ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

ডিম খাওয়ার উপকারিতা আমরা প্রায় সবাই কম বেশি জানি। ডিম আমাদের প্রায় সবার খাদ্যতালিকায় দৈনন্দিন একটি খাবার। ডিমে যেসব উপাদান রয়েছে, তা আমাদের দেহের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। দেহের বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি ডিমের এসব উপাদান আমাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উন্নতি সাধনে যথেষ্ট ভুমিকা পালন করে থাকে।

অনেকেই ডিম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানেন না। ডিমে কী কী উপাদান থাকে তা সম্পর্কেও অনেকের তেমন কোনো ধারণা নেই বলা চলে। আজকের এই ব্লগ পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে দিমের উপকারিতা এবং ডিম খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করতে পারবেন। তো চলুন, শুরু করা যাক।

ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিম খাওয়ার উপকারিতা
ডিম খাওয়ার উপকারিতা

ডিম খাওয়ার উপকারিতা আমরা প্রায় সবাই অল্প বিস্তর জানি। কিন্তু, অনেকেই ডিম খেতে ভয় পান। কারণ, ডিম অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হৃদরোগের আশঙ্কা থাকে এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে, আপনি যদি ২টি ডিম খান, সেক্ষেত্রে শরীরের কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অন্তত ২টি ডিম খাওয়া উচিত কুসুম সহ।

কুসুম সহ ডিম খেলে হৃদরোগের সৃষ্টি হতে পারে, তাই ২টির বেশি ডিম খেলে কুসুম ছাড়া শুধু সাদা অংশ খেতে পারেন। প্রতিদিন ২টি ডিম খেলে কুসুম সহ খেতে পারবেন।

ডিম আমরা প্রায় সময় ভেঁজে খাই। তেলে ভাজার কারণে ডিমে থাকা সকল পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই, ডিম যদি একান্তই ভেঁজে খেতে হয়, তবে হাফ বয়েল করে বা ফুল বয়েল করে খেতে পারেন। এছাড়াও, আপনি চাইলে ডিম সিদ্ধ করে খেতে পারেন। এতে করে ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হবে না।

ডিমে থাকা পুষ্টি উপাদান সমূহ

একটি ডিমে অ্যানার্জি থাকে ১৪৩ ক্যালোরি। আর কার্বোহাইড্রেট থাকে ০.৭২ গ্রাম মতো। প্রোটিন থাকে ১২.৫৬ গ্রাম, ফ্যাট থাকে ৯.৫১ গ্রাম। এছাড়া ফসফরাস থাকে ১৯৮ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম ১৩৮ মিলিগ্রাম, জিঙ্ক থাকে ১.২৯ মিলিগ্রাম।

ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রোটিন ও কুসুমে থাকে ভালো ফ্যাট, আয়রন ও ভিটামিন। শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি, হাড় শক্ত করতে ও মেধার বিকাশে ডিম খুবই কার্যকর। ডিমে আরও আছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। আর কুসুমে থাকা ভিটামিন ডি, হাড়ের জন্য ভালো।

শরীরের জন্য ফ্যাট, আয়রন, ভিটামিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব উপাদান না পেলে শরীরের বিকাশ ঠিকমতো হবে না। এসব উপাদান একটি মাত্র খাবার, ডিমে পাওয়া সম্ভব। তাই, প্রতিদিন ডিম খেলে আপনার শরীরের এসব উপাদানের ঘাটতি মিটে যাবে।

আরও পড়ুন – কালো জিরার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে প্রতিদিন অন্তত একটি করে ডিম খাওয়া উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের সুষম পুষ্টিকর খাদ্যের কথা বিবেচনা করে বিজ্ঞানীরা মুরগির ডিম ডায়েটে রাখার কথা বলছেন। আপনার ডায়াবেটিস থাকলে ডিম খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা

সিদ্ধ ডিম, হাফ বয়েল, ফুল বয়েল ডিম খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে, অবশ্যই চেষ্টা করবেন ডিম যেন অতিরিক্ত পরিমাণে তেলে ভাজা না হয়। এতে করে ডিমে থাকা পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতাসমূহ নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি।

শরীর ক্লান্ত হলে বা শক্তির প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ডিম খান। ডিম শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে অনেক সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ডিমে রয়েছে ভিটামিন , যা আমাদের দেহে অ্যানার্জি ফিরিয়ে আনতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিয়ত ডিম খাওয়ার অভ্যাস করলে শরীর দুর্বল হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ডিমে থাকে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তিকে বৃদ্ধি করে। তাছাড়া ডিমে থাকা কেরোটিনয়েড আর ল্যুটেন বয়স হয়ে গেলে চোখের এক বড় সমস্যা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। প্রবীণ বয়সে এবং অল্প বয়সে চোখের সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়ার জন্য প্রতিদিন অন্তত ২টি করে ডিম খান। তাহলে, চোখের কোনো সমস্যা বা চোখে কম দেখা সমস্যা থাকবে না।

আরও পড়ুন – মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত

ডিমে থাকা ভিটামিন ই , কোষ এবং ত্বকে থাকা ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করে। তাই ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়াও নতুন কোষ তৈরি হতেও ডিম সাহায্য করে থাকে। নিয়মিত ডিম খেলে ব্রেস্ট ক্যানসারের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন ডিম খান। সুষম খাদ্যতালিকায় ডিমকে সবার উপরে রাখা হয়ে থাকে।

সকালে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার উপকারিতা

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সিদ্ধ ডিম খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। ডিম সিদ্ধ করে খাওয়ার ফলে ডিমে থাকা কোনো পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় না। ডিমে থাকা ভিটামিন, আয়রন এবং অন্যান্য উপাদান অনেক দ্রুত আমাদের দেহে কাজ করা শুরু করে।

অনেকের মধ্যেই ভ্রান্ত ধারণা আছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায়। যা একদমই ভুল ধারণা। বরং, ডিম কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ডিমে থাকা ওমেগা ৩ এই কাজটি করতে সাহায্য করে। আবার ডিম এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় প্রায় ১০ শতাংশ।

শরীরের সার্বিক সুস্থতায় কোলাইন খুবই প্রয়োজন। কোলাইনের ঘাটতি হলে লিভারের নানা সমস্যা বা নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হয়। ডিমে প্রায় ৩০০-৩৫০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। তাই ডিম খেলে লিভার ও স্নায়ু ভালো থাকে।

আরও পড়ুন – খেজুরের উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

প্রোটিনের মূল উৎস হলো অ্যামিনো অ্যাসিড। প্রোটিন তৈরিতে প্রায় ২১ ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড লাগে। যার মধ্যে ৯টি শরীরে তৈরি হয় না। এজন্য বাইরে থেকে প্রোটিন গ্রহণ করতে হয়। যা মেলে ডিম থেকে।

এছাড়া, অনেকের মনে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে, ডিম খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু, বাস্তবচিত্র পুরোই উল্টো। ডিম খেলে আমাদের ক্ষুধা কমে যায়। কারণ, ডিমে থাকে ৪০০ ক্যালোরি। যা আমাদের দেহের অনেক প্রয়োজন মিটাতে সক্ষম। তাই, আলাদা করে ভাত বা অন্য খাবার খেতে হয় না। ফলস্বরূপ, ডিম খেয়ে আমাদের ওজন আরও কমে যায়। ডায়েট করতে চাইলে খাদ্যতালিকায় ডিম রাখবেন অবশ্যই।

হাঁসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা

হাস বা মুরগি, উভয়ের ডিমেই রয়েছে অনেক উপকারী উপাদান। যা আমাদের দেহের অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করে থাকে। তবে, মুরগির ডিমের থেকে হাসের ডিম খাওয়ার উপকারিতা একটু বেশি। কারণ, হাসের ডিমে থাকে

হাঁসের ডিমে মুরগির ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে। প্রোটিন চর্বিহীন পেশি তৈরি করতে , শরীরের ওজন বজায় রাখতে ও ব্যায়াম বা আঘাতের পরে শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে হাসের ডিম অনেক সাহায্য করে। এছাড়াও, মুরগির ডিমের থেকে হাসের ডিমের আকার একটু বেশি বড় হয়ে থাকে।

মুরগির ডিমের থেকে বেশি প্রোটিন হওয়ার কারণে হাসের ডিমের দাম একটু বেশি হয়ে থাকে।

ডিম খাওয়ার অপকারিতা

প্রতিনিয়ত ডিম খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। তবে, প্রতিদিন ২টি ডিম কুসুম সহ খেতে পারবেন। এর বেশি ডিম কুসুম সহ খেলে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। একদিনে ২টির বেশি ডিম খেলে কুসুম ছাড়া খাওয়ার চেষ্টা করবেন। অতিরিক্ত পরিমাণে ডিম খাওয়া ঠিক না। এতে করে শরীরের উন্নতি হওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন রোগ বাসা বাঁধতে পারে।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে ডিম খাওয়ার উপকারিতা ও ডিম খাওয়ার অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে এতক্ষণে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে, ডিম খাওয়া আমাদের দেহের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিয়ত অন্তত ২টি ডিম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে শরীরের উন্নতি হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment