ফজরের নামাজের পর আমল | যেসব আমল করা উচিত

ফজরের নামাজের পর আমল করলে সেই আমল দিয়েই আমাদের দিন শুরু হবে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর আমাদের সবার উচিত কিছু অতিরিক্ত আমল করা। যা আমাদের জন্য জান্নাত যাওয়ার রাস্তা সহজ করে দিবে এবং জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে পারবে। আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে এমন কিছু আমল নিয়ে আলোচনা করবো, যা ফজরের নামাজের পর করা উচিত।

অনেকেই নামাজ আদায় করার পরেই উঠে চলে আসেন। কিন্তু, বাড়তি কিছু আমল রয়েছে, যা করলে আমাদের আমলনামা ভারী হবে, জান্নাতে অধিক নিয়ামত ভোগ করতে পারবো এবং চিরকালের জন্য জাহান্নাম থেকে বেঁচে থাকতে পারবো। আল্লাহ্‌র সন্তস্টি অর্জন করার জন্য আমাদের সকলের উচিত এসব আমল করা। তো চলুন, ফজরের নামাজের পর আমলগুলো দেখে নেয়া যাক।

ফজরের নামাজের পর আমল
ফজরের নামাজের পর আমল

ফজরের নামাজের পর আমল

ফজরের নামাজের পর করতে হয় এমন অনেক আমল রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না। নামাজ আদায় শেষ করেই উঠে না এসে অল্প কিছুক্ষন সময় যাবত এই আমলগুলো করলে তা হতে পারে আমাদের জন্য জান্নাত যাওয়ার পথ। তো চলুন, ফজরের নামাজের পর আমলগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক।

আয়াতুল কুরসি পাঠ করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ঈমান, হাদিস : ২৩৯৫)

আয়াতুল কুরসি (আরবি) :

اللَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ۚ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ۚ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ ۗ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِندَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ ۚ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ۖ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ :  আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কায়্যূম, লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস্ সামাওয়াতি ওয়ামা ফিল্ আরদি, মান জাল্লাজি ইয়াশফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজিনহি। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খলফাহুম, ওয়ালা ইউহিতুনা বিশাইয়িম্ মিন ইলিমহি ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসিআ কুরসিয়্যুহুস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদা, ওয়ালা ইয়াঊদুহু হিফজুহুমা,ওয়াহুওয়াল আলিয়্যুল আজিম। (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৫৫)

আয়াতুল কুরসি হচ্ছে কুরআন এর সবথেকে মর্যাদাময় আয়াত। এই আয়াতটি পাঠ করতে ১ মিনিটেরও কম সময় লাগবে। ফজরের নামাজের পর এই আয়াতটি পাঠ করলে আমাদের দিন শুরু হবে আল্লাহ্‌র রহমত এবং বরকতে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার পর আমরা একটি আয়াতটি পাঠ করতে পারি। এতে করে এক দিনে মাত্র ৫ মিনিট সময় ব্যয় হবে। ৫ মিনিট সময়ের জন্য পরকালে আমরা পাবো অনন্তকালের শান্তির জান্নাত।

আরও পড়ুন – ফজরের নামাজের নিয়ত বাংলায় এবং আরবিতে

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা তিনবার নিম্নের দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৯)

ফজরের নামাজের পর আমলটি হচ্ছে — 

আরবি : 

رَضِيتُ باللهِ رَبَّاً، وَبِالْإِسْلَامِ دِيناً، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيَّاً

উচ্চারণ : রাজিতু বিল্লাহি রব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামী দ্বিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা।

অর্থ : আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বিন হিসেবে ও মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার পাঠ করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, ‘যদি কেউ দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকাল-সন্ধ্যা নিম্নের ইস্তিগফারটি পড়ে এবং ওই দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, তবে সে জান্নাতি হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৬)

আরবি : 

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي، إِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, খালাকতানি, ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহিদকা ওয়া ওয়া’দিকা মাস্তাতা’তু, আউজু বিকা মিন শাররি মা সানা’তু, আবুউ লাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিজাম্বি ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগিফরুজ জুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার প্রতিপালক। আপনি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। আর আমি আপনার গোলাম। আমি আপনার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতির ওপর যথাসাধ্য আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আমার ওপর আপনার অনুগ্রহ স্বীকার করছি। আবার আমার গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন। কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারবে না।

আরও পড়ুন – ফজরের নামাজের সময় এবং ফজরের নামাজের শেষ সময় জেনে নিন

এছাড়াও, আমরা ফজরের ২ রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করার পর ফজরের নামাজের পর আমল জিকির/তসবিহ পাঠ করতে পারি। আপনাদের সুবিধার্থে নিচে কিছু ফজরের নামাজের পর আমল তসবিহ/জিকির উল্লেখ করে দিলাম।

সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহাদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু; লাহুল মুলকু; ওয়ালাহুল হামদু; ওয়াহুওয়া আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বাদির (১ বার)। এগুলো পাঠে গুনাহসমূহ সমুদ্রের ফেনারাশির মতো অসংখ্য হলেও ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (মুসলিম, হাদিস : ১২৪০)

  • রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ‘আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম’ – এটি পরতেন । (মুসলিম, হাদিস : ১২২১)
  • ‘আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান নার’ ৭ বার, ফজর ও মাগরিবের পর। সে দিন বা সে রাতে মারা গেলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করবেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৮০)
  • সুরা ইখলাস, ফালাক্ব ও সুরা নাস, প্রত্যেকটি ৩ বার করে, ফজর ও মাগরিবের পর। রাসুল (সা.) বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে তোমার আর কিছুরই দরকার হবে না।
  • দরুদ শরিফ ১০ বার, ফজর ও মাগরিবের পর। কেয়ামতের দিন রাসুল (সা.)-এর শাফাআত লাভ হবে।
  • রাসুল সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৈনিক ১০০ বার বলে,
    «سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ» (সুব্‌হানাল্লা-হি ওয়াবিহামদিহি) তার পাপগুলো মুছে ফেলা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির সমান হয়ে থাকে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪০৫; মুসলিম, হাদিস : ২৬৯১)
  • রাসুল (সা.) প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে ৩ বার আসতাগফিরুল্লাহ্‌ বলতেন। (মুসলিম, হাদিস : ১২২২)

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ফজরের নামাজের পর আমল, তসবিহ এবং দোয়া নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পোস্টে উল্লিখিত আমলগুলো করতে পারেন ফজরের নামাজ আদায় করার পর। এছাড়াও, এসব আমল প্রতি ফরজ নামাজ আদায় করার পর করা উচিত। এতে করে, পরকালে আমরা পাবো আল্লাহ্‌র রহমত এবং বরকত। এছাড়াও, জান্নাতে পাবো আরও অনেক বেশি নিয়ামত। অল্প কিছু সময় ব্যয় করে আমাদের সকলের উচিত এসব আমল করা। এমন আরও ইসলামিক পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আল্লাহ্‌ হাফেয।

Leave a Comment