কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় জেনে নিন

কিডনি ভালো আছে কিনা জানার জন্য কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো জেনে রাখা আবশ্যক। আমরা অনেকেই জানি না যে, কিডনির কত পয়েন্ট থাকলে তা স্বাভাবিক এবং কোনো ক্ষতির আশংকা থাকে না। আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। আপনি যদি স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হয়ে থাকেন, তবে অবশ্যই পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়বেন।

এই পোস্টে কিডনির রোগ এবং কিডনির রোগের চিকিৎসা ও কিডনি রোগ প্রতিরোধ করার উপায় সম্পর্কেও আলোচনা করবো। তো চলুন, পোস্টের মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক।

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো
কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো

কিডনি কী

বৃক্ক বা কিডনি মেরুদন্ডী প্রাণীদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যা দেহের রেচনতন্ত্রের প্রধান অংশ। এই কিডনির প্রধান কাজ হল রক্তকে ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ যেমন ইউরিয়া পৃথকীকরণ ও মূত্র উৎপাদন করা। মানবদেহের সব রক্ত দিনে প্রায় ৪0 বার বৃক্কের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও দেহে পানি এবং তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বা ইলেকট্রোলাইট যেমন সোডিয়াম পটাশিয়াম ইত্যাদির ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনি সাহায্য করে।

এছাড়াও এটি অন্তক্ষরা গ্রন্থে হিসেবে হরমোন নিঃসরণ করে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানব দেহের অভ্যন্তর ভাগে উদারগহ্বরের শেষ ভাগে মেরুদন্ডে দুই পাশে দুইটি বৃক্ষ অবস্থিত। বৃক্কের দৈর্ঘ্য ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি আকারে অনেকটা সিমের মত। রং খানিকটা লালচে বাদামী হয়। প্রতিটি বৃক্ষ স্বচ্ছ এবং পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লি দ্বারা বৃদ্ধা থাকে। এর ভিতর দিয়ে ইউরেটার এবং রেনালসিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ুবিকে প্রবেশ করে যকৃতের অবস্থানের কারণে নিচে থাকে।

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয়

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো তা অনেকেই জানেন না। আমাদের কিডনির একটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট আছে, এই পয়েন্ট এ যদি আমাদের কিডনি থাকে, তবে কিডনিকে সুস্থ বলা চলে। কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় তার একটি তালিকা নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি। চলুন, দেখে নেয়া যাক।

  • পুরুষের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের স্বাভাবিক ক্রিয়েটিনিন ০.৭ থেকে ১.৪ এবং
  • নারীর শরীরে ক্রিয়েটিনিং এর স্বাভাবিক রেঞ্জ ০.৬ থেকে ১.২ এমজি ডি এল
  • একটি কিডনি যাদের নেই তাদের ক্ষেত্রে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ত্রুটির প্রতি ডেসিলিটার রক্তে ১.৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত স্বাভাবিক
  • কিশোরদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ছেলেটার রক্তে রিটেনের মাত্রা ০.৫ থেকে ১.০ মিলিগ্রাম
  • শিশুদের ক্ষেত্রে রক্তে ক্রিটেনিনের মাত্রা ০.৩ থেকে 0.৭ মিলিগ্রাম ডিএল
  • প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে রক্তে ক্রিয়েটিনিন ৫.০ মিলিগ্রামের

উপরে উল্লিখিত তালিকায় থাকা পয়েন্ট এর থেকে আপনার শরীরের কিডনির যদি পয়েন্ট বেশি হয়, তবে বুঝে নিতে হবে যে কিডনিতে সমস্যা হয়েছে। তখন আপনাকে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে এবং চিকিৎসা করতে হবে। তবেই কিডনি রোগ ঠিক হবে। কিডনি রোগ যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে, তবে এই রোগ পুরোপুরিভাবে নিরাময় করা সম্ভব।

আরও পড়ুন – কিডনি রোগের ঔষধের নামগুলো কী কী

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় তা নিশ্চয়ই এতক্ষণে জেনে গেছেন। তো চলুন, এখন কিডনি বিষয়ক আরও কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক যা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ডায়ালাইসিস করতে হয়

কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় তা ইতোমধ্যে উপরে উল্লেখ করে দিয়েছি। এই পয়েন্ট এর থেকে যদি আপনার কিডনির পয়েন্ট বেশি হয়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে রক্ত ডায়ালাইসিস করতে হবে। ডায়ালাইসিস করে শরীরের রক্ত শোধন করা হয়। কারণ, কিডনি আমাদের রক্ত শোধন করার কাজ করে থাকে। যখন কিডনি অচল, তখন তো পুরো শরীর অচল হয়ে যাবে।

কিডনির পয়েন্ট কমানোর উপায়

কিডনি যদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে কিডনি পয়েন্ট বেড়ে যায়, তবে অবশ্যই কিডনির পয়েন্ট কমাতে হবে। কিডনির পয়েন্ট কমানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। কিডনি রোগ যদি প্রাথমিক অবস্থায় থাকে, তবে সঠিক চিকিৎসা নেয়ার মাধ্যমে অনেক সহজেই কিডনি রোগ প্রতিকার করা সম্ভব হবে। কিন্তু, কিডনি রোগ যদি শরীরে বাসা বাধে, তখন চিকিৎসা করে পুরোপুরি নির্মূল করা অনেক কষ্ট হয়ে যাবে।

তাই, কিডনি রোগ কেন হয় এবং কিডনির পয়েন্ট কত হলে ভালো হয় এসব বিষয় জেনে রাখা আবশ্যক।

কিডনি রোগ কেন হয়

অনেক কারণেই কিডনি রোগ হতে পারে। আমাদের অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণেও কিডনি রোগ হয়ে থাকে। কিডনি রোগ কেন হয় তার কিছু কারণ নিচে উল্লেখ করে দিয়েছি। তো চলুন, জেনে নেয়া যাক।

  • উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ধমনীগুলির ক্ষতি করে কিডনির ক্ষতি করতে পারে। অতিরিক্ত রক্তচাপ থাকার কারণেও অনেক সময় কিডনি রোগ হয়ে থাকে। যাদের রক্তচাপ বেশি, তারাও এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকায় আছেন।
  • ডায়াবেটিস: ডায়াবেটিস কিডনির ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে যদি রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকে। এমতাবস্থায় ডায়াবেটিস কিডনি অব্দি চলে গিয়ে কিডনি রোগ বাধিয়ে ফেলতে পারে। যার কারণে কিডনি ড্যামেজ অব্দি হওয়ার শঙ্কা থাকে।
  • কিডনিতে সংক্রমণ: কিডনিতে সংক্রমণ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনিতে অনেক সময় রোগ সংক্রামণ করতে পারে। যার কারণে কিডনিতে রোগ হতে পারে।
  • কিডনিতে পাথর: কিডনিতে পাথর কিডনির ক্ষতি করতে পারে। অনেক সময় কিডনিতে পাথর জমে। এই পাথর হওয়ার কারণে কোমড় ব্যাথা সহ আরও অনেক কিডনি রোগ দেখা যায়। কিডনিতে যদি পাথর জমে, তবে সেটিকে একটি কিডনি রোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এটিও কিডনি রোগের একটি কারণ।
  • কিছু ওষুধ: কিছু ওষুধ, যেমন অ্যান্টিবায়োটিক এবং ব্যথানাশক, কিডনির ক্ষতি করতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এসব ঔষধ সেবন করলে তা আমাদের কিডনির বিভিন্ন রোগ বাধিয়ে ফেলতে পারে।
  • জন্মগত সমস্যা: অনেকেরই জন্মগতভাবে কিডনির সমস্যা থেকে থাকে যা পরবর্তীতে কিডনি রোগে পরিনত হয়। এটিও কিডনি রোগের একটি কারণ হতে পারে।

আরও পড়ুন – কিডনি ভালো আছে কিনা বোঝার উপায়গুলো কী কী

  • অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: কিছু অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা, যেমন লুপাস এবং অ্যামিলোয়েডোসিস, কিডনির ক্ষতি করে থাকে। সঠিক নিয়মে জীবন পরিচালনা না করলে কিডনির রোগ হয়ে থাকে।
  • ধূমপান এবং মদ্যপান: যারা অতিরিক্ত ধূমপান এবং মদ্যপান করেন তাদের ক্ষেত্রে কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা অনেক বেশি। বিশেষ করে মদ কিডনির অনেক ক্ষতি করে কিডনি রোগ বাধিয়ে ফেলে।

এসব কারণে মূলত কিডনি রোগ হয়ে থাকে। কিডনি রোগ হলে কিডনি রোগের ঔষধের নাম জানা আবশ্যক। তো চলুন, কিডনি রোগের ঔষধের নাম জেনে নেয়া যাক।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস অ্যাকাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে কিডনি রোগের ঔষধের নাম নিয়ে আলোচনা করেছি। কিডনি রোগ হলে অবশ্যই ঔষধ সেবন করতে হবে। কিডনি রোগের ঔষধের নামগুলো দেখে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঔষধ সেবন করবেন। আরও এমন স্বাস্থ্য বিষয়ক কন্টেন্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইটে চোখ রাখুন।

Leave a Comment