ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ?

ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ জানার জন্য আগ্রহী হলে আপনাকে আজকের এই পোস্টে স্বাগতম। যারা ফরেক্স ট্রেডিং করতে আগ্রহী, তাদের মাঝে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন রয়েছে। এটি হচ্ছে , ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ? বাংলাদেশে বৈধ নয় এমন কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। তাই, ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করার আগে সবাই জেনে নিতে চায় যে, ফরেক্স ট্রেডিং বাংলাদেশে বৈধ কি না। আপনিও যদি ফরেক্স ট্রেডিং এ আগ্রহী হয়ে থাকেন এবং আপনার মনেও যদি একই প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে উত্তর পেয়ে যাবেন।

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ফরেক্স ট্রেডিং কি, ফরেক্স ট্রেডিং করে কীভাবে টাকা ইনকাম করা যায়, ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ নাকি, এ সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আলোচনা করবো। তো চলুন, শুরু করা যাক।

ফরেক্স ট্রেডিং কি?

ফরেক্স (Forex) বলতে ফরেন কারেন্সি এক্সেচেইঞ্জ বা বৈদেশিক মুদ্রা রদবদল বুঝানো হয়। উদাহরণ হিসেবে, একটি দেশের মুদ্রাকে যখন অন্য কোনো দেশের মুদ্রার সাথে রদবদল করা হয়, তখন তাকে ফরেক্স এক্সচেঞ্জ বলে। সংক্ষেপে যাকে বলা হয় ফরেক্স (Forex) বা এফএক্স (FX) । এটি বিশ্বের বৃহত্তম মুদ্রাবাজার যেখানে একটি মুদ্রা বিপরীত কোন মুদ্রার সাথে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত বিনিময় মূল্যের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্টক একচেঞ্জ কর্তৃক অনুমোদিত আন্তর্জাতিক মানের গ্লোবাল অনলাইন ও অফলাইন ব্রোকার হাউজের মধ্যস্থতায় ট্রেড বা কেনা-বেচা হয়ে থাকে। ফরেক্স মার্কেট মুদ্রা বাজার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এটি শুধুমাত্র মুদ্রা বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। বর্তমানে ফরেক্স মার্কেটে বিশ্বের বৃহত্তম সকল কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য উপাদান সমূহ কেনা-বেচা হয়ে থাকে।

ফরেক্স ট্রেডিং কিভাবে কাজ করে?

আমরা বাংলাদেশে বাস করি এবং আমাদের দেশের মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা। বাংলাদেশি টাকা কিন্তু পুরো বিশ্বের মুদ্রা না। তাই, আমরা অন্য কোনো দেশে ভ্রমণ করি কিংবা অন্য দেশ থেকে কোনো পন্য ক্রয় করি, তখন আমাদের উক্ত দেশের মুদ্রা প্রয়োজন হবে। কিন্তু আমাদের কাছে তো আছে বাংলাদেশি টাকা। সেক্ষেত্রে আমাদের কাছে থাকা টাকাকে উক্ত দেশের সমান মুদ্রায় পরিণত করে নিতে পারি ফরেক্স ট্রেডিং এর সাহায্যে।

ফরেক্স মার্কেট এর সবচেয়ে সেরা সুবিধা হলো ফরেন এক্সচেঞ্জের জন্য কোনো কেন্দ্রীয় মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজন পড়েনা। ফরেন এক্সচেঞ্জ ইলেকট্রনিক্যালি পরিচালিত হয়, ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) এর মাধ্যমে।

ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল?

আমাদের দেশে অধিকাংশ মুসলিম বাস করে। মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত না কোনো হারাম উপার্জন গ্রহণ করা। তাই, আমাদের যেকোনো ইনকাম সোর্স থেকে উপার্জন শুরু করার আগে এটা জেনে নেয়া উচিত যে, উক্ত কাজটি হারাম নাকি হালাল। হারাম কাজ থেকে উপার্জন করলে সেটি আমাদের ইহকাল এবং পরকাল এর জন্য শুধু পাপ এবং দুরাবস্থা বয়ে আনবে। ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করার আগে তাই অনেকেই প্রশ্ন করে থাকে, ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল? ফরেক্স ট্রেডিং হালাল নাকি হারাম এ বিষয়ে অনেকের বিভিন্ন মতভেদ রয়েছ।

ফরেক্স ট্রেডিং পুরোপুরি হারাম নয়, যদি না আপনি এখান থেকে Interest গ্রহন করেন। ফরেক্স ট্রেডিং হারাম এবং হালাল নিয়ে অনেক যুক্তিতর্ক থাকলেও ফরেক্স ট্রেডিং অনেক মুসলমান ব্যাক্তি শরীয়তের নিয়ম মেনে করে থাকেন। আপনি যদি ফরেক্স ট্রেডিং এর ট্রেডের উপর কোনো ধরণের সুদ না গ্রহন করে ট্রেড করেন তাহলে আপনার ট্রেডিং হারাম হবে না। যেমন- আপনি যদি নিচে দেয়া ইমেজ এর মতো গুগলে সার্চ করেন, Is forex trading halal , তবে সেখানে দেখতে পাবেন –

In general, forex trading is halal as long as it is conducted within certain guidelines. These guidelines include: No interest-based transactions.

অর্থাৎ, আপনি যদি ফরেক্স ট্রেডিং থেকে কোনো প্রকার সুদ গ্রহণ না করেন, তবে সেটি হালাল। সুদ সর্বদাই হারাম। ফরেক্স ট্রেডিং করে সেখানে থেকে সুদ গ্রহণ করলে আপনার আয়ের সম্পূর্ণ টাকাই হারাম হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন – ফরেক্স ট্রেডিং কি? ফরেক্স ট্রেডিং কিভাবে করে?

ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ?

ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ
ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ

বাংলাদেশে বৈধ নয় এমন কাজ করা আইনত দণ্ডনীয়। তাই, ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করার আগে সবাই জেনে নিতে চায় যে, ফরেক্স ট্রেডিং বাংলাদেশে বৈধ কি না। বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) বাংলাদেশে ফরেক্স লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে। শুধুমাত্র বাংলাদেশী ব্যাংক এবং তাদের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জাররা FX লেনদেন করতে পারে। আইনে বলা হয়েছে যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত দালালরা ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট ১৯৪৭ এর অধীনে এফএক্স পণ্য বিক্রি করতে পারে। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের সাথে সাধারণ মানুষ বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন করার জন্য অনুমোদিত নয়।

ফরেক্স ট্রেডিং অনেক দ্রুত গ্রো করা একটি সেক্টর। পূর্বে ফরেক্স ট্রেডিং শুধুমাত্র মুদ্রা বাজার হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, এখন এটি শুধুমাত্র মুদ্রা বাজারে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই ফরেক্স ট্রেডিং করে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা রেমিটেন্স হিসেবে দেশে নিয়ে আসছে। তাই অনেকেই নতুন করে ফরেক্স ট্রেডিং এর উপর আগ্রহী হচ্ছে। এজন্য অনেকেই গুগলে সার্চ করে থাকে এবং ফরেক্স ট্রেডারদের থেকে জানতে চায়, ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ? উত্তর হচ্ছে – বাংলাদেশ ব্যাংক ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ন্ত্রন করে। শুধুমাত্র বাংলাদেশী ব্যাংক এবং তাদের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জাররা FX লেনদেন করতে পারে।

তাই, আপনি যদি বাংলাদেশে বৈধভাবে ফরেক্স ট্রেডিং শুরু করতে চান, তবে আপনাকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর অনুমতি নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এর অনুমতি ছাড়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত এক্সচেঞ্জার ছাড়া অন্য কেউ ফরেক্স ট্রেডিং করতে পারবে না। করলে সেটি বাংলাদেশে অবৈধ হিসেবে গন্য হবে।

ফরেক্স একাউন্ট

ফরেক্স অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করা হয়। লট সাইজের উপর নির্ভর করে তিন ধরনের ফরেক্স একাউন্ট হয়ে থাকে। যেমন :

  1. মাইক্রো ফরেক্স অ্যাকাউন্টঃ এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়
  2. মিনি ফরেক্স অ্যাকাউন্টঃ এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়
  3. স্ট্যান্ডার্ড ফরেক্স অ্যাকাউন্টঃ এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১০০,০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়।

ফরেক্স ট্রেডিং এর ঝুঁকি

ফরেক্স ট্রেডিং এ ঝুঁকি রয়েছে। ফরেক্স ট্রেডিং মার্কেটপ্লেস সর্বদা উঠানামা করে থাকে। তাই এই সেক্টরে ঝুঁকি আছে জেনেই নামতে হবে। কারণ, মার্কেটপ্লেস কখন উঠবে বা নামবে সেই একমাত্র অভিজ্ঞ ট্রেডার বলতে পারবে। এছাড়াও, ঝুঁকি যেখানে বেশি আয় সেখানে তত বেশি। ফরেক্স ট্রেডিং এ মার্কেটপ্লেস উপরের দিকে উঠলে ইনকাম অনেক বেশি হবে। ফরেক্স ট্রেডিং এর খুঁটিনাটি সম্পর্কে ভালোভাবে বিস্তারিত জেনে তবেই এই সেক্টরে পা বাড়াতে হবে।

ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ – FAQ

ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে অনেকের মনে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। নিম্নে আমি এমন কিছু প্রশ্নের উত্তর দিবো। এতে করে, আপনার যদি ফরেক্স সমন্ধে কোনো প্রশ্ন থাকে বা কীভাবে ফরেক্স ট্রেডিং করতে হয় এমন কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে, তবে উত্তর পেয়ে যাবেন।

ফরেক্স একাউন্ট কয় ধরনের?

ফরেক্স ট্রেডিং করতে হলে আমাদের ফরেক্স একাউন্ট তৈরি করতে হবে। ফরেক্স একাউন্ট তৈরি না করলে আমরা ফরেক্স ট্রেডিং করতে পারবো না। আপনি যদি ফরেক্স একাউন্ট তৈরি করতে চান, তবে ফরেক্স একাউন্ট কয় ধরণের সেটা জেনে নেয়া প্রয়োজন। ফরেক্স একাউন্ট মূলত লট সাইজ এর উপর নির্ভর করে থাকে। লট সাইজ অনুযায়ী ফরেক্স একাউন্ট ৩ ধরণের হয়ে থাকে। এগুলো হচ্ছে : মাইক্রো ফরেক্স একাউন্ট, মিনি ফরেক্স একাউন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড ফরেক্স একাউন্ট।

মাইক্রো ফরেক্স একাউন্ট কাকে বলে?

মাইক্রো ফরেক্স একাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়। আপনি যদি মাইক্রো ফরেক্স একাউন্ট তৈরি করেন, তবে এই একাউন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ১০০০ ডলার অব্দি ট্রেড করতে পারবেন।

মিনি ফরেক্স একাউন্ট কাকে বলে?

মিনি ফরেক্স একাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়। আপনি যদি মিনি ফরেক্স একাউন্ট তৈরি করেন, তবে এই একাউন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার অব্দি ট্রেড করতে পারবেন।

স্ট্যান্ডার্ড ফরেক্স একাউন্ট কাকে বলে?

স্ট্যান্ডার্ড ফরেক্স একাউন্ট ব্যবহার করে প্রতি লটে ১,০০,০০০ ডলার পর্যন্ত ট্রেড করা যায়। আপনি যদি স্ট্যান্ডার্ড ফরেক্স একাউন্ট তৈরি করেন, তবে এই একাউন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ ডলার অব্দি ট্রেড করতে পারবেন।

আমাদের শেষ কথা

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ফরেক্স ট্রেডিং কি বাংলাদেশে বৈধ, ফরেক্স ট্রেডিং কি, ফরেক্স একাউন্ট কত ধরণের এ সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আশা করছি পোস্টটি আপনার জন্য সহায়ক হবে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি।

আরও পড়ুন-

ফরেক্স ট্রেডিং কিভাবে করে।

ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল?

ফরেক্স ট্রেডিং শিখুন ঘরে বসে

Leave a Comment