জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি? জাজাকাল্লাহ খাইরান কখন বলতে হয়

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি অনেকেই জানেন না। জাজাকাল্লাহ খাইরান কখন বলতে হয় না জানার কারণে আমরা এই আমলটি করতে পারি না। তাই, আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি এবং জাজাকাল্লাহ খাইরান কখন বলতে হয় এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো।

একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের অনেক বিষয়ের উপর আমল করতে হয়। আল্লাহ্‌র এক এবং অদ্বিতীয় এ বিশ্বাসের উপর ইমান আনা এবং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের নবী ও রাসুল এটি বিশ্বাস করা একজন মুসলিম হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত।

তেমনি, আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, জাজাকাল্লাহ খাইরান ইত্যাদি শব্দ আমল করার জন্য বলতে হয়। আল্লাহ্‌র জিকিরে মশগুল থাকার জন্য কিংবা অন্য কোনো সময় এসব জিকির করতে হয়। অনেকেই এসব আরবি শব্দের অর্থ জানেন না এবং কখন বলতে হয় তা জানেন না। তাই, চলুন, অর্থ এবং কখন বলবেন সেটি জেনে নেয়া যাক।

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি
জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি

জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি

জাজাকাল্লাহ খাইরান (جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا‎‎) অর্থ – আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম পুরস্কার/প্রতিদান দান করুন। জাযাকাল্লাহু খাইরান বাক্যাংশটিতে ‘জাযাকা’ অর্থাৎ পুরষ্কার প্রদান করা, ‘আল্লাহ’ (সৃষ্টিকর্তা) এবং ‘খাইরান’ এর অর্থ হল ‘উত্তম’। এক কথায়, জাজাকাল্লাহ খাইরান এর বাংলা অর্থ দ্বারায় – আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম প্রতিদান/পুরস্কার দান করুন।

কাউকে ধন্যবাদ জানাতে কিংবা কেউ কোনো উপকার করলে কৃতজ্ঞতা জানাতে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে হয়। অনেকেই ধন্যবাদ জানাতে “শুকরান” শব্দটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে জাজাকাল্লাহ খাইরান (جَزَاكَ ٱللَّٰهُ خَيْرًا‎‎) বলাই সবথেকে উত্তম চর্চা।

জাজাকাল্লাহ খাইরান বাংলা অর্থ কি

জাজাকাল্লাহ খাইরান (جَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا) একটি আরবি বাক্য যার অর্থ হল “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।” এটি ধন্যবাদ জানানোর একটি ইসলামিক উপায়। কেউ যদি আপনার উপকার করে বা কোনো সহায়তা করে তখন আপনি জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে পারেন। জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে, আপনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন এবং প্রার্থনা করছেন যে তিনি যেন সেই ব্যক্তিকে একটি ভাল প্রতিদান দান করেন, যিনি আপনাকে সাহায্য করেছেন।

আলহামদুলিল্লাহ অর্থ কি? আলহামদুলিল্লাহ কখন বলতে হয়

জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে, আপনি সেই ব্যক্তিকে সম্মান করছেন যিনি আপনাকে সাহায্য করেছেন। জাজাকাল্লাহ খাইরান বলার মাধ্যমে আপনি তাদের সাহায্যের জন্য প্রশংসা করছেন এবং তাদের জানাচ্ছেন যে আপনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

ﻋﻦ ﺃﺳﺎﻣﺔ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : ( ﻣَﻦْ ﺻُﻨِﻊَ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻣَﻌْﺮُﻭﻑٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟِﻔَﺎﻋِﻠِﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ . ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ ) .

ﺭﻭﺍﻩ ” ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ ” ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻓﻲ ” ﺍﻟﺴﻨﻦ ﺍﻟﻜﺒﺮﻯ 

অর্থঃ হযরত উসামা বিন যায়েদ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কারো প্রতি কৃতজ্ঞতার আচরণ করা হলো তাই সে ব্যক্তি আচরণকারীকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলল, তাহলে সে তার যথাযোগ্য প্রশংসা করল।

ﻋﻦ ﺃﺑﻲ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ : ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ” ﺇِﺫَﺍ ﻗَﺎﻝَ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻓَﻘَﺪْ ﺃَﺑْﻠَﻎَ ﻓِﻲ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﺀِ 

অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম বলেছেন, কেউ যখন তার ভাইকে বলে, “জাযাকাল্লাহু খাইরান” তাহলে সে তার ভূয়সী প্রশংসা করল।

ﻗﺎﻝ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﻟَﻮْ ﻳَﻌْﻠَﻢُ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣَﺎ ﻟَﻪُ ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ ﻟِﺄَﺧِﻴﻪِ : ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ، ﻟَﺄَﻛْﺜَﺮَ ﻣِﻨْﻬَﺎ ﺑَﻌْﻀُﻜُﻢْ ﻟِﺒَﻌْﺾٍ . ( ﺍﻟﻤﺼﻨﻒ ﻻﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺷﻴﺒﺔ )

হযরত ঊমর (রাযি.) বলেন, তোমাদের কারো যদি জানা থাকত যে, তার অপর ভাইকে “জাযাকাল্লাহু খাইরান” বলার মধ্যে তার জন্য কি রয়েছে! তাহলে তোমরা একে অপরের জন্য তা বেশি করে বলতে।

জাজাকাল্লাহ খাইরান কখন বলতে হয়

যখন কোনো ব্যক্তি আপনার উপকার করবে, কৃতজ্ঞতা বা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে পারেন। জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ আল্লাহ্‌ তায়ালা যেন উক্ত ব্যক্তিকে উত্তম পুরস্কার বা প্রতিদান দান করেন। কারও জন্য দোয়া করতেও জাজাকাল্লাহ খাইরান বাক্যাংশটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

কৃতজ্ঞতা মুমিনের ভূষণ। কেউ উপকার করলে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা ইসলামের শিক্ষা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।’ অথবা ‘যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতিও অকৃতজ্ঞ। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৮১১)

কেউ যদি আপনার উপকার করে, তবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলতে পারেন। উপরে হাদিসে উল্লেখ করা আছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলে আল্লাহ্‌র প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় না। তাই, কেউ উপকার করলে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন।

সুবহানাল্লাহ অর্থ কি? সুবহানাল্লাহ কখন বলতে হয়

উছমান ইব্‌ন আবু শায়রা (রহঃ) ….. আব্‌দুল্লাহ্‌ ইব্‌ন উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নামে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তোমরা তাকে আশ্রয় দাও। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নামে কিছু চায় তাকে কিছু দান কর। যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে, তোমরা বিনিময় দাও। যদি বিনিময় দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে তার জন্য দোয়া করতে থাক; যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার যে, তোমরা তাদের বিনিময় দান করেছ। (নাসাঈ)। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৬৭২)

জাজাকাল্লাহ খাইরান এর উত্তর

কেউ যদি আপনার উদ্দেশ্য করে জাজাকাল্লাহ খাইরান বলে, তবে তার উদ্দেশ্যেও আপনার কিছু বলা উচিত। জাজাকাল্লাহ খাইরান এর উত্তরে ওয়া’আনতুম ফাজাযাকুমুল্লাহু খায়রান বলতে পারেন। অর্থ – আপনাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

যখন উছাইদ ইবনে হাদাইর রদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন : জাযাকা-আল্লাহু খাইরন! তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন :

ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরন ( ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﻓَﺠَﺰَﺍﻛُﻢُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ)

অর্থ : তোমাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন) (শাইখ আলবানী আল-সহীহার ৩০৯৬ নং হাদিসে একে সহীহ বলেছেন, আল- তা’লিকাতুল হিসান আল সহীহ ইবনে হিব্বান ৬২৩১)।

উসামা ইবনে জায়দ (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, কাউকে অনুগ্রহ করা হলে সে যদি অনুগ্রহকারীকে বলে—‘জাজাকাল্লাহু খাইরান’ (আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন), তাহলে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা করল। (তিরমিজি, হাদিস : ২০৩৫)

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে জাজাকাল্লাহ খাইরান অর্থ কি, জাজাকাল্লাহ খাইরান কখন বলতে হয় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। আশা করছি, পোস্টটি থেকে জাজাকাল্লাহ খাইরান শব্দের ফজিলত এবং আমল করার উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এমন আরও ইসলামিক পোস্ট পড়তে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

Leave a Comment