ফজরের নামাজ কয় রাকাত? ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম জেনে নিন

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাঝে ফজরের নামাজ সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। ফজরের নামাজ কয় রাকাত এবং ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম নিয়ে আজ আপনাদের সাথে আলোচনা করবো। ফজরের নামাজ গুরুত্বপূর্ণ বলার কারণ হচ্ছে, আমরা যদি ফজরের নামাজ আদায় করি, তবে পুরো দিনটি আল্লাহ্‌র রহমতে অনেক ভালো যাবে এবং আমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত করতে সক্ষম হবো।

অনেকেই নামাজ আদায় করার নিয়ম জানেন না। ফজরের নামাজ কয় রাকাত এটিও অনেকের অজানা। তাই, আপনাদের সবার উদ্দেশ্যে আজকের এই পোস্ট। তো চলুন, ফজরের নামাজ আদায়ের নিয়ম জেনে নেয়া যাক।

ফজরের নামাজ কয় রাকাত
ফজরের নামাজ কয় রাকাত

ফজরের নামাজ কয় রাকাত

ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত। এর মধ্যে দুই রাকাত সুন্নাত এবং দুই রাকাত ফরজ। ফজরের ওয়াক্ত হয়ে গেলে বাসায় কিংবা মসজিদে গিয়ে ২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করতে হয়। এরপর, জামায়াতের সাথে ২ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। এভাবে করে ফজরের ওয়াক্তের ৪ রাকাত নামাজ আদায় করতে হয়।

আল্লাহ্‌ তায়ালা আমাদের সবার জন্য ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করে দিয়েছেন। আমরা যদি নামাজ আদায় না করি, তবে গুনাহগার হবো এবং পরকালে জাহান্নামের মুখে পতিত হতে হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাঝে ফজরের নামাজ দিনের শুরুতেই আদায় করতে হয়।

ফজরের ওয়াক্তে পৃথিবীতে জান্নাতের হাওয়া বয়ে বেড়ায়। একজন নামাজি ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায় করতে পারলে ফজরের ওয়াক্তে জান্নাতের এই হাওয়া উপভোগ করার সুযোগ পাবে।

ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম

ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম একদম সহজ। ফজরের ওয়াক্ত হলে কিংবা মসজিদের আজান শুনলে অজু করে নিজেকে পাক-পবিত্র করে নিবেন। গোসল করার প্রয়োজন হলে গোসল করতে হবে। নামাজের পূর্বশর্ত হচ্ছে শরীর পাক রাখা। শরীর পাক হয়ে গেলে আপনি চাইলে বাসায় ২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করে নিতে পারেন। কিংবা, মসজিদে গিয়ে সুন্নত ২ রাকাত নামাজ আদায় করতে পারেন।

মসজিদে গিয়ে ২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার পর, জামায়াতের সাথে নামাজ শুরু হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। সময় হয়ে গেলে ইমামের পিছনে দাঁড়িয়ে নিয়ত করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি প্রথমেই জায়নামাজে দাঁড়ানোর দোয়া পড়তে পারেন। জায়নামাজে দাঁড়ানোর দোয়া মুখস্ত না থাকলে নিচে থেকে দেখে নিতে পারেন।

আরবী :  اِنِّىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ فَطَرَالسَّمَوَتِ وَاْلاَرْضَ حَنِيْفَاوَّمَااَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ
আরবি উচ্চারণ : ইন্নি ওয়াজ্জাহাতু ওজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাচ্ছামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন।
অর্থ : নিশ্চয়ই আমি তাঁর দিকে মুখ ফিরিয়ে নিলাম যিনি নভোমন্ডল ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।

জায়নামাজের দোয়া পড়ার পর মনে মনে নিয়ত করে নিবেন যে আপনি ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার জন্য ইমামের পিছনে দাঁড়িয়েছেন। নিয়ত মানে সংকল্প করা। নিয়ত করার জন্য আরবি ভাষায় নিয়ত মুখস্ত করতে হবেনা, যা কুরআন শরিফে বা হাদিসে উল্লেখ করা নেই।

এরপর, ইমামের পর আপনিও তাকবিরে তাহরিমা – আল্লাহু আকবার বলে হাত কানের লতি অব্দি তোলার পর হাত বাঁধবেন। এরপর সানা পড়তে হবে। সানা মুখস্ত না থাকলে নিচে থেকে মুখস্ত করে নিতে পারেন।

আরবি : سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ،

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানাকাল্লাহুম্মা অবি হামদিকা, অতাবা-র কাসমুকা অতাআলা জাদ্দুকা অলা ইলাহা গয়রুক।

সানার অর্থ – হে আল্লাহ্! আমি আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আপনি প্রশংসাময়, আপনার নাম বরকতময়, আপনার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর আপনি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

সানা পড়ার পর সূরা ফাতিহা পড়তে হবে। এরপর, কুরআনের যেকোনো সূরা পাঠ করতে হবে। এক্ষেত্রে, সুরা ইখলাস, সূরা কাউসার, সূরা নাস, সূরা ফালাক, বা অন্য যেকোনো সূরা পড়তে পারেন। অতঃপর, আল্লাহু আকবার বলে রুকুতে যেতে হবে। রুকুতে যাওয়ার পর সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম ৩/৫/৭/৯ যেকোনো বিজোড় সংখ্যা ভাবে পড়তে হবে।

এরপর, সামিআল্লাহু লিমান হামিদা বলে সোজা হয়ে দাড়াতে হবে এবং রাব্বানা লাকাল হামদ পড়তে হবে। এখন সিজদায় যেতে হবে এবং সিজদায় যাওয়ার পর সুবহানা রাব্বিয়াল অ্যা’লা ৩/৫/৭/৯ যেকোনো বিজোড় বার বলতে হবে। এরপর, এক পায়ের উপর ভর দিয়ে বসে আরেক পা দাঁড় করে রেখে বসতে হবে। আবারি সিজদা করতে হবে। দ্বিতীয় সিজদা করার পর একদম উঠে দাড়াতে হবে।

উঠে দাঁড়ানোর পর প্রথমে রাকাতের মতো করে সূরা ফাতিহা পড়া শুরু করতে হবে। এরপর, অন্য সূরা মিলিয়ে পড়তে হবে। অতঃপর, আবারও রুকু এবং সিজদা করতে হবে। দ্বিতীয় সিজদা করার পর শেষ বৈঠকে বসতে হবে। এরপর, তাশাহুদ (চার রাকাত হলে তাশাহুদ পড়ার পর উঠে দাঁড়িয়ে আরও বাকী ২ রাকাত নামাজ আদায় করে শেষ বৈঠকে বসতে হবে।), দরুদ শরিফ এবং দোয়া মাসুরা পড়তে হবে। অতঃপর, ডান দিকে সালাম ফিরাতে হবে।

এগুলোই হচ্ছে ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম। আশা করছি, ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম সহজেই বুঝতে পেরেছেন।

ফজরের নামাজের নিয়ম ও নিয়ত

ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য নিয়ম ও নিয়ত জেনে রাখা আবশ্যক। ফজরের নামাজ পড়তে যেসব বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়, সেগুলো নিয়ে একটি তালিকা নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি।

ফজরের নামাজ মোট চার রাকাত। এর মধ্যে দুই রাকাত সুন্নাত এবং দুই রাকাত ফরজ।

ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম নিম্নরূপ:

১. নামাজের নিয়ত করা।

২. তাকবীরে তাহরীমা বলে হাত বাঁধা।

৩. সূরা ফাতিহা পড়া।

৪. সূরা ফাতিহা পড়ার পর যেকোনো সূরা পড়া।

৫. রুকু করা। রুকুতে গিয়ে সুবআনা রাব্বিয়াল আজিম পড়তে হবে।

৬. রুকু থেকে মাথা উঁচু করা। রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে রাব্বাকা লাকাল হামদ পড়তে হবে।

৭. এরপর সোজা সেজদার করতে হবে। পর পর দুইবার সিজদা করতে হবে। সিজদা করার সময় সুবহানা রাব্বিয়াল অ্যা’লা পড়তে হবে।

৮. প্রথম সেজদা থেকে মাথা উঁচু করা।

৯. দ্বিতীয় সেজদায় যাওয়া।

১০. দ্বিতীয় সেজদা থেকে উঠে দাঁড়ানো।

১১. দ্বিতীয় রাকাতও একইভাবে পড়া। দ্বিতীয় সিজদা দেয়ার পর শেষ বৈঠকে বসতে হবে।

১২. শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ, দরুদ শরিফ , দোয়া মাসুরা পড়তে হবে।

১৩. সালাম ফিরানো।

উপরে উল্লিখিত এই তালিকাগুলোই হচ্ছে ফজরের নামাজ পড়ার নিয়ম। আশা করছি, এই পোস্টে উল্লিখিত সকল তথ্য বুঝতে পেরেছেন। ফজরের নামাজের সময় হল সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত। সুবহে সাদিক এর আগে ফজরের নামাজ আদায় হবেনা। তেমনি, সূর্যোদয় হলে নামাজ হবে না।

আমাদের শেষ কথা

আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ফজরের নামাজ কয় রাকাত এবং ফজরের নামাজ আদায় করার নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, এই পোস্টটি থেকে আপনি ফজরের নামাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য জানতে পেরেছেন। এমন আরও ইসলামিক বিভিন্ন পোস্ট পড়তে ইসলাম ও জীবন ক্যাটাগরির পোস্টগুলো দেখতে পারেন। আমরা এই ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত ইসলামিক পোস্ট, টেকনিক্যাল পোস্ট লিখে থাকি।

Leave a Comment