সম্পত্তি হতে হবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত।
  5. বেশি পরিমাণ ঋণ না থাকে।

এই পাঁচটি শর্তের মধ্যে যদি কোন শর্ত কারোর মাঝে ঘাটতি থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ফরজ হবে না।

আরো পড়ুন- যাকাত শব্দের অর্থ কি

কত টাকার কত যাকাত?

নিসাব পরিমাণ সম্পদ যদি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আপনার কাছে মজুদ থাকে তাহলে আপনাকে যাকাত প্রদান করতে হবে। তবে যাকাত প্রদানের কিছু নিয়ম এবং পরিমাণ রয়েছে। যাকাতের পরিমাণ হচ্ছে ২.৫ শতাংশ (২.৫%) বা ১/৪০ অংশ। তার মানে কারো কাছে যদি এক লক্ষ টাকা থাকে তাহলে তাকে ২৫০০ টাকা যাকাত প্রদান করতে হবে। এই অনুপাতে তার নিসাব পরিমাণ সম্পদের যাকাত প্রদান করতে হবে।

কোন হিজরীতে যাকাত ফরজ করা হয়

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। কোন নারী-পুরুষ যদি এক বছর সময় পর্যন্ত নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক থাকে তাহলে সেই সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ গরিব-দুঃখীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে হয়। এই বিলিয়ে দেওয়ার বিধানকে যাকাত বলা হয়। তবে শর্ত থাকে যে সেই সম্পদ হিজরি এক বছর সময় তার কাছে মজুদ থাকতে হবে এবং সম্পদের মালিক তাকে নিজেই হতে হবে। দ্বিতীয় হিজরী থেকে যাকাত মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়।

বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়

আমরা অনেকেই জানি না যে, সম্পদের যাকাত না দিলে সেই সম্পদ হারাম হয়ে যায়। এছাড়া সম্পদের যাকাত দিলে সম্পদের বরকত হয়, সম্পদ বৃদ্ধি পায়। যাকাত প্রদান করা একটা ফরজ ইবাদত। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয় সেই বিষয়ে।

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামে যাকাত প্রদানের একটি পরিপূর্ণ বিধান রয়েছে এছাড়া কত সম্পদ থাকলে যাকাত দিতে হয় সেই সম্পর্কে ও বলা আছে। যদি কোন ব্যক্তির নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ হিজরী এক বছর সময় প্রয়োজনীয় খরচ করার পর মজুদ থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ হয় এবং তাকে যাকাত দিতে হবে।

নিসাব পরিমাণ সম্পদ হলো সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা। যদি এই পরিমাণ অর্থ কারো কাছে এক বছর সময় মজুদ থাকে তাহলে যাকাত ফরজ হবে। যদি কেউ বর্তমান সোনার দাম অনুসারে যাকাত দিতে চাই তাহলে তাকে ছয় লক্ষ টাকার মালিক হতে হবে।

আর যদি কেউ রুপার দাম অনু্যায়ী যাকাত দিতে চাই তাহলে তাকে ৬০ হাজার টাকার মালিক হতে হবে। উল্লেখ্য যে, সেই টাকার মালিক সে নিজে হতে হবে এবং তার কাছে সেই টাকা হিজরী এক বছর সময় থাকতে হবে। এছাড়া সেই টাকা তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত হতে হবে। তাহলেই কেবল সেই সম্পদ এর যাকাত ফরজ হবে।

কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ

ইসলামিক একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এখানে জীবনের সকল কিছুর সুষ্ঠ দিক নির্দেশন বিদ্যমান। অনেকের জানার আগ্রহ, কোন কোন সম্পদের উপর যাকাত ফরজ। যে সকল সম্পদের উপর যাকাত ফরজ তা নিম্ন তুলে ধরা হলো:

  1. সোনা ও রুপার অলংকার
  2. নগদ অর্থ
  3. মূল্যবান ধাতু
  4. বাণিজ্যিক পণ্য
  5. উৎপাদিত কৃষি ফসল
  6. পশু সম্পর্কে। ৪০টি ওপর ছাগল বা ভেড়া এবং ৩০টির উপর গরু মহিষ থাকলে যাকাত দিতে হবে।

সাধারণত এসব জিনিসের  যাকাত প্রদান করতে হয়। তবে যাকাতের পরিমাণ উপরে আলোচনা করা হয়েছে। সেই হিসাবে যদি আপনার সম্পদ থাকে তাহলে যাকাত প্রদান করতে হবে।

১ ভরি স্বর্ণের যাকাত কত ২০২৩?

যদি কোন ব্যক্তির নিকট ৭.৫ ভরি বা তার থেকে বেশি পরিমাণ স্বর্ণ থাকে তাহলে তাকে যাকাত প্রদান করতে হবে। অনেকেই প্রশ্ন করে ১ ভরি স্বর্ণের যাকাত কত? তবে এটা সঠিক ভাবে বলা দুস্কর। কারণ, স্বর্ণের বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। বাংলাদেশে তিন ধরনের সোনা পাওয়া যায়। নিম্নে ১ ভরি স্বর্ণের যাকাতের পরিমান তুলে ধরা হলো:

স্বর্ণের ধরনবাজার মূল্য১ ভরি স্বর্ণের  যাকাত
২২ ক্যারেট১,০০,৭৭৬.০০২৫১৯
২১ ক্যারেট৯৬২২৮.০০২৪০৫
১৮ ক্যারেট৮২,৪৬৪.০০২০৬১
গড়৯৩,১৫৬.০০ (প্রায়)২৩২৮ প্রায়

বর্তমানে ১ ভরি স্বর্ণের যাকাত প্রায় ২৩২৮ টাকা। তবে স্বর্ণের বাজার সব সময় এক থাকেনা। এই কারণে যাকাতের পরিমাণও কম বেশি হয়ে থাকে।

কারা যাকাত নিতে পারবে?

যারা সম্পদশালী তাদের উপর যাকাত ফরজ করা হয়েছে। তবে যাকাত যাদেরকে দেওয়া যাবে বা কারা যাকাত নিতে পারবে সেই ক্ষেত্রে কিছু বিধান রয়েছে। যে কোন ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করা যাবে না। যে সকল ব্যাক্তিরা যাকাত পাবার যোগ্য বা হকদার কেবলমাত্র তাদেরকেই যাকাত প্রদান করতে হবে। যে সকল ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করা যাবে তা নিম্নে তুলে ধরা হলো:

  1. ফকির
  2. অভাবগ্রস্ত মিসকিন
  3. ঋণগ্রস্ত ব্যাক্তি
  4. দাস মুক্তির জন্য
  5. বিপদগ্রস্ত মুসাফির
  6. নও মুসলিম
  7. যাকাত আদায়কারী

সাধারণত এই সকল ব্যক্তিদেরকে যাকাত প্রদান করা হয়। তারাই যাকাতের সঠিক ব্যাক্তি। এছাড়াও আত্মীয় স্বজনের মধ্যে যদি কেউ ঋণগ্রস্ত থাকে তাহলে তাকেও যাকাত প্রদান করতে পারেন।

বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয় FAQ

যাকাতের বিবরণ কবে প্রকাশিত হয়

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন বিধান। এখানে একজন মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কিভাবে জীবন যাপন করবে তার সবকিছুই আলোচনা করা হয়েছে। ইসলামের বিধান সম্পূর্ণভাবে কায়েম করলে কোন দেশে কোন ধরনের সমস্যা থাকবে না। ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম।

হিজরী দ্বিতীয় সনে যাকাতের বিবরণী প্রকাশ করা হয়। সেখানে যাকাত সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্যাদি বর্ণনা করা হয়। যাকাত প্রদান করলে সম্পদের বৃদ্ধি হয়। এলাকায় গরীব মিসকিন যারা রয়েছে তারাও উপকৃত হয়।

যাকাত কাকে দিতে হবে স্বামী নাকি স্ত্রী?

আমাদের সমাজে যাকাত নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। যাকাত কাকে দিতে হবে স্বামী নাকি স্ত্রী? এটা সম্পূর্ণ ডিপেন্ড করে সম্পদের মালিকানার উপর। যদি স্বামী সম্পদের মালিক হয় তাহলে স্বামী সম্পদের যাকাত দিবে।

আর যদি সম্পদের মালিক স্ত্রী হয় তাহলে তার সম্পদের যাকাত তাকে দিতে হবে। এখানে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যে ব্যক্তি যাকাত দেওয়ার মত সম্পদের মালিক তাকেই যাকাত প্রদান করতে হবে।

শেষ কথা: বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়

যাকাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যদি কোন ব্যক্তির নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকার পরেও সেই ব্যক্তি যাকাত প্রদান না করে তাহলে সেই ব্যক্তি আর মুসলিম থাকবে না, কাফের হয়ে যাবে। কারণ, ইসলামের ৫টি মূল স্তম্ভের মধ্যে যাকাত একটি। এই কারনে যাকাত প্রাদানের মতো অর্থ সম্পদ থাকলে যাকাত প্রদান করতে হবে।

যাকাত দিলে সম্পদ পবিত্র এবং বৃদ্ধি পায়। যাকাত দিলে সম্পদ কমে না। ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করলে অবশ্যই যাকাত প্রদান করতে হবে। বর্তমান সময়ে যদি সোনার হিসাবে কোন ব্যক্তি যাকাত প্রদান করতে চাই তাহলে তার কাছে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মত থাকতে হবে।

এবং সেই টাকা হিজরি এক বছর তার কাছে থাকতে হবে। সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

Leave a Comment