কালো জিরার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

কালো জিরার উপকারিতা এবং অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত নিয়ে আজকের এই ব্লগ পোস্ট। কালো জিরার ঔষধি গুণ সম্পর্কে অনেকেই জানেন না। খেজুর, রসুন এবং মধুর মতো কালো জিরা খেলে আমাদের দেহের অনেক প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি মিটে যায় এবং দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, শরীরের শক্তি বৃদ্ধি করতে কালো জিরার জুড়ি মেলা ভার।

আপনি যদি স্বাস্থ্য সর্বদা ফিট রাখতে চান, তবে অবশ্যই প্রতিনিয়ত কালো জিরা খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং কালো জিরা খেতেন এবং আমাদেরকে খেতে বলে গেছেন। তো চলুন, কালো জিরার উপকারিতা এবং কালো জিরার অপকারিতা সমন্ধে জেনে নেয়া যাক।

কালো জিরার উপকারিতা

কালো জিরার উপকারিতা
কালো জিরার উপকারিতা

কালো কেওড়া, রোমান করিয়েন্ডার বা রোমান ধনে, নিজেলা, ফিনেল ফ্লাওয়ার, হাব্বাটুসউডা ও কালঞ্জি ইত্যাদি নামেও আমাদের চিরপরিচিত কালো জিরা সমাদৃত হয়ে থাকে পুরো পৃথিবী ব্যাপী। কালো রঙের এই বিজের যে পরিমাণ উপকারিতা আছে, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নাম nigella sativa । শরীরে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন, শরীরে নতুন কোষ গঠন কিংবা শরীরে নতুন কলা গঠন করতে কালো জিরার ভুমিকা অনবদ্য।

কালো জিরার শুধু স্বাস্থ্য উপকারিতা নেই, আরও আছে চুলের যত্নে এবং ত্বকের যত্নে বহুল ব্যবহৃত তকমা। অর্থাৎ, কালো জিরা ব্যবহার করে ত্বকের যত্ন এবং চুলের যত্ন উভয় করা সম্ভব। তো চলুন, কালো জিরার উপকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়ার উপকারিতা

ডায়াবেটিকদের রোগ উপশমে বেশ কাজে লাগে কালিজিরা। এক চিমটি পরিমাণ কালিজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া এক কাপ চা-চামচকালোজিরার তেল, এক কাপ রং চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত সেব্য। যা ডায়বেটিকস নিয়ন্ত্রণে একশত ভাগ ফলপ্রসূ।

আরও পড়ুন – মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত

কালোজিরা নারী- পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কালোজিরা খাবারে সাথে খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রচলিত আছে যে, কালিজিরা যৌন ক্ষমতা বাড়ায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। একচা-চামচ মাখন, এক চা-চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩বার৪/৫ সপ্তাহ সেব্য। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।

ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের এসেনশিয়াল ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে।

সকালে খালি পেটে কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যেরতাপে কমপক্ষে আধাঘন্টা অবস্থান করতে হবে এবং এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণমধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন সেব্য যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণ রাখে। এছাড়া কালোজিরা বা কালোজিরা তেল বহুমুত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে ও উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করে।

সকালে খালি পেটে মধু ও কালোজিরা খাওয়ার উপকারিতা

মধুসহ প্রতিদিন সকালে কালোজিরা সেবনে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

টানা ৭ দিন কালোজিরা খেলে কি হয়

কালো জিরা হচ্ছে একটি মহৌষধ। কালো জিরা একটানা ৭ দিন খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং ইম্যুনিউ সিস্টেম অনেক স্ট্রং হবে। ফলে, যেকোনো রোগের সাথে আপনার শরীর যুদ্ধ করার জন্য সোডা প্রস্তুত থাকবে। তাই, কালো জিরা প্রতিনিয়ত খাওয়ার চেষ্টা করুন। নিম্নে কালো জিরার উপকারিতা সমূহ উল্লেখ করে দিলাম।

আরও পড়তে পারেন – রসুন খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত

যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কালোজিরা কোন না কোন ভাবে সাথে খাবেন। গরমখাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয়পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নেন। সারা দেহে রসুন ও কালোজিরা তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভালো মনে করলে পুরাতন রোগীদের ক্ষেত্রে একাজটি ২/৩ দিন অন্তরও করা যায়।

কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সতেজ থাকে। এতে করে যে কোন জীবানুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি করে। ১ চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও ১চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

কালো জিরা খাবার নিয়ম

যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ নেই, তাদের মহৌষধ কালিজিরা। মায়েরা প্রতি রাতে শোয়ার আগে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালিজিরা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন।এছাড়াএকচা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেব্য। যা শতভাগ কার্যকরী।

কালো জিরা শুধু খেতে পারেন কিংবা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন। এছাড়াও, আপনি চাইলে কালো জিরা ভর্তা করে ভাতের সাথে খেতে পারেন। কালো জিরা যেভাবেই খান না কেন, এটি আপনার শরীরের ব্যাপক উন্নতি সাধন করতে সক্ষম। নিম্নোক্ত উপায়ে কালো জিরা খেতে পারেন।

  • কালোজিরা তরকারির মশলা হিসেবে খেতে পারেন।
  • কালোজিরার তেল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।
  • কাচা কালোজিরা চিবিয়ে খাওয়া যায়।
  • রুটি বানানোর সময় কাঁচা রুটির ওপর কালোজিরা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
  • চাটনি রান্না করার সময় কালোজিরা ব্যবহার করতে পারেন।
  • বিস্কুট, কেক, মিষ্টির মতো একাধিক খাবারে কালোজিরা ব্যবহার করা যায়।

কালো জিরাতে রয়েছে নিম্নোক্ত উপাদানগুলো –

আমিষ২১ শতাংশ
শর্করা৩৮ শতাংশ
ভেষজ তেল ও চর্বি৩৫ শতাংশ
প্রোটিন২০৮ মাইক্রোগ্রাম
ক্যালসিয়াম১.৮৫ মাইক্রোগ্রাম
আয়রন১০৫ মাইক্রোগ্রাম
ফসফরাস৫.২৬ মিলিগ্রাম
কপার১৮ মাইক্রোগ্রাম
জিংক৬০ মাইক্রোগ্রাম
নিয়াসিন৫৭ মাইক্রোগ্রাম
ভিটামিন বি১১৫ মাইক্রোগ্রাম
ফোলাসিন৬১০ আইউ

কালো জিরার উপকারিতা সম্পর্কে হাদিস রয়েছে। আপনি যদি হাদিস পড়েন, তবে কালো জিরার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে পারবেন। কালো জিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মহৌষধ।

আরও পড়তে পারেন – আজওয়া খেজুরের উপকারিতা সমূহ কী কী জেনে নিন

আবদুল্লাহ ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … খালিদ ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (যুদ্ধের উদ্দেশ্যে) বের হলাম। আমাদের সংগে ছিলেন গালিব ইবনু আবযার। তিনি পথে অসুস্থ হয়ে পড়লেন। এরপর আমরা মদিনায় আসলাম তখনও তিনি অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখাশোনা করতে আসেন ইবনু আবূ আতীক। তিনি আমাদের বললেনঃ তোমরা এই কালো জিরা সংগে রেখো। এ থেকে পাঁচটি কিংবা সাতটি দানা নিয়ে পিষে খাবে, তারপর তন্মধ্যে যায়তুনের কয়েক ফোটা তৈল ঢেলে দিয়ে তার নাকের এ দিক-ওদিকের ছিদ্র পথে ফোটা ফোটা করে ঢ়ুকিয়ে দেবে। কেননা আয়িশা (রাঃ) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেনঃ এই কালো জিরা ’সাম’ ব্যতিত সকল রোগের ঔষধ। আমি বললামঃ সাম- কি? তিনি বললেনঃ সাম- অর্থ মৃত্যু।

কালো জিরার অপকারিতা

কালো জিরার অপকারিতা বলতে, আপনি যদি কালো জিরা অতিরিক্ত পরিমাণ খান, তবে এই অপকারিতাগুলো দেখা যাবে। এছাড়া, কালো জিরার অপকারিতা দেখতে পাবেন না। কালো জিরা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে রক্ত জমাট বাধা, অ্যালার্জি সহ আরও কিছু রোগ দেখা দিতে পারে। পরিমাণমতো প্রতিদিন কালো জিরা খেলে এটি আমাদের দেহের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস একাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে কালো জিরার উপকারিতা ও কালো জিরার অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে এতক্ষণে নিশ্চয়ই জেনে গেছেন যে, কালো জিরা আমাদের দেহের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। কালো জিরা প্রতিনিয়ত খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে শরীরের উন্নতি হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment