কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সমূহ জেনে নিন

কাঁচা হলুদের উপকারিতা আছে নাকী? অনেকেই এই প্রশ্ন করতে পারেন। আমরা তো হলুদ শুধু তরকারি রান্না করার সময় ব্যবহার করে থাকি। তরকারিতে রং নিয়ে আসার জন্য হলুদ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, আপনি জেনে অবাক হবেন যে, হলুদ শুধু তরকারিতে রং আনার জন্য এবং বিয়েতে গায়ে হলুদে ব্যবহার করা হয় না। হলুদের অনেক উপকারিতা রয়েছে। যা আমাদের দেহের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের এই ব্লগ পোস্টে আপনাদের সাথে কাঁচা হলুদের উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করবো। কাঁচা হলুদের উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা আছে। তো চলুন, কী কী সেই উপকারিতা এবং অপকারিতা জেনে নেয়া যাক।

কাঁচা হলুদের উপকারিতা
কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতা

কাঁচা হলুদের অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে।স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে জেনে আবার গুড়ো হলুদ খাওয়া যাবে না। কারণ, গুড়ো হলুদে অনেক ভ্যাজাল দ্রব্য মিশানো হয় যা আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই, হলুদের সকল গুনাগুন পেতে হলে অবশ্যই কাঁচা হলুদ খেতে হবে। আমরা হলুদ শুধু তরকারিতে ব্যবহার করে খেয়ে থাকি। কিন্তু, হলুদের কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে, যা শুধুমাত্র কাঁচা হলুদ খেলে পাওয়া সম্ভব। তো চলুন, কাঁচা হলুদের উপকারিতা সমূহ জেনে নেয়া যাক।

হেপাটাইটিসের ফলে আমাদের যকৃতের প্রদাহ হয়। কাঁচা হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ হেপাটাইটিসের সময় যকৃতের প্রদাহ থেকে আমাদের বাঁচায়। এছাড়া হেপাটাইটিস ভাইরাসের থেকেও হলুদ আমাদের রক্ষা করে। কাঁচা হলুদ নিয়ম করে খেলে তা যকৃতকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে ও যকৃতের স্বাভাবিক কাজকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উঁচু তাপমাত্রায় রান্না করার ফলে রান্নার তেলের যে অক্সিডেশন বা জারণ প্রক্রিয়া শুরু হয় তার ফলে অনেক ক্ষতিকারক পদার্থ উৎপন্ন হয় যা ক্যান্সার ও ফাইব্রোসিস ডেকে আনতে পারে। তাই কাঁচা হলুদের পেস্ট করে বা হলুদ গুঁড়ো দিয়ে রান্নার জিনিস মেখে রাখার পর তারপর তা দিয়ে রান্না করলে তা রান্নার তেলের অক্সিডেশন কমায় ও আমাদের ক্যান্সারের সম্ভাবনাকেও কমায়।

আরও পড়ুন – নিম পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রতিদিন ২৫০ মিলিগ্রাম কাঁচা হলুদ সকালে উঠে খালি পেটে খেলে সবথেকে বেশি উপকার পাওয়া যায়। আপনি চাইলে দুধের সঙ্গে হলদু মিশিয়ে খেতে পারেন। তবে, সেক্ষেত্রে আপনাকে গুড়ো হলুদ খেতে হবে। গুড়ো হলুদ খাওয়ার সময় অবশ্যই হলুদে ভেজাল কোনো দ্রব্য আছে কি না চেক করে নিতে হবে। সকালে কাঁচা হলুদ খেলে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টা কোনো কিছু না খাওয়ার চেষ্টা করবেন। তাহলে, হলুদ অনেক দ্রুত কাজ করবে।

কাঁচা হলুদ দাঁতের ওপরে থাকা এনামেলের আস্তরণকে রক্ষা করে ও দাঁতের ক্ষয় থেকে দাঁতকে বাঁচায়। হলুদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণাবলী থাকায় তা জীবাণুকে থেকেও দাঁতকে রক্ষা করে। তাই অনেকসময় বিভিন্ন টুথপেস্টে হলুদকে আবশ্যকীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কমাতে ও মুখের ভেতরে ক্ষত সারাতে কাঁচা হলুদ নিয়ম করে খাওয়া যেতে পারে।

গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য হলুদ

গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কাঁচা হলুদ খাওয়ার বিকল্প নেই। প্রাকৃতিক এই খাবারটি খেলে আমাদের পেটের গ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে কাঁচা হলুদে রয়েছে গ্যাস-অম্বল থেকে মুক্তি পাওয়ার উপাদান। তাই, আপনার যদি গ্যাসের সমস্যা থাকে, তবে গ্যাসের ঔষধ সেবন করার পূর্বে কাঁচা হলুদ খেয়ে দেখুন।

আরও পড়ুন – কালো জিরার উপকারিতা ও অপকারিতা জেনে নিন

প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে কাঁচা হলুদের যেসব উপকারিতা রয়েছে এবং তা আমাদের শরীরে যে প্রভাব ফেলে তা আসলেই অভাবনীয়। পেটের সমস্যা থাকলে কিংবা গ্যাসের সমস্যা থাকলে প্রতিদিন সকালে কাঁচা হলুদ খাওয়ার চেষ্টা করুন। কিছুদিনের মাঝেই পেট ব্যাথা বা পেটের গ্যাসের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেয়ে যাবেন।

মস্তিস্কের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাঁচা হলুদ

প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খেলে আমাদের মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ব্রেইনকে পূর্বের তুলনায় আরও সজাগ করে তোলার জন্য এবং মস্তিস্কের কোনো রোগ থাকলে তা প্রতিকার করার জন্য কাঁচা হলুদ অনেক উপকারী। মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই প্রতিদিন কাঁচা হলুদ খেতে পারেন। কিংবা, ভেজাল মুক্ত গুড়ো হলুদ দুধে মিশিয়ে খেতে পারেন।

কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন মস্তিষ্কের কোষগুলিকে রক্ষা করতে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, কাঁচা হলুদ অ্যালঝাইমারস এবং ডিমেনশিয়া প্রতিরোধে অনেক কার্যকর। কোনো বিষয় অনেকদিন যাবত মনে রাখতে পারেন না, স্মৃতিশক্তি অনেক দ্রুত লোপ পায় এবং এমন আরও মস্তিস্কের সমস্যা থাকলে কাঁচা হলুদ খেতে পারেন। স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি এবং মস্তিস্কের কাজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে কয়েকদিনেই।

হাড় জোড়া লাগাতে এবং ভাঙ্গা মচকায় হলুদ

প্রাচীনকাল থেকে হাড় ভেঙ্গে গেলে, মচকে গেলে ঔষধ তৈরিতে হলুদ ব্যবহার হয়ে আসছে। কাঁচা হলুদ বেঁটে তা ভাঙ্গা-মচকা জায়গায় লাগালে ব্যাথার উপশম হয়। হলুদের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ ব্যথা, প্রদাহকে কমায় এবং হাড়ের টিস্যুগুলিকে রক্ষা করে ও ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগতে সাহায্য করে।

খাদ্য সংক্রমণ থেকে বাঁচায় হলুদ

হলুদে থাকা কারকিউমিনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট উপাদান থাকায় তা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে খাদ্যনালীকে বাঁচায়। আমরা রোজ যে খাবার খাই, তার মধ্যে অনেকসময়ই নানা জীবাণু থেকে যেতে পারে। খাবারে কাঁচা হলুদ বা হলুদ গুঁড়া ব্যবহার করলে তা খাদ্যনালীকে ক্ষতিকারক জীবাণুর সংক্রমণ থেকে বাঁচায় ও খাদ্যনালীর প্রদাহের সম্ভাবনা কমায়। একারনে এবং খাবারে রং নিয়ে আসার জন্য হলুদ ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

রুপচর্চায় কাঁচা হলুদের উপকারিতা

শুধু খাদ্যগুণ না, কাঁচা হলুদে রয়েছে ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা এবং ত্বককে সর্বদা উজ্জ্বল রাখার ক্ষমতা। তাই তো, বিয়ের সময় আলাদা করে গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। গায়ে হলুদের পর বর-কনের চেহারায় অনেক উজ্জ্বলতা দেখা যায় এবং তাদের চেহারায় জৌলুশ ফিরে আসে।

আরও পড়ুন – মধু খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত

আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে, ত্বককে বিভিন্ন রোগ-জীবাণু থেকে রক্ষা করতে কাঁচা হলুদ বেঁটে মুখে লাগাবেন। এতে করে, ত্বকে থাকা সকল ক্ষতিকর জীবাণু দূর হবে এবং ত্বকের ডেড সেলসগুলো আবারও সজাগ হয়ে উঠবে। ফলস্বরূপ, আপনার ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরে আসবে।

কাঁচা হলুদের অপকারিতা

কাঁচা হলুদের উপকারিতার পাশাপাশি কিছু অপকারিতা রয়েছে। আপনি যদি কাঁচা হলুদ খেতে চান, তবে অবশ্যই কাঁচা হলুদের অপকারিতাসমূহ জেনে রাখতে হবে। অতিরিক্ত পরিমাণ হলুদ খেলে পেটে পাথর জমতে পারে। এছাড়াও, বেশি পরিমাণে কাঁচা হলুদ খেলে তা আমাদের পেটে গিয়ে বিক্রিয়া করে পেট খারাপ করতে পারে। ফলে, অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, হলুদ খাওয়ার পর বমি হয়। কাঁচা হলুদের এই অপকারিতাগুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

আমাদের শেষ কথা

ফেরদাউস অ্যাকাডেমির আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে কাঁচা হলুদের উপকারিতা এবং কাঁচা হলুদের অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেছি। পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ে থাকলে, কাঁচা হলুদের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন বলে ধারণা করছি। আরও এমন হেলথ টিপস পেতে প্রতিনিয়ত আমাদের ব্লগ ভিজিট করতে পারেন।

Leave a Comment