নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি? নামাজের ফরজ ছুটে গেলে কি করতে হবে জানুন

নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি না জানলে আমরা সঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারবো না। কারণ, নামাজ আদায় করতে হলে অবশ্যই নামাজের ফরজ আদায় করতে হবে। অনেকেই নামাজের ফরজ কয়টি এবং কি কি জানেন না। তাই, নামাজের ফরজ ছুটে গেলেও কি করতে হবে জানেন না। আজকে এই পোস্টে আপনাদের সাথে নামাজের ফরজ কয়টি এবং নামাজের ফরজ ছুটে গেলে কি করতে হবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

আপনি নিশ্চয়ই একজন মুসলিম। একজন মুসলমানের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার সময় অবশ্যই নামাজের ফরজ মেনে নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজের ওয়াজিব যেমন রয়েছে, তেমনি নামাজের ফরজ রয়েছে। এই ফরজগুলো অনুসরণ করেই নামাজ আদায় করতে হবে। তো চলুন, জেনে নেয়া যাক, নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি।

নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি?

নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি
নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি

নামাজের বাহিরে ৭ ফরজ এবং ভেতরে ৬ ফরজ। নামাজ পড়া শুরুর আগে ৭ টি ফরজ মানতে হয় এবং নামাজ আদায়কালীন ৬ টি ফরজ আদায় করতে হয়। এই ১৩ ফরজের একটি ফরজ যদি পালন করা না হয়, তবে নামাজ আদায় হবে না। নতুন করে আবারও নামাজ আদায় করতে হবে। যদি নতুন করে আবারও নামাজ আদায় করা না হয়, তবে আমরা সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবো এবং গুনাহ এর ভাগীদার হবো। তাই, নামাজ আদায় শুরুর আগে এবং নামাজ আদায়কালীন সময় নামাজের ১৩টি ফরজ অবশ্যই মানতে হবে।

নামাজের বাহিরে ৭ ফরজ

নামাজ আদায় শুরু করার আগে অবশ্যই পালন করতে হবে এমন ৭টি ফরজ কাজ রয়েছে। এই ৭টি ফরজ হচ্ছে –

১: শরীর পাক বা শবীর পবিত্র হওয়া। (সুরা মায়িদা,আয়াত ৬; তিরমিজি,হাদিস : ১,৩ হাদিসটি হাসান )

২: নাম্বার: কাপড় পাক বা পবিত্র হওয়া। ( সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪; তিরমিজি, হাদিস : ১,৩ হাসান )

৩: নামাজের জায়গা পাক বা পবিত্র হওয়া। ( সুরা বাকারা, আয়াত : ১২৫; তিরমিজি, হাদিস : ১,৩ হাসান )

৪: নাম্বার: সতর ঢাকা ( অর্থাৎ পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত এবং নারীদের চেহারা,দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ও পায়ের পাতা ছাড়া গোটা শরীর ঢেকে রাখা ) হলো সতর। মনে রাখা আবশ্যক,পর্দার ক্ষেত্রে নারীদের পুরো শরীর সতরের অন্তর্ভুক্ত)। ( সুরা আরাফ, আয়াত ৩১; সুরা নূর, আয়াত ৩১; আবু দাউদ,হাদিস : ৪৯৬-হাসান, মুসনাদে আহমাদ,হাদিস : ৬৭৫৬ -হাসান,তিরমিজি ১/২২২,হাদিস : ১১৭৩,৩৭৭-সহিহ, আবু দাউদ ১/৯৪,হাদিস: ৬৪১-সহিহ, ২/৫৬৭,হাদিস : ৪১০৪ )।

৫: কিবলামুখী হওয়া অর্থাৎ পশ্চিম দিকে মুখ হওয়া। ( সুরা বাকারা, আয়াত ১৪৪; বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১ )

৬: ওয়াক্ত মতো নামাজ পড়া অর্থাৎ সময়ের নামাজ সময়ে পড়া। ( সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩; বুখারি ১/৭৫, হাদিস : ৫২১ )

৭: নামাজের নিয়ত করা। ( বুখারি ১/২, হাদিস : ১ )

নামাজের ভিতরে ৬ ফরজ

নামাজ আদায়কালীন সময়ে ৬টি ফরজ কাজ রয়েছে, যা অবশ্যই আদায় করতে হবে। একটি ফরজ যদি ছুটে যায়, তবে নামাজ হবে না। আবারও, নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে। নামাজ আদায় না করলে উক্ত নামাজের ক্বাযা আদায় করতে হবে। ক্বাযা আদায় করা না হলে গুনাহগার হতে হবে। তাই, নিচে উল্লিখিত নামাজের ভিতরের ৬ ফরজ অবশ্যই পালন করতে হবে।

১: তাকবিরে তাহরিমা, অর্থাৎ নামাজের শুরুতে আল্লাহু আকবার বলা।

( সুরা মুদ্দাসসির,আয়াত ৩; বুখারি ১/১০১, হাদিস : ৮৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১, ৪১২ )

২: ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ দাঁড়িয়ে পড়া। ( সুরা বাকারা,আয়াত ২৩৮; বুখারি ১/১৫০, হাদিস : ১১১৭, তিরমিজি ১/৬৬, হাদিস : ৩০৪ )।

৩: কিরাত পড়া ( অর্থাৎ কোরআন শরিফ থেকে ন্যূনতম ছোট ৩ আয়াত ও বড় ১ আয়াত পরিমাণ পড়া ফরজ)। ( সুরা মুজ্জাম্মিল,আয়াত ২০;বুখারি ২/৯২৪, হাদিস : ৬২৫১, তিরমিজি ১/৬৬, ৬৭, হাদিস : ৩০২, ৩০৩ (হাদিসটি সহিহ )।

৪: রুকু করা। ( সুরা হজ, আয়াত ৭৭; বুখারি ১/১৫০,হাদিস : ১১১৩, ১১১৪, মুসলিম ১/১৭৭, হাদিস : ৪১২ )।

৫: দুই সিজদা করা। ( সুরা হজ, আয়াত ৭৭; বুখারি ১/১০১,হাদিস : ৭৩৩, মুসলিম ১/১৭৬, হাদিস : ৪১১ )।

৬:শেষ বৈঠক (নামাজের শেষে তাশাহহুদ পরিমাণ বসা)। আবু দাউদ : ১/১৩৯, হাদিস : ৯৭০ (সহিহ)।

নামাজের ফরজ ছুটে গেলে কি করতে হবে?

নামাযে কোন ফরয ভুলে বাদ পড়ে গেলে আবার নতুন করে নামায পড়তে হবে। (হেদায়া-১/৯৭) অর্থাৎ, আপনি যদি ভুলবশত নামাজের কোনো ফরজ আদায় করতে ভুলে যান, তবে আবারও নামাজ শুরু থেকে আদায় করতে হবে। নামাজের বাহিরের ৭ ফরজ কিংবা নামাজের ভিতরের ৬ ফরজের থেকে যেকোনো ফরজ ভুলে গেলে নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে।

নয়তো, ক্বাযা নামাজ আদায় করতে হবে। ক্বাযা নামাজ আদায় করা না হলে গুনাহগার হতে হবে। তাই, নামাজের ১৩ ফরজের মাঝে কোনো ফরজ ছুটে গেলে আবারও নামাজ আদায় করতে হবে। তবে, কোনো ফরজ যদি একের অধিকবার আদায় করা হয়, তবে সাহু সিজদা দিতে হবে। কিন্তু, সুন্নত বাদ পড়লে বা সুন্নত একাধিকবার পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে না। ওয়াজিব এর ক্ষেত্রেও একই। নামাজের কোনো ওয়াজিব একাধিকবার পড়লে বা ছুটে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে।

সাহু সিজদা দেয়ার জন্য শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ শরিফ, দোয়া মাসুরা পড়ার পর তাকবির দিয়ে পর পর দুইবার সিজদা করতে হবে। এরপর সালাম ফিরিয়ে নামাজ আদায় সম্পন্ন করতে হবে। (বুখারি ও মুসলিম, মিশকাত সালাত অধ্যায় সাহো অনুচ্ছেদ, ১১৮ নাম্বার হাদিস।) অথবা আমরা এভাবে বলতে পারি যে, নামাজে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে সালাম ফিরানোর আগে বা পরে তাকবির দিয়ে দুইবার সিজদা করতে হবে এবং নামাজ আদায় সম্পন্ন করতে হবে। (সহীহ মুসলিম, নাওয়াতুল আওতার ৩/৪১১।)

অর্থাৎ, আপনি সালাম ফিরানোর আগে কিংবা পরে দুই পদ্ধতিতেই সাহু সিজদা করতে পারবেন। তবে, সাহু সিজদা করতেই হবে। নয়তো, আপনার নামাজ কবুল হবে না। তো চলুন, সাহু সিজদা দেয়ার নিয়ম নিয়ে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে নামাজের ফরজ কয়টি ও কি কি এবং নামাজের ফরজ ছুটে গেলে কি করতে হবে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, এই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়েছেন। নামাজ আদায় করার সময় অবশ্যই নামাজের ১৩ ফরজ আদায় করতে হবে। নামাজের ফরজ ছাড়া নামাজ আদায় হবে না। তাই, নামাজের ফরজগুলো কি কি তা মুখস্ত করে রাখতে হবে। এতে করে, সহিহভাবে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে। এমন আরও ইসলামিক পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

Leave a Comment